• মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫, ২৩ সফর ১৪৩৯
BK
একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা

‘নৃশংস হামলার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা হয় হাওয়া ভবনে’

‘নৃশংস হামলার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা হয় হাওয়া ভবনে’
সংরক্ষিত ছবি

একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার আইনি যুক্তিতে সরকারপক্ষের (প্রসিকিউশন) কৌঁসুলি বলেছেন, হাওয়া ভবনে এ মামলার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তারেক রহমান এ ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত। তার সহযোগিতা ও আশ্বাসে ভয়াবহ ওই হামলা চালানো হয়েছে। গতকাল সোমবার নাজিমউদ্দিন রোডে ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে সরকারপক্ষের কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল এ যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে নিশ্চিহ্ন করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। সরকারের ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা হাওয়া ভবনে বসে হামলার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করেন। হাওয়া ভবনসহ ১০টি স্থানে ২১ আগস্ট হামলার ষড়যন্ত্রমূলক সভা ও পরিকল্পনা করা হয়। যাতে তৎকালীন সরকারের মন্ত্রীসহ তাদের অনুগত প্রশাসনের কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন। ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলাকারীরা হামলা ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

তিনি বলেন, ২১ আগস্টের হামলায় কারা কারা ষড়যন্ত্র করেছে, অর্থ ও গ্রেনেড জোগান দিয়েছে, কারা ঘটনা ঘটিয়েছেন সাক্ষ্য প্রমাণে তা স্পষ্ট। যারা ঘটিয়েছে তাদের অনেকেই আফগানিস্তান ফেরত জঙ্গি। ২১ আগস্ট হামলা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়েই এ হামলার ছক করা হয়।

তিনি বলেন, হামলার ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে জজ মিয়া নাটক তৈরি করা হয়েছিল। অধিকতর তদন্তে ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। এ মামলার অধিকতর তদন্তে আইনগত ও পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নানের দ্বিতীয় দফায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার ক্ষেত্রেও আইনের বিচ্যুতি হয়নি।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ৮৯ কার্যদিবসে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের আইনজীবী এসএম শাহজাহান আইনি যুক্তি শেষ করেন। ওই দিন থেকে সরকারপক্ষে কৌঁসুলি মোশররফ হোসেন কাজল আইনি যুক্তি পেশ করছেন। এ নিয়ে ১১৫ কার্যদিবস যুক্তিতর্ক চলেছে। তার মধ্যে  ৯০ কার্যদিবসে আসামিপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করে।

আদালতে সরকারপক্ষে প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান, বিশেষ পিপি মো. আবু আবদুল্লাহ ভূঁইয়া, আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল ও ফারহানা রেজা উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এসএম শাহজাহান, নজরুল ইসলাম, মাসুদ রানা।

একুশে আগস্টের ঘটনায় পৃথক মামলায় ৫২ আসামির বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরীসহ ১৮ জন পলাতক। লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ আসামি কারাগারে ও ৮ জন জামিনে রয়েছেন।

বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে।