• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
BK

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস আজ

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস আজ
সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস আজ। প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশে গুরুত্বের সঙ্গে দিবসটি উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই দিবসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো— ‘সাক্ষরতা অর্জন করি, দক্ষ হয়ে জীবন গড়ি।’

‘সাক্ষরতা অর্জন করি, দক্ষ হয়ে জীবন গড়ি।’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করতে চায় সরকার। দেশের ৩ কোটি ২৫ লাখ নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে সাক্ষর জ্ঞান দিয়ে কর্মমুখী করতে প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। আর বিদ্যালয় বহির্ভূত আট থেকে ১৪ বছর বয়সী ১০ লাখ শিশুকেও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় নেওয়া হবে। অর্থাৎ দেশে একজন মানুষকেও নিরক্ষর রাখতে চায় না সরকার।

উল্লেখ করা যেতে পারে, দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭২.৯ শতাংশ, গত বছর যা ছিল ৭২.৩ শতাংশ। অর্থাৎ ১ বছরে দেশে সাক্ষরতার হার বেড়েছে দশমিক ৬ শতাংশ। মোট হিসাবে বর্তমানে দেশে নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ২৫ লাখ। অর্থাৎ শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের বিষয়টি এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক অবস্থায় নেই।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দিবসের কর্মসূচিতে জানানো হয়, রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। এর আগে সকাল আটটায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি র‌্যালি বের হবে।

সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী জানান, নব্বইয়ের দশকে ‘সবার জন্য শিক্ষা’ অর্জনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও সাক্ষরতা বিস্তারে বিভিন্ন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। দেশে সার্বিক সাক্ষরতা আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষরতা জ্ঞান দেওয়া হয়। বর্তমান সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ।

গণশিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, দেশে নিরক্ষরতা দূর করতে ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী-পুরুষকে সাক্ষরতা জ্ঞান দেওয়ার জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো ‘মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা) বাস্তবায়ন করছে।

আশার কথা, আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, এনজিও ও সুশীলসমাজ এসডিজির ৪ নম্বর লক্ষ্য নিয়ে নানামুখী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রাটি অর্জিত হলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষে উন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কাজটি সহজ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।