• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৬ সফর ১৪৩৯
BK
৮ হাজার ৬৭০ কোটি টাকার আট প্রকল্প উঠছে একনেকে

ভোটের আগে নজর গ্রামে

ভোটের আগে নজর গ্রামে
সংগৃহীত ছবি

২৬ জেলার ২২৪ উপজেলায় গ্রামীণ সড়ক, হাটবাজারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকল্পে নেওয়া হয়েছিল ২০১০ সালে। ২০১৭ তে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ বাড়িয়েও এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা। ৮৩ দশমিক ২৭ শতাংশ টাকা খরচ করার পর প্রকল্পটি সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৮১৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় খরচ বাড়ছে ১ হাজার ৪৭৬ কোটি ৬৫ টাকা। প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ৪৪ শতাংশ ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পের আওতায় ৪৯৩ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক তৈরি করা হবে। ব্রিজ নির্মাণ করা হবে ১ হাজার ৭২০ মিটার। ৪৩৪ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক, ৪ হাজার ৭৮ মিটার সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, নদী খনন, গ্রোথ সেন্টার উন্নয়ন, জেটিঘাট নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ করা হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দ্রুত প্রস্তাব পাওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় প্রকল্পটি সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, আজ এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে। এতে মোট ১৬ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে আটটি পল্লী উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট। এতে ব্যয় হবে ৮ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। সরকারের শেষ সময়ে এসে প্রকল্প প্রণয়ন, মূল্যায়ন ও অনুমোদনে তড়িঘড়ির লক্ষণ দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, ছোট আকারের অনেক প্রকল্প প্রণয়ন করে কোনো সমস্যার সমাধান হবে না। বরং প্রকল্পের চাপে বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, শেষ পর্যায়ে হয়তো সংসদ সদস্যদের চাপে প্রকল্প নেওয়া হবে। তবে বাস্তবায়নে একই ধরনের তদবির না থাকায় এমন প্রকল্পের সুফল পাওয়া যায় না। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, পল্লীকে পিছিয়ে রেখে সামগ্রিক উন্নতি নিশ্চিত হবে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে গ্রামের উন্নতির বিষয়টিও দেখতে হবে। এসব  বিবেচনায় প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর গুরুত্ব রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

 

২০১৫ সালের ২২ জুন বাতিল করা হয় পটুয়াখালী জেলার লোহাদিয়া সেতুর ওপর পিসি গার্ডার সেতুর কাজ। ক্ষমতা ছাড়ার আগে এর কাজ আবার শুরু করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে ১০২ কোটি টাকা ব্যয় ধরে একটি প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রকল্পটিও অনুমোদনের জন্য আজ উঠবে একনেকে। এ প্রকল্পের প্রস্তাব মার্চ মাসের শেষের দিকে পরিকল্পনা কমিশনে আসে। অন্যান্য প্রকল্প অনুমোদনে দীর্ঘ প্রক্রিয়া দেখা গেলেও এর জন্য নেওয়া হয়েছে মাত্র ৫ মাস সময়।

পল্লী উন্নয়নে নদীর তীর রক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। সরকারের শেষ মেয়াদে এসে ফরিদপুর জেলার আড়িয়াল খাঁ নদের তীর রক্ষায় একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এর কাজ শেষ হলে নদীভাঙন ও বন্যা থেকে এলাকার মানুষ রক্ষা পাবে। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ২৯১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটিও আজ অনুমোদন পাচ্ছে।

নেয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। সরকারের তহবিল থেকে এ অর্থ আসবে।

সিলেট ও চট্টগ্রামের গ্রামে বিদ্যুতের ১৪ লাখ গ্রাহক সৃষ্টিতে ২০১৪ সালে নেওয়া প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল চলতি বছরের জুনে। এখন এর মেয়াদ বাড়ছে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত। ১ হাজার ৬৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার প্রকল্পের ব্যয় উঠছে ১ হাজার ৩৭৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকায়।

জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ডেলিভারি শীর্ষক একটি প্রকল্প উঠছে একনেকে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। অর্থ সহায়তা দিচ্ছে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা জামালপুরের আট পৌরসভার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

জামালপুর, ধনুয়া, কামালপুর, রৌমারি, দাঁতভাঙ্গা সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩২ কোটি ১০ লাখ টাকা। এর কাজ শেষ হলে কুড়িগ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে।