• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
BK

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে সাড়ে ৪ গুণ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে সাড়ে ৪ গুণ
প্রতীকী ছবি

বর্তমান সরকারের টানা ১০ বছরে উচ্চমাত্রা ছুঁয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ। ক্ষতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দুই মেয়াদের গত ১০ বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে, আমদানির বড় ব্যয় পরিশোধ করেও রিজার্ভ বর্তমানে ৩২ বিলিয়ন ডলারের ঘরে রয়েছে। তবে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি এ অর্জনে কালিমা ফেলেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কর্মরত ১ কোটি ১৮ লাখ প্রবাসীর আয়ে ভর করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে রিজার্ভ বর্তমানে রয়েছে, তা দেশের শক্ত অর্থনীতির বহিঃপ্রকাশ মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমদানির উচ্চ ব্যয়ে। প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার মজুত কৌশলে বিদেশে পাচার হচ্ছে বলে তাদের শঙ্কা। অবশ্য অর্থনীতিবিদদের এ উদ্বেগের সঙ্গে খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরও একমত পোষণ করেন।    

গত রোববার প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, গত দশ বছরে দেশে আর্থ-সামাজিক ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের সমর্থন দেবে। সব কিছু ঠিক থাকলে আসছে ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা রয়েছে। 

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলার, যা বর্তমানে ৩২ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে।

সাধারণত একটি দেশে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে এমন পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থাকতে হয়। তবে পৃথবীর উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো বড় আকারের রিজার্ভ রক্ষা করে চলে। আর বাংলাদেশের বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে ৯ মাসের আমদানি ব্যয়ের দায় পরিশোধ করা সম্ভব। ২০১৭ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। তার পর আমদানি ব্যয় পরিশোধ করতে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের বড় দেনা পরিশোধ করে সেটি কিছুটা চাপে পড়েছে। প্রতি দুই মাস পর পর আকুর দেনা পরিশোধ করতে হয়।

২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর অর্থনীতির অন্যতম এই আর্থিক সূচক ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে ২০০১ সালে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা দেখায় তখনকার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ নেমে আসে ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে। ভাবমূর্তি সঙ্কটের প্রশ্নে আকুর দেনা পরিশোধ আটকে রাখতে হয়। এরপর বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন রিজার্ভ ছিল এক বিলিয়ন ডলারের ঘরে। তবে এরপর রিজার্ভ কখনো এত দুর্বল পরিস্থিতিতে পড়েনি।

উচ্চ রিজার্ভের ওপর ভর করে সরকার বাংলাদেশ সার্বভৌম সম্পদ তহবিল নামে একটি বড় তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়। ১০ বিলিয়ন ডলারের ওই তহবিলে প্রাথমিকভাবে রিজার্ভ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার জোগানের কথা। তবে সেটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

তবে উচ্চমাত্রার রিজার্ভ থাকলেও রিজার্ভ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ও সমালোচনায় পড়তে হয় সরকারকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হিসাব থেকে সাইবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি হয় ১০১ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১৪ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন ফিলিপাইন আদালতের আদেশের মাধ্যমে ফেরত আনা গেছে। এ ছাড়া ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংক করপোরেশন-আরসিবিসি বাংলাদেশ ব্যাংককে দশমিক শূন্য ৭ মিলিয়ন ডলার ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই ফেরত দিয়েছে। আর তাৎক্ষণিকভাবে শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরত আসে আরো ২০ মিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদ জায়েদ বখত গতকাল সোমবার এ প্রতিবেদককে বলেন, রিজার্ভ রেকর্ড ছুঁয়েছে সেটি ইতিবাচক। তবে আমরা শঙ্কায় রয়েছি যে হারে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। প্রবাসীরা কষ্ট করে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান। আর আমরা ব্যবসার নামে সেটি বিদেশে নিয়ে যাচ্ছি কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ও মজবুত পরিস্থিতি ধরে রাখতে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত সতর্ক। একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে আমরা চুরির অর্থ উদ্ধারে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছি।