• বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মহররম ১৪৪০
BK

বিএনপির পক্ষে অভিযোগ প্রধান বিচারপতিকে

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বেরিয়ে আসার পরপরই খাস কামরায় প্রবেশ করেন আইনমন্ত্রী
বিএনপির পক্ষে অভিযোগ প্রধান বিচারপতিকে
সংরক্ষিত ছবি

কারাগারে আদালত বসানোয় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে দেখা করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এর পরপরই প্রধান বিচারপতির খাস কামরায় ঢোকেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তবে আইনমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেছেন, এটা ছিল ঈদের পর সৌজন্য সাক্ষাৎ।

গতকাল রোববার বেলা ১টা ২০ মিনিটে প্রধান বিচারপতির খাস কামরায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি নেত্রীর আইনজীবীরা। বেলা ১টা ৫০ মিনিটের দিকে তারা বেরিয়ে আসেন। আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির কাছে অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের বিচারিক নোটিশ ছাড়াই বকশীবাজারের অস্থায়ী আদালত নিয়ে যাওয়া হয়েছে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের একটি কক্ষে। বিচার বিভাগের অভিভাবক সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি ছাড়াই তা করা হয়েছে। এতে সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃত্ব খর্ব হয়েছে। প্রধান বিচারপতি আইনজীবীদের বলেছেন, তিনি বিষয়টি দেখবেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে আইনজীবীদের মধ্যে ছিলেন জমিরউদ্দিন সরকার, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, মীর নাসির উদ্দিন, নিতাই রায় চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন ও বদরুদ্দোজা বাদল।

সাক্ষাৎ শেষে জয়নুল আবেদীন বলেন, রাতের বেলা নিয়ম ও আইনবহির্ভূতভাবে জেলখানার একটি কক্ষে অস্থায়ী আদালত স্থাপন করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়ার বিধান থাকলেও তা করা হয়নি। বিষয়টি আমরা প্রধান বিচারপতিকে জানিয়েছি। তিনি ধৈর্যের সঙ্গে শুনেছেন এবং দেখবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।

আইনজীবীদের কোনো বিচারিক (জুডিশিয়াল) নোটিশ দেওয়া হয়নি অভিযোগ করে জয়নুল আবেদীন বলেন, কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে একটা বিচারিক আদেশ দিয়ে আইনজীবীদের একটা নোটিশ করতে হয়। সেই নোটিশ পর্যন্ত করা হয়নি। যেহেতু এটা প্রকাশ্য আদালত নয়, সে কারণে আমরা সেখানে উপস্থিত হতে পারিনি।

তিনি বলেন, আমরা মনে করেছি, সংবিধানের অভিভাবক হচ্ছেন সুপ্রিম কোর্ট। আর সুপ্রিম কোর্টের অভিভাবক হলেন প্রধান বিচারপতি। এই ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট রুলসের ১৯(বি) চ্যাপ্টার ১ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিতে হয়। আমরা বিশ্বাস করি প্রধান বিচারপতি আমাদের বিষয়টি যেভাবে শুনেছেন, তিনি তা বিবেচনা করবেন। আশা করি বিচার বিভাগের কর্তৃত্ব থাকবে।

মীর নাসির উদ্দিন বলেন, খালেদা জিয়ার বিচারে কারাগারে যে আদালত গঠন করা হয়েছে তা আইনসম্মত হয়নি। কারণ আইন অনুসারে এই আদালত গঠন করার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিতে হয়। বিষয়টি লিখিতভাবে আমরা প্রধান বিচারপতির নজরে দিয়েছি।

এদিকে বেলা ২টা ১৫ মিনিটের দিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রধান বিচারপতির খাস কামরায় প্রবেশ করেন। ৩টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি বেরিয়ে আসেন। আইনমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, এটা ছিল ঈদের পর সৌজন্য সাক্ষাৎ। ঈদ অনেক দিন হয়ে গেছে প্রশ্ন করলে আইনমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন আমার বোন মারা গেছেন। পারিবারিক সমস্যার কারণে এর মধ্যে সাক্ষাৎ করতে পারিনি।

কারাগারের ভেতরে আদালত স্থাপন নিয়ম অনুযায়ী হয়নি, সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন- এ প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি এ বিষয়ে জানি না। জেনে তারপর জানাব।

তবে আইনবহির্ভূতভাবে কারাগারে আদালত স্থাপন করা হয়েছে খালেদার আইনজীবীদের এ অভিযোগের বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘আমি মনে করি উনারা যদি এ রকম কথা বলে থাকেন, তাহলে উনারা আইন জানেন না।’