• বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মহররম ১৪৪০
BK
একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা

জামিনে থাকা আসামিদের কারাগারে পাঠানোর দাবি

জামিনে থাকা আসামিদের কারাগারে পাঠানোর দাবি
সংরক্ষিত ছবি

একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় জামিনে থাকা আসামিদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আরজি পেশ করেছে সরকারপক্ষ (প্রসিকিউশন)। একই সঙ্গে পালিয়ে থাকা আসামিদের গ্রেফতারে রেড ওয়ারেন্ট জারিরও আরজি পেশ করা হয়েছে। এ মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও মামলার শুরু থেকে পলাতক রয়েছেন। পলাতক থাকায় তার পক্ষে কোনো আইনজীবী শুনানির সুযোগ পাননি। সরকার নিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী তার পক্ষে শুনানি করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে সরকারপক্ষের কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল এ দাবি করেন।

প্রসিকিউশন পক্ষে মোশাররফ হোসেন কাজল জামিনে থাকা আসামিদের জামিন বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠানোর দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘গ্রেনেড হামলা মামলায় জামিনে থাকা আসামিরা বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন কিংবা আত্মগোপনে থাকতে পারেন। তাই তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হোক।’

এ ছাড়া বিদেশে আগে থেকে পালিয়ে থাকা আসামিদের বিরুদ্ধে রেড ওয়ারেন্ট জারি ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য আরজি পেশ করেন তিনি।

শুনানিতে আইনি যুক্তিতে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘গ্রেনেড হামলার পেছনে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের প্রত্যক্ষ ইন্ধন রয়েছে। হামলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা হাওয়া ভবনে বৈঠকও করেছিলেন। এ মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করা যায়।’

গত ৫ সেপ্টেম্বর ৮৯ কার্যদিবসে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের আইনজীবী এসএম শাহজাহান আইনি যুক্তি শেষ করেন। ওই দিন থেকে সরকারপক্ষে কৌঁসুলি মোশররফ হোসেন কাজল আইনি যুক্তি পেশ করছেন। এ নিয়ে ১১৬ কার্যদিবস যুক্তিতর্ক চলেছে।

আদালতে সরকারপক্ষে প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান, বিশেষ পিপি মো. আবু আবদুল্লাহ ভূঁইয়া, আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল ও ফারহানা রেজা উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এসএম শাহজাহান, নজরুল ইসলাম, মাসুদ রানা।

একুশে আগস্টের ঘটনায় পৃথক মামলায় মোট আসামিদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরীসহ ১৮ জন পলাতক। লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম সালাম পিন্টুসহ ২৩ আসামি কারাগারে ও ৮ জন জামিনে রয়েছেন।

সরকারপক্ষে ২২৫ সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত বছরের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দের জেরা শেষের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা ঘটে। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন নিহত হন। গুরুতর আহত হন তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মী।