• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ২৪ সফর ১৪৩৯
BK

সবাইকে তাকওয়া অর্জন করতে হবে

সবাইকে তাকওয়া অর্জন করতে হবে
প্রতীকী ছবি

হজ শেষে অনেকেই দেশে ফিরেছেন। হজে যেতে ইচ্ছুকদের অনেকে আবার আগামী বছর হজে যাওয়ার নিয়ত করে ফেলেছেন। আবার আমাদের মধ্যে এমনও অনেকে আছেন, যারা আর্থিক কারণে বা অন্য কোনো কারণে হজে যাওয়ার নিয়ত করতে পারছেন না। আমি এই তিন শ্রেণির লোকের উদ্দেশে আজ কয়েকটি কথা বলব। প্রথমত, যারা হজ করে দেশে ফিরেছেন তাদের করণীয় হচ্ছে— নিজেকে সব ধরনের শিরিক-যুক্ত কাজ থেকে মুক্ত রাখা এবং ছোট-বড় প্রত্যেক কাজে আল্লাহর প্রতি প্রেম ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো। মনে রাখতে হবে, অন্যান্য ইবাদত আর হজ এক বিষয় নয়। সুতরাং যারা হজ করে এসেছেন, তাদের অবশ্যই আল্লাহর প্রতি প্রেম ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে। তাদের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হচ্ছে, বেশি বেশি তাকওয়া বা পরহেজগারিতা অর্জন করা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে অধিক পরহেজগার সে-ই প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছে অধিক মর্যাদার অধিকারী (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৩)।

আবার যারা আগামী বছর হজে যাওয়ার নিয়ত করেছেন, তাদেরও অনেক দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে। যারা আগামী বছর হজে যাবেন বলে মনস্থির করেছেন, তারা হয়তো ভাবছেন— হাতে এখনো অনেক সময়। কিন্তু প্রকৃত অর্থে আপনাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই। তাই বলছি, আপনারা প্রথমেই আপনাদের কলবকে পবিত্র করুন। এটা আপনাদের বিশেষ দায়িত্ব ও কর্তব্য।

আপনারা যারা আর্থিক অসচ্ছলতা বা অন্য কোনো কারণে হজে যাওয়ার নিয়ত করতে পারছেন না, তাদের কর্তব্য হলো আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা। কিয়ামতের দিন এমন অনেক মানুষ দেখা যাবে, যাদের গুনাহের পাল্লা অনেক ভারী, নেকির পাল্লা অনেক হালকা। তারা জাহান্নামের পথে হাঁটা শুরু করবে। তখন আল্লাহপাক তাদের ডেকে বলবেন— এই নাও, তোমার নেকি। সে সময় বান্দা অবাক হয়ে জানতে চাইবে— হে আল্লাহ! আমার এই নেকি কোথায় ছিল? আল্লাহপাক তখন বলবেন, তুমি হজে যাওয়ার জন্য যে দোয়া করেছিলে— দুনিয়ায় তোমার দোয়া কবুল করা হয়নি। এটা হচ্ছে তোমার সেই দোয়া। সতুরাং আল্লাহপাক কাউকে হজ করিয়ে জান্নাত দান করবেন। আবার কাউকে হজ না করিয়েও জান্নাত দেবেন। তাই আমাদের কারো নিরাশ হওয়া উচিত নয়।

সুতরাং আমাদের সবারই উচিত বেশি বেশি তাকওয়া অর্জন করা, যেমনটি আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন— আর তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর; কেননা সর্বোত্তম ও শ্রেষ্ঠ পাথেয় হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৯৭)। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা।