• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ৮ মহররম ১৪৪০
BK

মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়াতে চায় ইইউ

মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়াতে চায় ইইউ

মিয়ানমারের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরো বাড়াতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বেশ কয়েকটি দেশ। রোহিঙ্গা গণহত্যার তদন্ত ও দোষীদের বিচারের বিষয়ে জাতিসংঘের আহ্বান প্রত্যাখ্যানের ঘটনায় দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করছে ইইউ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইতোমধ্যে মানবতাবিরেধী অপরাধের দায়ে মিয়ানমারের সাতজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সম্পত্তি জব্দ করেছে ইইউ। দেশটির ওপর আরো চাপ সৃষ্টি করতে সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্ট শীর্ষ দুটি কোম্পানির ওপর সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা আরোপের চিন্তা চলছে। এতে মিয়ানমারের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কায় ইইউভুক্ত কোনো কোনো দেশ অবশ্য বিকল্প চিন্তার দাবি করেছে। ইইউর তিন কূটনীতিকের সঙ্গে আলোচনার বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এই খবর জানিয়েছে।

গত বছরের আগস্টে রাখাইনে সেনা অভিযানের পর ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ তুলেছে। আজ সোমবার রোহিঙ্গা বিষয়ক কমিটির কয়েকজন সদস্য মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যের ওপর সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা আরোপে চাপ সৃষ্টি করতে ব্রাসেলস যাচ্ছেন। তারা কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ও ইউরোপীয় কমিশনের কাছে সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তুলবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের শীর্ষ দুটি ব্যবসায়িক কোম্পানি দি ইউনিয়ন অব মিয়ানমার ইকোনমিক হোল্ডিংস লিমিটেড ও মিয়ানমার ইকোনমিক করপোরেশনের অধীনে পরিচালিত বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। এতে মিয়ানমারের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে- এ আশঙ্কায় যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরোধিতা করে আসছে। এই দুটি কোম্পানির অধীনে দেশটির রত্ন, কপার, স্বর্ণ, পোশাক, সিমেন্ট ও দেশটির শীর্ষ টেলিকম কোম্পানি মাইটেলের বাণিজ্য পরিচালিত হয়।

এক কূটনীতিক বলেন, নিষেধাজ্ঞার আরেকটি সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে সম্পত্তি জব্দ ও দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। এই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হতে পারেন মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং ও তার সহকারী জেনারেল সোয়ে উইন। ইউরোপীয় কমিশনের এক মুখপাত্র বলেন, এখনো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং তার ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। নিষেধাজ্ঞার কোনো সিদ্ধান্ত হলে তা ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে।

আশা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রস্তাব পেশ করবে ইইউ। এ নিয়ে আলোচনার জন্য ইতোমধ্যে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইইউর কর্মকর্তারা। এদিকে বার্মা হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক কিয়াও উইন সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যসহ নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপে ইইউ যদি ব্যর্থ হয় তাহলে রাখাইনে রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনা আরো বাড়বে।