• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১১ মহররম ১৪৪০
BK

নির্বাচনকালীন সরকার হতে পারে সর্বোচ্চ ৩০ সদস্যের

ওবায়দুল কাদের, আবুল মাল আবদুল মুহিত, মতিয়া চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ, আনিসুল হক, নূরুল ইসলাম নাহিদ, রওশন এরশাদ, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, মইনউদ্দিন খান বাদল, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু থাকতে পারেন
নির্বাচনকালীন সরকার হতে পারে সর্বোচ্চ ৩০ সদস্যের

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় এখন আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে ‘নির্বাচনকালীন সরকার’। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ওই সরকারের আয়তন বর্তমানের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে। এতে যুক্ত হতে পারেন নতুন দুই থেকে তিনজন। মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, নতুন কারা যোগ হচ্ছেন আর কারা বাদ পড়ছেন- এসব নিয়েই এখন সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন।

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন এ সরকার অক্টোবরের মধ্যেই গঠিত হবে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে। মন্ত্রিসভায় তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবেন। তবে অন্যান্য দলের একাধিক নেতাকে নিয়ে যুক্ত করে একে ‘সর্বদলীয় সরকারে’ রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। অবশ্য এতে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হতে পারে ২৫ থেকে ৩০ জনের সমন্বয়ে। এর প্রধান থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে এর আগে ২০১৩ সালের নভেম্বরে গঠিত নির্বাচনকালীন সরকার ছিল ২৮ সদস্যের। ওই মন্ত্রিসভায় ২১ জন ছিলেন মন্ত্রী আর বাকিরা প্রতিমন্ত্রী। এবারের মন্ত্রিসভার আকারও গত সরকারের মতো হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও জানিয়েছেন এ সরকারের আকার ছোট হবে।

নির্ভরযোগ্য দুটি সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনো চূড়ান্ত করেননি। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যাচ্ছেন। ২৯ সেপ্টেম্বর দেশে

নির্বাচনকালীন সরকার হতে পারে সর্বোচ্চ ৩০ সদস্যের ফেরার পর তিনি সরকারের শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন। তখনই আসলে জানা যাবে এতে কারা থাকবেন।

তবে বর্তমান মন্ত্রিসভার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির সদস্যরা থাকবেন নির্বাচনকালীন সরকারে। সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ প্রমুখ মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন।

নির্বাচনকালীন সরকারে থাকার কথা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজেই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তবে কোনো কারণে তিনি থাকতে না পারলে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। বর্তমানে ইয়াফেস ওসমান ও মোস্তাফা জব্বার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী। তাদের মধ্যে জব্বার নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল বলেছেন, এবার টেকনোক্র্যাট কোটা থাকবে না। গত নির্বাচনকালীন সরকারে থাকলেও বিভিন্ন অভিযোগের কারণে এবার থাকার সম্ভাবনা নেই- এমন দুই মন্ত্রীর নামও শোনা যাচ্ছে। তাদের একজন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলোও থাকছে এ সরকারে। বর্তমান সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৩টি আওয়ামী লীগের। বাকিগুলো জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, তরিকত ফেডারেশন, বিএনএফ ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের দখলে। নির্বাচনকালীন সরকারে থাকতে পারেন জাতীয় পার্টি থেকে রওশন এরশাদ, দলটির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, জাসদের (আম্বিয়া) মইনউদ্দিন খান বাদল, জাতীয় পার্টির (জেপি) সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু প্রমুখ।

ত্রিশ সদস্যের মন্ত্রিসভা হলে জাতীয় সংসদে নেই, এমন দলের নেতারাও থাকতে পারেন নির্বাচনকালীন সরকারে। আর সংবিধান অনুযায়ী, এক-দশমাংশ টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী রাখার বিধান আছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ৩০ অক্টোবরের পর যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে। দশম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তিন দিন আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হয়েছিল। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।