• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১২ মহররম ১৪৪০
BK

পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমির পথে বাংলাদেশ

পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমির পথে বাংলাদেশ
ছবি -বাংলাদেশের খবর

সাফ ফুটবলে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া ম্যাচে ১-০ গোলের জয় পায় জেমি ডে’র শিষ্যরা। জয়ের নায়ক তপু বর্মণ। প্রথম ম্যাচেও ভুটানের বিরুদ্ধে গোল করেছিলেন এ ডিফেন্ডার। এ জয়ে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল জামাল-সুফিলরা। আগামীকাল গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নেপালের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। এই ম্যাচে ড্র করলেই শেষ চার নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলার দামাল ছেলেদের। ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়।

এদিকে, গতকাল দিনের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ৪-০ গোলে পরাজিত করে শেষ চারের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে নেপাল। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকাল ৪টায় শুরু হওয়া এ ম্যাচে হিমালয়ের দেশটির হয়ে একটি করে গোল করেন অনন্তা তামাং, সুনিল, ভারত খাওয়াজ ও নিরাঞ্জন খাড়কা।

গতকাল খেলা শুরু হওয়ার আগেই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম কানায় কানায় ভরে যায়। ফাঁকা ছিল না ভিআইপি গ্যালারিও। প্রায় হাজার বিশেক সমর্থক চলে আসেন জাতীয় দলের জার্সি, ভুভুজেলা, লাল-সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান বলেই হয়তো লাল সুবজের পতাকায় ছেয়ে গিয়েছিল গোটা স্টেডিয়াম। পুরোটা ম্যাচজুড়েই গলা ফাটিয়ে সমর্থন জানান মামুনুল-জামালদের। সমর্থকদের হতাশ করেননি সোনার ছেলেরা। গাঁটের পয়সা খরচ করে আসা সমর্থকরা বাড়ি ফিরেছেন হাসি মুখেই।

তিন বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকলেও পাকিস্তান নিজেদের ফুটবলের উন্নতিটা বেশ ভালোই করেছে। গ্রুপ পর্বের প্রথম লড়াইয়ে নেপালকে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণও দিয়েছিল। শারীরিকভাবে অনেকটাই এগিয়ে থাকা পাকিস্তানের সঙ্গে তাই ম্যাচের শুরু থেকেই বেশ সাবধানি ছিল স্বাগতিক শিবির। নিজেদের রক্ষণভাগ সামলে রেখে আক্রমণের চেষ্টা করেছিলেন সুফিল-জামালরা। তবে প্রথমার্ধে বলার মতো কোনো আক্রমণই করতে পারেনি জেমি ডে’র শিষ্যরা। উল্টো ম্যাচের ৯ মিনিটে গোল হজম করতে বসেছিল স্বাগতিকরা। সে যাত্রায় দলকে বাঁচিয়ে দেন গোলরক্ষক শহিদুল আলম। মেহমুদ খানের হেড অসাধারণ দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করেন তিনি।

ফিফা র্যাংকিয়ের তলানির দিকে থাকা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ৭ ধাপ। দুই দলের মাঠের লড়াইটা যে কঠিন হবে তা বোঝাই যাচ্ছিল প্রথমার্ধে। পাঁচ বছর আগে ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নেপালের কাঠমান্ডুর হালচুক আর্মড পুলিশ ফোর্স স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ ম্যাচে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল দুই দলের। সেমিতে ওঠার সে লড়াইয়ে বাংলাদেশ হেরেছিল ২-১ গোলে। তবে এবার আর ভুল করেনি বাংলাদেশ। আক্রমণ খুব একটা করতে না পারলেও ম্যাচ শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে পাওয়া সুযোগটি ঠিকই কাজে লাগিয়েছে। বিশ্বনাথের থ্রো বক্সের ভেতরে থাকা তপু বর্মণ দৌড়ে এসে দারুণ এক হেডে নিশানা ভেদ করে পুরো গ্যালারি রাঙিয়ে তোলেন (১-০)। উৎসবে মেতে ওঠেন স্বাগতিক সমর্থকরা। টেন্টে থাকা একাদশের বাইরের ফুটবলাররা দৌড়ে মাঠে প্রবেশ করে গোল উৎসবে যোগ দেন। এমন একটি জয় দেশের ফুটবলের জন্য যে কতটা প্রয়োজন ছিল, সেটা ফুটবলারদের উৎসব দেখেই অনুমান করা গেছে। ম্যাচ শেষে শিষ্যদের পারফরম্যান্সে দারুণ সন্তুষ্ট কোচ জেমি ডে, ‘ওরা অনেক কষ্ট করছে। আমরা এখন নেপালের বিরুদ্ধে জয়ের এ ধারাটা ধরে রাখতে চাই।’