• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
BK

বিএনপির শীর্ষ নেতারা গ্রেফতার আতঙ্কে

বিএনপির শীর্ষ নেতারা গ্রেফতার আতঙ্কে
সংরক্ষিত ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের দায়িত্বশীল নেতারা। তারা বলছেন, কোরবানির ঈদের পর ঢাকাসহ সারা দেশে গ্রেফতার নেতাকর্মীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদেরও ধরা হবে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে। শীর্ষ নেতাদের কানেও এ গুঞ্জন পৌঁছেছে। তাদের অভিযোগ, শীর্ষ কিছু নেতার পেছনে গোয়েন্দাদের ‘অ্যাসাইন’ করা হয়েছে। গোয়েন্দারা নির্দিষ্ট করে দেওয়া নেতাদের ‘ফলো করতেও’ শুরু করেছেন বলে জানান তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, খালেদা জিয়া বন্দি হওয়ার পর জ্যেষ্ঠ নেতারা রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রায়ই বসেন। দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের করণীয় নিয়ে তারা আলোচনা করেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন চলছে, শিগগিরই বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের গ্রেফতার করা হবে। গুলশানে বৈঠক চলাকালে ‘একবারে রেইড করে’ সব নেতাকে ‘তুলে নেওয়া’ হবে।

এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, দলীয় কার্যালয়ে হানা দিয়ে নেতাদের আটকের ইতিহাস ইতোপূর্বে এই সরকার সৃষ্টি করেছে। ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হানা দিয়ে তাকে এবং দলের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দেড় শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার করে। এর প্রতিবাদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট হরতাল পালন করেছিল।

গোয়েন্দাদের ‘তৎপরতা’ সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বাংলাদেশের খবরকে জানান, ইদানীং সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাকেসহ সিনিয়র নেতাদের ফলো করছেন। তারা বাসা থেকে কখন বের হন, কোথায় যান, কার কাছে যান, কখন বাসায় ফিরে আসেন, বাসায় কারা আসেন- এসব খবর সংগ্রহ করছেন।

বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের গ্রেফতারের গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তার যে রাজনৈতিক অবস্থান, তাতে তার পক্ষে পালিয়ে থাকা সম্ভব নয়। গ্রেফতারের জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকেন তিনি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৫ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে। তারপর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয় যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তারেক রহমানকে। তারেক রহমান দায়িত্ব পাওয়ার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয় দল পরিচালনার।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সম্প্রতি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, সারা দেশে রাজনৈতিক কোনো ঘটনা না ঘটলেও বিভিন্ন থানায় ‘অগ্রিম মামলা’ করে রেখেছে পুলিশ। এসব মামলায় হাজার হাজার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে রাখা হয়েছে। এমনকি যেসব বিএনপি নেতা দেশে নেই বা হজ পালন করতে মক্কায় অবস্থান করছেন, তাদের নামেও মামলা দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর বিএনপির এক নেতা বাংলাদেশের খবরকে বলেন, সরকারের টার্গেট এবার মহানগর বিএনপি নেতারা। কোরবানির ঈদের পর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএ হান্নানকে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ছাড়া ঢাকা মহানগরের কদমতলী, ডেমরা, শ্যামপুর, ওয়ারী, সূত্রাপুর, যাত্রাবাড়ী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাসহ অধিকাংশ থানায়ই দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। কাউকে কাউকে ‘পেন্ডিং মামলায়’ গ্রেফতার করা হচ্ছে।

বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক বলেন, ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানও করা যাচ্ছে না পুলিশি অভিযানের কারণে। সম্প্রতি তিনি তার রূপনগরের বাসায় এলাকার গণমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে পুলিশ তার বাসভবন ঘিরে ৯ জনকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

বিএনপির দফতর সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সহিদুল ইসলাম কিসমত, জেলা যুবদল সভাপতি মিজানুর রহমান শাহীন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রিয়াজ উদ্দিন রানা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসানুল কবির লীন, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শেখ বদিউর জামান রুবেলকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গত ৩১ আগস্ট শুক্রবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক দিন আগে ভোলা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ট্রুম্যানকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নেতাদের গ্রেফতার গুঞ্জন ও গোয়েন্দা তৎপরতা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ধড়পাকড় করে অতীতে কোনো স্বৈরাচার রক্ষা পায়নি। এ সরকারও ধড়পাকড় করে শেষ রক্ষা পাবে না। তিনি বলেন, আমার নামে প্রায় একশ মামলা রয়েছে; কয়েকদফা জেলও খেটেছি। তাই গ্রেফতারের খবর তেমন গায়ে লাগে না। এ নিয়ে ভাবার সময়ও নেই। কারণ সামনে অনেক কাজ। দেশে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আইনের শাসন, মানবাধিকার ফিরিয়ে আনার যে আন্দোলন চলছে, সে আন্দোলন সফল করতে হবে।