• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ৮ মহররম ১৪৪০
BK

ফের সচল ইভিএম প্রকল্প

আগামী একনেক বৈঠকে উঠছে
ফের সচল ইভিএম প্রকল্প
সংরক্ষিত ছবি

আবারো নড়েচড়ে উঠেছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রকল্পটি। গত মাসের ১৬ তারিখে নির্বাচন কমিশন তিন হাজার ৮২৯ কোটি টাকা ব্যয় ধরে প্রকল্পটি পাঠালে দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ শুরু করে পরিকল্পনা কমিশন। এর দুদিন পর মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা ডাকা হলেও কোনো কারণ ছাড়াই তা স্থগিত করা হয়। নানামুখী বিতর্কের মুখেই গতকাল প্রকল্পটির পিইসি সভা করেছে পরিকল্পনা কমিশন। এতে সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই এটি অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের নোটিশে গতকাল প্রকল্পের পিইসি সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য দিলোয়ার বখত। নির্বাচন ব্যবস্থায় অধিকতর স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে ইভিএম ক্রয়, সংরক্ষণ ও ব্যবহার শীর্ষক প্রকল্প-বিষয়ক এ বৈঠকে নির্বাচন কমিশন, অর্থ বিভাগ, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি), বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগসহ (আইএমইডি) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি সূত্র জানায়, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি বিষয়ে কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ২৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পে এর বাধ্যবাধকতা আছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি দেশের উন্নয়নে কতটুকু ভূমিকা রাখবে, এর সফলতার সম্ভাবনা কতটুকু এসব বিষয় জানতে সম্ভাব্যতা যাচাই জরুরি। এ অবস্থায় সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর কারণ জানতে চাওয়া হয় বৈঠকে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, নির্বাচন ব্যবস্থায় অধিকতর স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ক্রয়, সংরক্ষণ ও ব্যবহার শীর্ষক প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি নেই বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় অনুমোদনের জন্য ইভিএম প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

গতকাল একনেক সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে স্বল্প পরিসরে ইভিএম ব্যবহার হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। আমরা শুধু প্রকল্প অনুমোদন দিচ্ছি। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে এটা একদিন না একদিন আমাদের ব্যবহার করতেই হবে। এ প্রকল্পে আমরা ধাপে ধাপে বরাদ্দ দেব। সম্ভাব্যতা যাচাই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হয়েছে। এতে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তাই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা নেই।

নির্বাচন কমিশনের পাঠানো প্রস্তাবে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৮২৯ কোটি সাত লাখ টাকা। ব্যয়ের শতভাগ অর্থ সরকারের কোষাগার থেকে আসবে। এর আওতায় এক লাখ ৫০ হাজার ইভিএম কেনা হবে। প্রকল্পে ইভিএম সংগ্রহে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে তিন হাজার ৫১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সফটওয়্যার কেনা হবে ৫০ কোটি ৯০ লাখ টাকার। আসবাবপত্র ক্রয়ে ৭৫ কোটি ৩৩ লাখ ও গাড়ি কেনায় তিন কোটি ৩২ লাখ টাকাসহ মূলধন খাতে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে তিন হাজার ৬৪৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা।