• বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ৯ মহররম ১৪৪০
BK

ইসলামের প্রধান ইবাদত হচ্ছে নামাজ

ইসলামের প্রধান ইবাদত হচ্ছে নামাজ
সংগৃহীত ছবি

নামাজ হচ্ছে ইসলাম ধর্মের প্রধানতম ইবাদত। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য ফরজ বা আবশ্যকীয়। নামাজ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। একজন মানুষ কালেমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নামাজই হচ্ছে তার ওপর সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

নামাজ সম্পর্কে নবী করিম (সা.) একটি হাদিসে ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করে দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে সময়মতো নামাজ আদায় করবে এবং রুকু-সিজদায় খেয়াল রেখে খুশু খুজুর সঙ্গে নামাজ আদায় করবে, অবশ্যই আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন।’ (আবু দাউদ)

ইসলামের অনেক বিধানই অসুস্থতার কারণে ছাড়া যায়; শুধু নামাজই এর ব্যতিক্রম। একজন ব্যক্তির যতক্ষণ হুঁশ থাকে, ততক্ষণ তাকে নামাজ আদায় করতেই হবে, তা সে যতই অসুস্থ থাকুক না কেন। দাঁড়িয়ে না পারলে বসে, বসে না পারলে শুয়ে, শুয়ে না পারলে ইশারা-ইঙ্গিতে হলেও নামাজ পড়তেই হবে।

এমনকি অজুর পানি ব্যবহারে অসমর্থ হলে মাটি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করে হলেও নামাজ পড়তে হবে। যুদ্ধের সময়ও নামাজ কাজা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। অথচ সে সময় রোজা ভঙ্গ করার সুযোগ নয় শুধু, এর ওপর তাগিদও দেওয়া হয়েছে। আর কোনো আমলকেই মুমিন ও কাফেরের মধ্যকার পার্থক্য গণ্য করা হয়নি নামাজ ছাড়া। হাদিসে বলা হয়েছে, বান্দা এবং কুফুরির মধ্যকার পার্থক্য হলো নামাজ (মুসলিম)।

ইসলামের অন্য কোনো আমলের বিষয়ে বলা হয়নি যে, তা আদায় না করলে কাফের হয়ে যাবে। একমাত্র নামাজের বিষয়েই বলা হয়েছে, যে ইচ্ছাকৃত ফরজ নামাজ ত্যাগ করল, সে কুফুরি করল। একজন মানুষকে মুসলিম হিসেবে গণ্য করার জন্য নামাজকেই চিহ্ন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যে আমাদের নামাজের মতো নামাজ আদায় করবে, আমাদের কেবলাকে কেবলাহ মানবে এবং আমাদের জবাই করা পশুর গোশত আহার করবে, সে-ই মুসলিম; তার জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রসুলের জিম্মা রয়েছে, তোমরা আল্লাহর জিম্মায় হস্তক্ষেপ করবে না। অর্থাৎ যখন দেখবে একজন মানুষ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছে, তখন বুঝবে সে মুসলিম, তার সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া যাবে না, তার জানাজায় শরিক হবে; তার মনে ইমান আছে কি নেই, সেটা দেখার মালিক আল্লাহ, তার নামাজ দেখেই তাকে মুসলিম গণ্য করা হবে।

হাদিসে কুদসির একটি হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘আল্লাহপাক বলেছেন : আমি আপনার উম্মতের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছি এবং প্রতিজ্ঞা করছি, যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো গুরুত্বসহকারে আদায় করবে, তাকে নিজ দায়িত্বে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। যে ব্যক্তি গুরুত্বসহকারে নামাজ আদায় করবে না, তার ব্যাপারে আমার কোনো দায়িত্ব নেই।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজা)

লেখক : সাংবাদিক