• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১০ মহররম ১৪৪০
BK

নবজাতকের কানে আজান দেওয়ার বিধান

নবজাতকের কানে আজান দেওয়ার বিধান
ছবি : ইন্টারনেট

আমাতুল্লাহ ইউসরা

সন্তান-সন্ততি আল্লাহর বিশেষ দান ও অনুগ্রহ। আল্লাহপাক যাকে ইচ্ছা করেন তাকেই তিনি এই নেয়ামত দান করেন। সন্তান-সন্ততি যে কত বড় নেয়ামত, তা কেবল সেই দম্পতিই বুঝতে পারেন, যাদের আল্লাহ এই নেয়ামত দান করেননি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন। অথবা তাদের দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা তাকে করে দেন বন্ধ্যা, তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।’ (সুরা শূরা, আয়াত : ৪৯-৫০)।

আল্লাহপাক যাকে এই নেয়ামত দান করেন তিনিই সৌভাগ্যবান। তাই তার কিছু করণীয় আছে। তার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য করণীয় হচ্ছে, সন্তান-সন্ততি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর কানে আজান দেওয়া। একটি হাদিসে হজরত আবু রাফে তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, ‘আমি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আলীর পুত্র হাসানের কানে নামাজের আজানের মতো আজান দিতে দেখেছি, যখন ফাতেমা (রা.) তাকে জন্ম দেন (তিরমিজি)।

একজন নবজাতক ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তার কানে আজান দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে, এই বাচ্চা দুনিয়াতে এসেছে, সে যেন ইসলামের ওপর থাকে, ফেতরাতের ওপর থাকে। এ জন্য প্রথম ধ্বনি আল্লাহু আকবার, আল্লাহ সবচেয়ে বড় এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ তার কানে যেন যায়। আল্লাহর শাহাদাত, তাওহিদের সাক্ষ্য, রসুলের রিসালাতের সাক্ষ্য, সালাতের সাক্ষ্য, কল্যাণের সাক্ষ্য— এগুলো সবই যেন নবজাতকের ওপর আসর করে, তার ওপর যেন প্রভাব পড়ে, এটাই শরিয়ত চায়।

সন্তান-সন্ততি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই আজান দিতে হবে। যেন তার কানে আল্লাহর মহত্ত্ববিষয়ক প্রথম আওয়াজ প্রবেশ করে এবং শয়তান তার থেকে দূরে চলে যায়।

আজানের শব্দগুলো নবজাতকের কানের কাছে আস্তে আস্তে বলা উচিত। যেন আজানের শব্দগুলো তার কানে প্রবেশ করতে পারে। জোরে বলা উচিত নয়। অনেকে বাড়িতে আজান দিয়ে বসে। এটা ভুল কাজ। বাড়িতে আজান দেওয়াটা ঠিক নয়। বাচ্চাকে কোলে নিয়ে আস্তে আস্তে তার কানের কাছে আজানের শব্দগুলো বলতে হবে। নবজাতক ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তার কানের কাছে আজানের শব্দগুলো বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাকে সেই শব্দগুলো শোনানো, নামাজের জন্য ডাকা বা আহ্বান করা নয়। আর নবজাতককে এটা শোনানোর অর্থ হচ্ছে বাচ্চা যেন তাওহিদবাদী হয়, রসুল (সা.)-এর রিসালাতকে যেন স্বীকার করে, দ্বীনের ওপর যেন থাকে, নামাজ আদায়কারী হয়- এটাই মূল উদ্দেশ্য। রসুল (সা.) কী উদ্দেশ্যে কোন কাজটা করেছেন, সেটা জানলে আমাদের জন্য আমল করা সহজ হবে। সুতরাং বাচ্চাকে কোলে নিয়ে ধীরে ধীরে আজানের শব্দগুলো বলতে হবে। জোরে নয়। কারণ, এটা করতে গিয়ে বাচ্চার ওপর যেন উল্টো প্রভাব না পড়ে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।

লেখক : চেয়ারম্যান, দোআ টিভি