• মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫, ২৩ সফর ১৪৩৯
BK

জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ড. কামালের

জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ড. কামালের
সংরক্ষিত ছবি

নির্ভেজাল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। গতকাল বুধবার বিকালে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত এক আলোচনা সভায় গণফোরাম সভাপতি এ মন্তব্য করেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, আমাদের ঐক্য হবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, নির্ভেজাল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। বাঙালি জাতির একটা বৈশিষ্ট্য হলো তারা কখনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত করে না। আজকে আমি আহ্বান জানাব, যারা অসাম্প্রদায়িক ও গণতন্ত্র বিশ্বাস করেন আসুন মানুষের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। এটা বহুবার প্রমাণিত যে, ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।

যুক্তফ্রন্টের আহ্বায়ক বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, আজকে দেশে শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সেই বাহিনী যাদের কাছে হাতুড়ি আছে, চাপাতি আছে, লাঠি আছে তারা ইচ্ছামতো ঘুরতে পারবে। এটা সরকারি দলের গণতন্ত্র। এটাই চলছে এখন। বিরোধী দলের জন্য গণতন্ত্র নেই। আমরা বিরোধী দলের গণতন্ত্র চাই। এই সরকারকে আমরা বলব, অবিলম্বে বিরোধী দলের গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে হবে এবং সেইভাবে কাজ করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজকে যারা এখানে এসেছেন তাদের কাছে এই জাতির দাবি অনেক বেশি। আপনারা এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সামনে ছিলেন। এই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম আপনারা দিয়েছেন, সেই দেশটি আজ ডুবে যাচ্ছে, নিমজ্জিত হচ্ছে। একে তোলার চেষ্টা করুন। সবাই মিলে আসুন আমরা একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই বাংলাদেশকে তুলে ধরি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। তার কথা শুনে সেই জাতীয় ঐক্য তৈরি করার জন্য আমরা সকলের কাছে যাচ্ছি, বলছি। এখানে ধর্ম-বর্ণ-মত সবকিছুকে দূরে রেখে দেশকে রক্ষা করার জন্য, দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করার জন্য, মানুষের গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।

সংবিধান প্রণেতা কামাল হোসেন দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, এক ব্যক্তির শাসন কিংবা রাজতন্ত্রের প্রশ্নই ওঠে না। প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র হবে, সেই গণতন্ত্র হবে ধর্মনিরপেক্ষ। ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিভেদ করা যাবে না। আমরা বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, বহুদলীয় গণতন্ত্রে জনগণ সকল ক্ষমতা ও দেশের মালিক। জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে আনতে আসুন আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হই। আজকে আমরা যারা এই মঞ্চে উপস্থিত হয়েছি তারা জাতীয় ঐক্য, জনগণের ঐক্য গড়তে চাই যাতে আমরা নির্ভেজাল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারি।

গত তিন দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে সভার সভাপতি নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই সরকার জুলুমবাজ-চোর। শুরু করেছিল শেয়ারবাজার দিয়ে। তারপর ব্যাংক, ব্যবসাপাতি, বন-জঙ্গল, জায়গা-জমি, কয়লা-পানি-পাথর সবকিছু খেয়েছে। কোনো কিছু বাকি নেই। তাই তো আমাদের প্রধানমন্ত্রী আফসোস করেন আওয়ামী লীগের পক্ষে কিছু লিখতে বললে মাহমুদুর রহমান মান্নার সে কী কান্না? আমি কাঁদি, প্রধানমন্ত্রীকে দেখে কাঁদি, বেশি কাঁদি আওয়ামী লীগকে দেখে। এই আওয়ামী লীগকে আমি যা দেখেছি ওই আওয়ামী লীগ নেই।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- কল্যাণ পার্টির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল প্রমুখ।