• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ২৪ সফর ১৪৩৯
BK

ইভিএমের টার্গেট ২০২৪ নির্বাচন

ইভিএমের টার্গেট ২০২৪ নির্বাচন
সংরক্ষিত ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন মাস আগে বিশেষ আলোচনায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। এই মেশিনে ভোটগ্রহণের প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনের। এই নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর আলোচনা। নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য ইভিএম কিনতে পরিকল্পনা কমিশনে ৩ হাজার ৮২৯ কোটি ৭ লাখ টাকার প্রস্তাব পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, নির্বাচন ব্যবস্থায় অধিকতর স্বচ্ছতা আনতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ক্রয়, সংরক্ষণ ও ব্যবহার শীর্ষক প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি প্রকল্পটিতে নেই বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেছেন, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। নির্ধারিত মেয়াদে প্রকল্পের কাজ শেষ করার নজির কম। দ্রুত ইভিএম সংগ্রহ হলেও ভোটগ্রহণের কাজে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণে বাড়তি সময় লাগবে। এ অবস্থায় ২০২৪ সালে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হতে পারে বলে তারা মনে করেন।

নির্বাচন কমিশনের পাঠানো প্রস্তাবে প্রকল্প ব্যয়ের শতভাগ অর্থ সরকারের কোষাগার থেকে বহন করা হবে। কেনা হবে ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম। প্রস্তাবের বিষয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন। পিইসি সভার সুপারিশের আলোকে প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়াস্ত অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপন করা হবে। নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ত্রুটিমুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করতে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। ইভিএম কেনার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে নির্বাচন কমিশনের ৩ হাজার ১১০ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে। জনসচেতনতা বাড়াতেও অর্থ ব্যয় করা হবে প্রকল্পটির আওতায়।

প্রকল্পে ইভিএম সংগ্রহ করতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৩ হাজার ৫১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সফটওয়্যার কেনা হবে ৫০ কোটি ৯০ লাখ টাকার। আসবাবপত্র ক্রয়ে ৭৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ও গাড়ি কেনায় ৩ কোটি ৩২ লাখ টাকাসহ মূলধন খাতে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৬৪৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ইভিএম কেনার প্রকল্পটি চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত নেই। এডিপির বাইরের প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণের কাজ শুরু করতে হলে পরিকল্পনামন্ত্রীর সম্মতি নিতে হয়। এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই সম্মতি দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ইভিএম ব্যবহার নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তড়িঘড়ি করে ইভিএম চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী তিনি নন। এ অবস্থায় পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দেওয়া শোভন নয়।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিতেও পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। এ অবস্থায় নির্বাচন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন প্রয়োজন। সব কিছু বিবেচনায় ব্যবহারকারীদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি সাপেক্ষে সবার মত নিয়ে ইভিএম ব্যবহার হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন শেষে প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হতে বেশ সময় লাগবে। আগামী নির্বাচনের আগে এসব কার্যক্রম শেষ হবে না। স্বচ্ছতা বজায় রেখে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে যন্ত্রপাতি কিনতেও অনেক সময় লাগবে। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার সম্ভব হবে না বলেও তিনি মনে করেন।

প্রকল্পের প্রস্তাবনায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে সাফল্য এসেছে। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ এজেন্ডা জনগণের সমর্থন পেয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার জনগণের মধ্যে উচ্চ প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে। তবে প্রতিটি নির্বাচনে উপকরণ বিতরণ, ব্যালট পেপার ব্যবস্থাপনা, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ব্যালট পেপার ও বক্স ছিনতাইয়ের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। ফলে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। দেশ ও দেশের বাইরে সমালোচনার মুখে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে কমিশন ভোটগ্রহণ ও গণনায় ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

এতে আরো বলা হয়, ২০১১ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বুয়েটের তৈরি করা ইভিএম ব্যবহার করা হয়। পরবর্তী সময়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনসহ বেশ কয়েকটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হয়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০১৩ সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের পর আর ইভিএম ব্যবহার হয়নি।

এ অবস্থায় নতুন কনফিগারেশনের ইভিএম প্রচলনের সুপারিশ করতে অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজার নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির পরামর্শে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) নতুন কনফিগারেশনের উন্নতমানের ইভিএম প্রস্তুত করে। ২০১৭ সালে রংপুর সিটি নির্বাচনে ছয়টি কেন্দ্রে নতুন ইভিএম ব্যবহার করা হয়। এ নির্বাচনে প্রতিটি কক্ষে ভোট গণনায় সময় লাগে মাত্র ১ মিনিট। রংপুরের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে সাফল্য পাওয়ায় জাতীয় নির্বাচনে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে প্রকল্পটির প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন।