• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ২৪ সফর ১৪৩৯
BK

আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৫.৪৮%

আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৫.৪৮%
সংগৃহীত ছবি

ঈদকে কেন্দ্র করে বেড়েছে চাল, মাছ, মাংস, ডিম ও মসলার মতো খাদ্যপণ্যের দাম। বেড়েছে পরিধেয় বস্ত্র, শিক্ষা উপকরণ, পরিবহন ভাড়া, বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলের মতো খাদ্যবহির্ভূত পণ্য এবং সেবার দামও। এর পরও আগস্ট মাসে মূল্যস্ফীতির হার না বেড়ে উল্টো কমেছে বলে দাবি করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে। জুলাই মাসে এর হার ছিল ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। আর গত বছরের আগস্টে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ে পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ‘মিট দ্য প্রেস’ এ প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পয়েন্ট টু পয়েন্ট (গত বছরের একই সময়ের তুলনায়) ভিত্তিতে গত মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি কমেছে ব্যাপক হারে। গত মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ। জুলাই মাসে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ১৮ ভাগ। আর গত বছরের আগস্টে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। মাসিক ও বার্ষিক হিসাবে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি আগস্টে কমেছে।

খাদ্যবহির্ভূত অন্যান্য পণ্যে আগস্ট মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে বলে প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে। এতে বলা হয়েছে, আগস্টে খাদ্য ছাড়া অন্যান্য উপখাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আগের মাসে এর হার ছিল ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর গত বছরের আগস্ট মাসে খাদ্যবহির্ভূত খাতে পণ্যমূল্য বেড়েছিল ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে পণ্যের দাম খুব একটা বাড়েনি। এ সময় বাজার নিয়ন্ত্রণেই ছিল। চাহিদা ও জোগানে বড় ধরনের কোনো অসামঞ্জস্য ছিল না। প্রয়োজনীয় পণ্য অনেক আগেই আমদানি করে রাখা হয়েছিল। এসব কারণে সার্বিক মূল্যস্ফীতি খুব একটা বাড়েনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্ট মাসে চাল, মাছ, মাংস, ডিম, মসলা ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীর দাম বেড়েছে। অন্যদিকে পরিধেয় বস্ত্র, শিক্ষা উপকরণ, বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ, পরিবহন ভাড়া, চিকিৎসাসেবাসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দাম কিছুটা বেড়েছে। ফলে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উপখাতে কিছুটা মূল্যস্ফীতি হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে পল্লী এলাকায় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ০৫ শতাংশ। আর শহর এলাকায় আগস্টে মূল্যস্ফীতির হার ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ। পল্লী ও শহর এলাকায় জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ০৪ শতাংশ ও ৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

পল্লী এলাকায় আগস্ট মাসে খাদ্যপণ্যে ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। জুলাই মাসে এর হার ছিল ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আর গত বছরের আগস্টে পল্লী এলাকায় খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। একই সময়ে পল্লী এলাকায় খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। জুলাই মাসে এর হার ছিল ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর গত বছরের আগস্টে পল্লী এলাকায় খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ।

অন্যদিকে শহর এলাকায় আগস্ট মাসে খাদ্যপণ্যে ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। জুলাই মাসে এর হার ছিল ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ। আর গত বছরের আগস্টে শহর এলাকায় খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। একই সময়ে শহর এলাকায় খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ০৪ শতাংশ। জুলাই মাসে এর হার ছিল ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। আর গত বছরের আগস্টে পল্লী এলাকায় খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ১২ মাসে গড়ে ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ হিসাবে গড় মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রতি মাসেই শহর ও গ্রামাঞ্চলের খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের পৃথক মূল্যস্ফীতি সূচক তৈরি করে বিবিএস। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতির অর্থ হলো এক বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় একই পরিমাণে বেড়েছে। এক বছর আগে যে পণ্য কিনতে ১০০ টাকা লাগত একই পণ্য কিনতে বর্তমানে ১০৫ টাকা ৪৮ পয়সা লাগবে। আয় না বাড়লে এই পরিমাণ মূল্যের পণ্য কম কিনতে হবে ভোক্তাদের। অবশ্য এক বছরে মূল্য ও মজুরি সূচক আগস্ট মাসে ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়েছে বলেও জানিয়েছে বিবিএস।