• বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ৯ মহররম ১৪৪০
BK
রিজিওনাল হাব উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইএসডিবি নিশ্চুপ থাকতে পারে না

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইএসডিবি নিশ্চুপ থাকতে পারে না
ছবি : পিআিইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের (আইএসডিবিজি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বিপুল রোহিঙ্গা জনস্রোতের নজিরবিহীন এক মানবিক সঙ্কটে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে সাড়া দিয়ে সীমান্ত উন্মুক্ত রেখে তাদের প্রবেশ করতে দিয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু, এখন আমরা তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে চাই। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যখন জাতিগত নির্মূলের মুখোমুখি তখন আইডিবি নিশ্চুপ থাকতে পারে না।’ রোহিঙ্গারা স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও প্রতিবেশের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কাজেই জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করার জন্য আইডিবিকে আমি দৃঢ়ভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।’

গতকাল রোববার সকালে হোটেল র্যাডিসনে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের (আইএসডিবিজি) ঢাকার ‘রিজিওনাল হাব’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ড. বন্দর এম এইচ হাজ্জার, অর্থনৈতিক সম্পদ বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আজম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সেক্টরে বিনিয়োগের চাহিদা, বর্তমান অবস্থা ও ঘাটতি পর্যালোচনায় ‘কান্ট্রি ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও আইএসডিবিজির সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ পরিকল্পনা মতে সম্পূর্ণ মেয়াদে মোট ১১ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে এ পর্যন্ত ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। অর্থাৎ আরো ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি পূরণে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন।’

‘সকলে মিলে আমরা নতুন প্রজন্মের জন্য উজ্জ্বল-সমৃদ্ধ ভবিষৎ গড়ে তুলব’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা সফল হয়েছি। এখন জাতীয় পরিকল্পনা এবং কর্মকৌশলের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

ঢাকায় আইএসডিবিজির রিজিওনাল হাব স্থাপনকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এটি ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সদর-দফতর থেকে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের অংশ। এ উদ্যোগ সদস্য রাষ্ট্রের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, প্রয়োজন ও চ্যালেঞ্জগুলো আরো ঘনিষ্ঠভাবে বুঝতে আইএসডিবিকে সহায়তা করবে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। আইএসডিবিকে বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত উন্নয়ন-সহযোগী অভিহিত করে তিনি বলেন, আইএসডিবি এ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার উন্নয়ন সহযোগিতা প্রদান করেছে। ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে বাংলাদেশ সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা গ্রহণকারী দেশ। ঢাকায় নতুন অফিস স্থাপন বাংলাদেশের সঙ্গে আইএসডিবির সম্পর্ক সুসংহত এবং অংশীদারিত্ব সুদৃঢ় করার আরো একটি ধাপ বলে আমি মনে করি, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের জনগণের টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী ‘উন্নয়নের বিস্ময়’, যা অন্যদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। জিডিপির আকারে বাংলাদেশ বর্তমানে পৃথিবীর ৪৩তম বড় এবং ক্রয়ক্ষমতা অনুযায়ী ৩২তম বৃহৎ অর্থনীতি। তিনি বলেন, দারিদ্র্যসীমা বর্তমানে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আমরা ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার প্রযুক্তি পার্ক স্থাপন করার পাশাপাশি বেসরকারি ও বৈদেশিক বিনিয়োগও সহজতর করছি। এ ছাড়া অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা বেশ কিছু বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করেছি। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প পদ্মা সেতু তৈরি করছি, বলেন তিনি।

আইএসডিবি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ : ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ড. বন্দর এম এইচ হাজ্জার গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, হোটেল র্যাডিসনে আইএসডিবিজির ঢাকাস্থ ‘রিজিওনাল হাব’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার এই সাক্ষাৎ হয়।

প্রেস সচিব বলেন, আইএসডিবি প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস দেন যে, বাংলাদেশের উন্নয়নে ব্যাংকের কার্যকর ভূমিকা সব সময় অব্যাহত থাকবে। ড. হাজ্জার বলেন, বিভিন্ন দেশে রিজিওনাল হাব প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আইএসডিবির সিদ্ধান্তের পর ঢাকাই প্রথম যেখানে রিজিওনাল হাব প্রতিষ্ঠা করা হলো। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সব সূচকে বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্র অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোর সামনে তুলে ধরা উচিত।

ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে আইএসডিবির সহযোগিতা প্রদানের তালিকায় ওপরের দিকে রাখায় এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখায় তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে আইএসডিবির সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে কৃষি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে আইএসডিবির আরো বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আইএসডিবিজির রিজিওনাল হাব পারস্পরিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। বাসস।