• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ৮ মহররম ১৪৪০
BK

ফুটবল লজ্জায় হতাশ সবাই

ফুটবল লজ্জায় হতাশ সবাই
সংগৃহীত ছবি

অনেক স্বপ্ন নিয়ে সাফে যাত্রা শুরু করেছিল টিম বাংলাদেশ। নতুন কিছুর সম্ভাবনাকে সামনে রেখে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন জামাল-মামুনুল-সুফিল-জনিরা। ভুটানের পর পাকিস্তানকে বধ করে বাংলাদেশ দল উৎসবে মাতিয়েছিল ফুটবলপ্রেমীদের। জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে স্বপ্নের রঙিন জাল বুননে ব্যস্ত ছিলেন সমর্থকরা। দুই ম্যাচে দুই জয়, অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল স্বাগতিকরা। আত্মবিশ্বাসের পারদটা ছিল আকাশচুম্বী। সবার আগে ৬ পয়েন্ট নিজেদের ঝুলিতে ভরে দলটি। গত তিন সাফে গ্রুপপর্ব থেকে ছিটকে পড়ার বেদনা লাঘব করার দারুণ একটা সুযোগ ছিল লাল-সবুজদের সামনে। ফুটবলাররাও স্বপ্ন দেখছিলেন ‘দায় মুক্তির’। কিন্তু সেটা আর হয়নি। তীরে এসে যেন তরী ডুবল। নেপালের কাছে ২-০ গোলে হেরে সব আশা এক নিমিষে ধূলিসাৎ হয়ে গেল স্বাগতিকদের। এমন ফুটবল লজ্জায় হতাশ সবাই। হতাশ কোচ জেমি ডে নিজেও।

নেপালের সঙ্গে ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত ছিল বাংলাদেশের। আর গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত নেপালিদের। এমন কঠিন স্নায়ুচাপের ম্যাচে নিজেদের ভয়কে জয় করে নিয়েছে হিমালয়ের দেশ। অথচ নিজেদের মাঠ, চেনা পরিবেশ, সমর্থকদের উন্মত্ত সাপোর্ট থাকা সত্ত্বেও শনিবার যেন নিজেদের খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ। বার বার ভুল পাস আর অতি আত্মবিশ্বাসই যেন ডুবিয়েছে দলকে। সবচেয়ে বড় ভুলটা হয়েছে রক্ষণভাগ আর গোলবারে। এ দুই ভুলেই যেন সব শেষ। লক্ষ্য পূরণের এত কাছাকাছি এসেও সেমিতে নাম লেখাতে না পারায় হতাশ পুরো জাতি।

জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার হাসানুজ্জামান খান বাবলু বলেন, ‘গ্রুপের প্রথম দুই ম্যাচে দূর্দান্ত খেলেছে বাংলাদেশ। সবকিছুই ছিল পরিকল্পনা মাফিক। কিন্তু নেপালের বিরুদ্ধে এমন পারফরম্যান্স আমরা মোটেও আশা করিনি। বাংলাদেশ দল যেন আত্মবিশ্বাসহীন ছিল। ডিফেন্সে কোনো ধার ছিল না। মধ্যভাগেও নিয়ন্ত্রণ ছিল কম। অথচ টানা দুই ম্যাচ জিতে আমরাই ছিলাম ফেভারিট। এটা আমাদের জন্য অনেক হতাশার একটি আসর।’

সাধারণ দর্শকরা পুরো দায় চাপাচ্ছেন গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলের ওপর। আরমান মিয়া নামে পুরান ঢাকার এক দর্শক জানান, ‘নেপালের বিরুদ্ধে আমরা ভুলে ভরা একটি ম্যাচ খেলেছি। যে ম্যাচে সবচেয়ে বড় ভুলটি হয়েছে ৩৩ মিনিটে। গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল যে অপরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছেন, তা সত্যিই ক্ষমার অযোগ্য। জাতীয় দলের একজন গোলরক্ষক এমন ভুল কীভাবে করেন। তার হাত ফসকে বল জালে প্রবেশ করে কীভাবে? এমন তো নয় যে, বলের গতি ছিল খুব বেশি। আসলে আবাহনী নামের ক্লাবপ্রীতির কারণেই অনেক ভুল করার পরও সোহেল জাতীয় দলে জায়গা পাচ্ছেন। আর ক্লাবপ্রীতির খেসারতই নেপালের বিরুদ্ধে দিতে হল। জাতীয় দলের কথা চিন্তা করলে ক্লাবের স্বার্থের কথা বাদ দিতে হবে। তাহলে যদি আমরা কিছু করতে পারি।’ আরমানের মতো অনেকেই ক্ষুব্ধ জাতীয় দলে আবাহনী ক্লাবের ফুটবলারদের আধিক্য দেখে। এজন্য অবশ্য ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপুকে দায়ী করছেন সবাই।

যে যাই বলুক, যতটাই হতাশ হোক- সবচেয়ে বড় কথা, আমরা ব্যর্থতার বেড়াজাল থেকে বের হতে পারিনি। আমরা খুব সহজেই ফুটবলে উপরে উঠতে চাই। আমাদের নেই কোনো পরিকল্পনা, নেই কোনো সঠিক চেষ্টা। ফুটবল কর্মকর্তারা বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত জুতসই কোনো পদক্ষেপ নেননি। কি করে হবে ফুটবলের উন্নতি? হয়তো প্রাপ্ত হতাশাই আমাদের শেষ সম্বল, শেষ পুঁজি।