• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ সফর ১৪৩৯
BK

কাকরাইল মসজিদে ফের সংঘর্ষে তাবলিগ জামাত

কাকরাইল মসজিদে ফের সংঘর্ষে তাবলিগ জামাত
সংরক্ষিত ছবি

রাজধানীর কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষে ফের সংঘর্ষ হয়েছে। দিল্লির মাওলানা সাদপন্থি ও সাদবিরোধীদের মধ্যে গত শনিবার রাতের এ ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাকরাইল মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাঁচ দফা সংঘর্ষ হলো।

জানা গেছে, তাবলিগ জামাতের দিল্লির মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারী শূরা সদস্য প্রকৌশলী সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম ও মাওলানা মহিউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন মুরব্বি ও সাথী হজে গিয়েছিলেন। হজ শেষে শনিবার তারা দেশে ফেরেন। এশার নামাজের পর তারা কাকরাইল মসজিদে প্রবেশ করতে গেলে সাদবিরোধীদের বাধার মুখে পড়েন। এ সময় মসজিদের ভেতরে ছিলেন সাদবিরোধী পক্ষের মুরব্বি মাওলানা যোবায়ের। একপর্যায়ে মসজিদের ভেতরে থাকা মাদরাসার ছাত্ররা বাইরে এসে সাদপন্থিদের ওপর হামলা চালায়। তখন হাতাহাতিতে কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর রাতভর উভয় গ্রুপে উত্তেজনা বিরাজ করে। মাওলানা সাদপন্থিরা রাতভর কাকরাইল মসজিদের পাশে ফুটপাথে অবস্থান নেন।

এ প্রসঙ্গে মাওলানা সাদের অনুসারী মাওলানা আবদুল্লাহ বলেন, তাবলিগের শূরা সদস্য প্রকৌশলী সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামসহ মুরব্বিরা হজে গিয়েছিলেন। হজ শেষে তারা দেশে এসে শনিবার রাতে মসজিদে প্রবেশ করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। মসজিদের ভেতরের কিছু লোক মুরব্বিদের ওপর হামলা চালায়।

তাবলিগের সাধারণ সাথীরা জানান, বাংলাদেশের তাবলিগের দুই মুরব্বি ও শূরা সদস্য মাওলানা যুবায়ের আহমদ ও প্রকৌশলী সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের আধিপত্য নিয়ে পুরো তাবলিগ জামাত প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় সারাদেশের সাথীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। মাওলানা যুবায়ের আহমদ ও সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামকে তাবলিগের দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে অপসারণ করে প্রকৃত আলেমদের ভেতর থেকে কাউকে দায়িত্ব প্রদান করা দরকার। এই দুই গ্রুপ এ পর্যন্ত পাঁচ দফা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। কাকরাইল মসজিদে রক্তারক্তি হয়েছে। একজনকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগও রয়েছে।

তাবলিগের একজন মুরব্বি জানান, বিবদমান দুই গ্রুপের প্রধান মাওলানা যুবায়ের আহমদ এবং সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামকে তাবলিগের নেতৃত্ব থেকে অপসারণ না করা হলে খুনোখুনির ঘটনা ঘটতে পারে। তারা দীর্ঘকাল ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। এখন স্বেচ্ছাচারী হয়ে গেছেন। কাকরাইল মারকাজকে বাসাবাড়ি বানিয়েছেন। তারা নিজেদের তাবলিগের মালিক মনে করেন।