• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ সফর ১৪৩৯
BK

বিদ্যুৎ সঞ্চালনে ৩ হাজার কোটি টাকা দেবে এডিবি

ঋণচুক্তি সম্পন্ন
বিদ্যুৎ সঞ্চালনে ৩ হাজার কোটি টাকা দেবে এডিবি
ছবি : পিআইডি

খুলনায় সম্প্রতি অনুমোদন পাওয়া রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট উৎপাদন কেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে খুলনা থেকে ফরিদপুর পর্যন্ত ২৩০ কিলোভোল্ট ক্ষমতার ১২৬ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া রাজশাহীর রোহানপুর থেকে বগুড়া পর্যন্ত ১০৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পৃথক গ্রিডলাইন নির্মাণ করা হবে। দুই সঞ্চালন লাইন নির্মাণে ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। পাশাপাশি অনুদান হিসেবে একই প্রকল্পে আরো ৭০ লাখ ডলার দেবে সংস্থাটি। এ বিষয়ে গতকাল সোমবার সরকারের সঙ্গে পৃথক ঋণ ও অনুদান চুক্তি করেছে ইআরডি।

রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম ও এডিবির পক্ষে সংস্থার ঢাকা আবাসিক মিশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ চুক্তিতে সই করবেন। এ ছাড়া বাস্তবায়ন সংস্থা পাওয়া গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবির) পক্ষে সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী প্রণব কুমার রায় ও এডিবির মনমোহন প্রকাশ প্রকল্প চুক্তি সই করেন। এ সময় ইআরডি, এডিবি ও বিদ্যুৎ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ পাবে ৩৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা।

চুক্তি অনুষ্ঠানে শফিকুল আযম বলেন, এডিবি বাংলাদেশের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। এ প্রকল্পটি একটি অন্যতম বড় প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। তিনি বলেন, গত অর্থবছর ছিল বৈদেশিক সহায়তার ক্ষেত্রে রেকর্ডের বছর। চলতি অর্থবছরের  প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক সহায়তার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে তা পূরণে সক্ষম হব।

মনমোহন প্রকাশ বলেন, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে। বিদ্যুতের সিস্টেম লস কমে আসবে। প্রকল্পটি দেশের বর্ধিত বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে।

এডিবি সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পে ৩৫ কোটি ডলার নিজের তহবিল থেকে দেবে এডিবি। অনুদানের ৭০ লাখ ডলার অন্যান্য বহুজাতিক সংস্থা থেকে অনুমোদন হিসেবে সংগ্রহ করবে এডিবি।

এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে এডিবির জ্যেষ্ঠ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এইমিং ঝাও বলেন, গত এক দশক বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অনেক উন্নতি হয়েছে। তবে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে এখনো অনেক অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। এডিবির এ সহায়তা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা অধিকতর দক্ষ, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশ সহায়ক হবে।

এডিবি জানায়, বাংলাদেশ সরকার সব মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে চায়। অথচ দেশটির সাড়ে ৩ কোটি মানুষ এখনো বিদ্যুতের আওতার বাইরে আছে। মূলত অদক্ষ ও অপর্যাপ্ত বিতরণ ব্যবস্থার কারণে বিদ্যুতের সরবরাহ প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না।

এডিবি আরো জানায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ৫৩ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় হবে। এতে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। ২০২৩ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে।

এডিবির ঋণ ২৫ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে রেয়াতকাল ধরা হয়েছে ৫ বছর। লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফারড রেটের (লাইবর) সঙ্গে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ হারে সুদ গুনতে হবে। ম্যাচুরিটি প্রিমিয়াম এবং অব্যয়িত অর্থের ওপর শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ হারও কমিটমেন্ট ফি দিতে হবে।

আরো জানানো হয়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে চারটি কম্পোনেন্টের আওতায়। এগুলো হচ্ছে গোপালগঞ্জে ৪০০/১৩২ কেভি সাবস্টেশন নির্মাণ, ১২৬ কিলোমিটার বরিশাল-গোপালগঞ্জ-ফরিদপুর ২৩০ কেভি সার্কিট ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপন, ১০৪ কিলোমিটার বগুড়া-রোহানপুর ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট লাইন এবং বিদ্যুৎ খাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক উন্নয়ন করা হবে।