• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৪ মহররম ১৪৪০
BK

চিকিৎসা ব্যয়ের ভয়ে পালিয়ে যাওয়া শিশুটির মা ফিরেছেন

চিকিৎসা ব্যয়ের ভয়ে পালিয়ে যাওয়া শিশুটির মা ফিরেছেন
ছবি : বাংলাদেশের খবর

চিকিৎসা ব্যয় মেটানোর সামর্থ্য না থাকায় নবজাতক সন্তানকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যাওয়া সেই দরিদ্র মা ফিরে এসেছেন।

গতকাল বুধবার দুপুরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ওই নারী ফিরে এলে শিশুটির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় বহনের আশ্বাস দেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা সিভিল সার্জন।

নবজাতকের মা রোকেয়া বেগম জানান, দারিদ্র্যের কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না বলে সন্তানকে রেখে স্বামীসহ পালিয়ে যান। লুকিয়ে চলে যাওয়ার সময় তারা অনেক কেঁদেছেন। বাড়ি ফিরে তার স্বামী নিরুদ্দেশ হয়ে গেছেন। কান্নাভেজা কণ্ঠে রোকেয়া বলেন, আল্লাহ আমার সন্তানকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং সবার সহযোগিতায় আমি আমার সন্তানকে ফিরে পেয়েছি এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।

রোকেয়া জানান, দিনমজুর শাহ আলমের সঙ্গে ২০০৭ সালে তার বিয়ে হয়। তারপর দুটি সন্তানের জন্ম হলেও বাঁচেনি। প্রথম সন্তান জন্মের তিন মাস পরেই মারা যায়, দ্বিতীয় সন্তানের মৃত্যু হয় জন্মের দশ দিন পর। এবার তৃতীয় সন্তান সাত মাসে জন্ম নেয়।

সম্প্রতি কুমিল্লার ঝাউতলার ‘মা ও শিশু হাসপাতালে’ শাহ আলম-রোকেয়া দম্পতির অপরিপক্ক ছেলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। ছয় দিনে প্রায় এক লাখ টাকার চিকিৎসা বিল হয়েছে জেনে দরিদ্র এই দম্পতি ভয়ে সন্তানকে রেখেই পালিয়ে যান। পরে এ খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে পালিয়ে যাওয়া মা-বাবার সন্ধানে নামে পুলিশ।

হাসপাতালের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক বদিউল আলম চৌধুরী এবং দায়িত্বরত চিকিৎসক তানজিদা চৌধুরী সম্পা জানান, গত ১৮ আগস্ট হাসপাতালে এসেছিলেন শাহ আলম ও রোকেয়া বেগম দম্পতি। এখানে রোকেয়ার ছেলে সন্তান জন্ম হয়। পরে ২৪ আগস্ট বিকাল বেলা থেকে এই দুজনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন থেকে হাসপাতালের পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে হাসপাতালের পক্ষ থেকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ জানানোর পর বুধবার শিশুটির মা রোকেয়া বেগম সন্তানকে ফিরে পেতে হাসপাতালে আসেন।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, দারিদ্র্যের কারণে একটি শিশু সন্তানকে চিকিৎসার খরচ না চালিয়ে বাবা মা হাসপাতাল থেকে চলে যান। বিষয়টি খুব নাড়া দেয়। আমরা কুমিল্লা পুলিশের কর্মকর্তারা এ শিশুটির চিকিৎসার জন্য একটি ফান্ড গঠন করেছি।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মজিবুর রহমান জানান, এমন অপরিপক্ক বয়সের শিশুর চিকিৎসা খুব ব্যয়বহুল। সেক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকহীন শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে গেছে। আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছে, সর্বনিম্ন ব্যয়ে চিকিৎসা দেবে শিশুটিকে।  সেক্ষেত্রে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকেও সব সহযোগিতা করা হবে।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর জানান, বিষয়টি যখন গণমাধ্যমে জানলাম তখন থেকে জেলা পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলি। তারপর পুলিশ ওই দম্পতির ঠিকানা খুঁজে বের করে। আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যয় বহন করব।