• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১০ মহররম ১৪৪০
BK

বড় ইনিংসের স্বপ্নে লিটন

বড় ইনিংসের স্বপ্নে লিটন
ছবি : বাংলাদেশের খবর

ব্যাট হাতে ওপেন করতেই ভালোবাসেন। কিন্তু যার সঙ্গে বেশিবার ওপেনিংয়ে নেমেছেন, সেই তামিম ইকবাল রান পান প্রতিনিয়তই। তবে লিটন কুমার দাস যেন হতাশার প্রতিচ্ছবি। ১২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন এ পর্যন্ত। অথচ দেখা পেলেনি একটি ফিফটিরও। সর্বোচ্চ রান ৩৬, তাও বছর তিনেক আগে ভারতের বিরুদ্ধে।

টি-টোয়েন্টিতে খেলেছেন ১৫টি ম্যাচ, সবেধন নীলমণি একটি ফিফটি। টেস্টে ১০ ম্যাচে তিন ফিফটি। তিন ফরম্যাট মিলে সেঞ্চুরির বালাই নেই। সব মিলিয়ে চারটি ফিফটি। ওয়ানডের বেলায় তা শূন্য। সেই লিটন কুমার দাস আসন্ন এশিয়া কাপে তামিমের সঙ্গে ওপেন করবেন, তা প্রায় নিশ্চিত। দলে থিতু হতে না পারা লিটনের চোখে তাই বড় ইনিংসের স্বপ্ন। যে করেই হোক রান পেতে হবে, এই তার পণ।

এশিয়া কাপের সুযোগটা অনেক বড়। কারণ, এখানে ভালো করলেই বিশ্বকাপ পর্যন্ত জায়গাটা পাকা করে নিতে পারবেন। তা মানছেন লিটনও, ‘এটা ভালো একটা সুযোগ। আমি অনেক দিন ওয়ানডে দলের বাইরে। অবশ্যই এটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।’ রান করা প্রসঙ্গে লিটন বলেন, ‘এশিয়া কাপে ভালো বলতে তো পারফর্ম করা ছাড়া অন্য কিছু নেই। আপনারাও রান চান, আমরাও রান চাই। ভালো করতে চাই।’ এশিয়া কাপ চ্যালেঞ্জের। তার মতে, ‘চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই থাকবে। একটা বড় ইভেন্ট। ওপেনিং করলে তো এটা চ্যালেঞ্জই। চেষ্টা করব নিজের শতভাগ দেওয়ার। সে অনুযায়ী অনুশীলন করছি।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো খেলতে খেলতে হঠাৎ আউট হওয়ার নজির লিটনের বেশি। তবে এ প্রসঙ্গে মজা করেই লিটন বললেন, ‘যারা বড় প্লেয়ার তারা স্টার্ট পেলে ইনিংস বড় করে। এখনো বড়দের কাতারে যেতে পারিনি, এখনো বড় ইনিংস তাই হচ্ছে না। আমি চেষ্টা করছি ভালো কিছু করার, যেন বড় কিছু করি।’ আপাতত নিজের শটগুলো নিখুঁত করারই চেষ্টা করছেন লিটন, ‘আসলে আউট হতে একটা বলই লাগে। ওইটা নিয়েই কাজ করছি যে, কোন শটগুলা আসলে বেশি নিখুঁত করতে হবে। উইকেটে থাকলেই তো হবে না, রানও করতে হবে। বল সিলেকশনটা ভালো করার ট্রাই করছি আরো।’

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ পড়েছে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের গ্রুপে। আফগান লেগস্পিনার রশিদ খান মায়াবী ঘাতক। দেরাদুনে তা টের পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে লিটন দাস ততটা আতঙ্কিত নন, ‘সে (রশিদ) অনেক ভালো বোলিং করে। বিশ্বে এখন সে দাপট দেখাচ্ছে। তবে আপনাকে এটাও বুঝতে হবে যে, এখানে সংস্করণ ভিন্ন। টি-টোয়েন্টিতে দ্রুত রান করার তাগিদ থাকে। ওয়ানডে ক্রিকেটে সময় পাওয়া যাবে তাকে খেলতে।’

আসন্ন এই টুর্নামেন্টে পাকিস্তান স্কোয়াডে রয়েছেন ছয় পেসার। বাকি দলগুলোতেও পেস আক্রমণ বেশ শক্তিশালী। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের তাই মোকাবেলা করতে হবে পেসারদেরও। এ প্রসঙ্গে লিটন বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো এতটা কুইক বোলার নেই (এশিয়া কাপে)। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে যেমন দ্রুতগতির বল খেলে এসেছি। সেটির তুলনায় এই টুর্নামেন্টের পেস বোলাররা তেমন কিছুই না। হয়তো ভালো খেলতে পারিনি দক্ষিণ আফ্রিকায়, তবে খেলার অভিজ্ঞতা তো হয়েছে।’