• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ৮ মহররম ১৪৪০
BK

সুস্থ হয়ে উঠছে সেই নীলগাইটি

সুস্থ হয়ে উঠছে সেই নীলগাইটি
সংগৃহীত ছবি

ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে ভারতের বনাঞ্চল থেকে বাংলাদেশে আসা বিরল প্রজাতির নীলগাইটি। প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসকরা বলছেন, গত দু’দিনের চিকিৎসায় স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করছে নীলগাইটি। আশঙ্কা কেটে গেছে। এক মাসের মধ্যেই সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে এটি সন্তান প্রসব করবে বলে আশা করছেন চিকিৎসকরা। এদিকে সুস্থ হওয়ার পর প্রাণীটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা

হবে বলেও জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। তাদের আশা, প্রাণীটি সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকলে পরবর্তী সময়ে বংশবৃদ্ধি করা যাবে; এতে সংরক্ষণের পাশাপাশি বিলুপ্ত প্রাণীটির বংশবিস্তারের মাধ্যমে আবারো আগের মতো অবস্থায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, ৪ সেপ্টেম্বর বিকালে ঠাকুরগাঁও জেলার নেকমরদ ইউনিয়নের যদুয়ার গ্রামের পাশে বাংলাদেশ-ভারত সীমানা দিয়ে বয়ে যাওয়া কুলিক নদীর ধারে এই নীলগাইকে দেখতে পান স্থানীয় জেলেরা। পরে গ্রামবাসী প্রাণীটিকে আটক করেন। এ সময় গ্রামবাসীর হামলায় আহত হয় নীলগাইটি। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন জানতে পেরে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় উদ্ধার করে পর দিন দিনাজপুর রামসাগর জাতীয় উদ্যানে পাঠায়। বিশেষ প্রজাতির হরিণের মতো প্রাণীটিকে এখন হরিণের সঙ্গেই রাখা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসা চলছে নীলগাইটির।

দিনাজপুর রামসাগর জাতীয় উদ্যানের মিনি চিড়িয়াখানার চিকিৎসকরা জানান, প্রথম অবস্থায় নীলগাইটি যেমন অসুস্থ ছিল এখন তেমন নেই। প্রথমদিকে এটি আহার পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে এখন এটি আহার গ্রহণ এবং চলাফেরা করছে। নীলগাইটি গর্ভবতী, এর পেটের বাচ্চাও সুস্থ রয়েছে এবং এক মাসের মধ্যেই এটি বাচ্চা প্রসব করতে পারে।

গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে আহত হওয়ায় নীলগাইটিকে চিকিৎসা দিচ্ছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। বৈশিষ্ট্য অনুসারে এটি হরিণ বিশেষ প্রজাতির নীলগাই বলে নিশ্চিত হয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

রামসাগর জাতীয় উদ্যানের মিনি চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, হরিণ চারণভূমির একপাশে শুয়ে আছে নীলগাইটি। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে হরিণ, কিন্তু আকৃতিতে একটু বড়। হরিণের মতো সরু মাথা, তবে শিং নেই, গায়ের রঙ লালচে বাদামি এবং পেটের নিচের রঙ সাদা। এই প্রাণীটি হরিণের বসবাসকারী স্থানে থাকায় ভয়ে ছোটাছুটি করছে হরিণগুলো। তাই কাছাকাছি গিয়ে ছবি তুলতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহিনুর আলম জানান, আঘাতজনিত কারণে গ্রামবাসীর হাতে আটক হওয়া নীলগাইটির জিহ্বা ও মুখগহ্বর কেটে গেছে। ভারত থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসায় প্রাণীটি ক্লান্ত ছিল এবং ঠাকুরগাঁও থেকে দিনাজপুরে পরিবহনের মাধ্যমে নিয়ে আসায় কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ভেটেরিনারি সার্জনকে দিয়ে প্রাণীটির চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নীলগাইটির ব্যাপারে দিনাজপুর সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তা ও রামসাগর জাতীয় উদ্যানের তত্ত্বাবধায়ক আবদুস সালাম তুহিন জানান, নীলগাই বাংলাদেশে একটি বিলুপ্ত বন্যপ্রাণী। প্রাণীটি গাই হিসেবে পরিচিত হলেও এটি মোটেও গরু শ্রেণির নয়, বরং এটি এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় হরিণ বিশেষ প্রাণী- যার বৈজ্ঞানিক নাম বোসেলাফাস ট্র্যাগোকামেলাস। একশ’ বছর আগে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় নীলগাই দেখা যেত। এখন আর বাংলাদেশে নীলগাই পাওয়া যায় না। তবে প্রায় ১৯৪০ সালের দিকে পঞ্চগড়ে একবার নীলগাই দেখা গিয়েছিল। এরপর বাংলাদেশে আর কোথাও নীলগাই দেখতে পাওয়া যায়নি।