• বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মহররম ১৪৪০
BK

বাস থেকে ফেলে হত্যার দায় স্বীকার

বাস থেকে ফেলে হত্যার দায় স্বীকার
সংরক্ষিত ছবি

চট্টগ্রাম নগরীর সিটি গেট এলাকায় রেজাউল করিম রনিকে বাস থেকে ফেলে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে বাস হেলপার মো. মানিক সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মহানগর হাকিম আল ইমরানের আদালতে এ জবানবন্দি দেয় সে। মানিক সরকার চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানার ফিরোজ শাহ কৈবল্যধাম আবাসিক এলাকার মোস্তাক সরকারের ছেলে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী জানান, বাস থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার ঘটনায় আসামি মানিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ২ সেপ্টেম্বর তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। রিমান্ড শেষে গতকাল তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় সে।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট দুপুরে বাঁশবাড়িয়া এলাকা থেকে অলঙ্কারের উদ্দেশ্যে ৪ নম্বর রুটের বাসে ওঠেন রেজাউল করিম রনি। হেলপার অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করলে বাসের ভেতর রনির সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। বাসটি সিটি গেটের আগে গ্ল্যাক্সো ওষুধ কারখানার সামনে এলে চলন্ত বাস থেকে রনিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় হেলপার। রনি বাসের নিচে পড়ে গেলে চালক রনির ওপর দিয়েই বাস চালিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় বাসের ভেতরের যাত্রীরা বার বার গাড়ি থামাতে বললেও চালক গাড়ি থামায়নি। এরপর সিটি গেটের কাছে এসে বাস থামিয়ে চালক ও সহকারী পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রনিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে এ সময় মৃত ঘোষণা করেন। নির্মমভাবে রনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই এলাকার লোকজন সিটি গেট এলাকা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়।

এ ঘটনায় ২৮ আগস্ট রাতে নগরীর আকবর শাহ থানায় নিহতের মামা আবদুর রহমান বাদী হয়ে বাসচালক দিদারুল আলম ও হেলপার মানিক সরকারকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ১ সেপ্টেম্বর পিবিআই লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার নুরিয়া হাজীর হাট থেকে আত্মগোপনে থাকা আসামি মানিক সরকারকে গ্রেফতার করে। ২ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে এ মামলার অন্যতম আসামি বাসচালক দিদারুল আলমকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।