• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ৮ মহররম ১৪৪০
BK
কৃষক বাতায়ন

লিটার পদ্ধতিতে মুরগি পালন

লিটার পদ্ধতিতে মুরগি পালন
ছবি : তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী

‘লিটার’ শব্দের অর্থ পশুপাখির বিছানা। ঘরের মেঝেতে মুরগির মলমূত্র লেপ্টে যেন না যায় সেজন্য কাঠের গুঁড়া, ধানের তুষ, ছাই এসব দিয়ে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বিছানা তৈরি করা হয়। লিটার পুরু করে দিলে তাকে বলে ডিপলিটার। লিটারে ব্রয়লার আর ডিপলিটারে লেয়ার মুরগি পালন করা উত্তম।

লিটার ও ডিপলিটারে মুরগি পালনের ক্ষেত্রে প্রথমেই চলে আসে এর বাসস্থানের কথা। মুরগির ঘর হতে হবে বেশ খোলামেলা। তা অবশ্যই পূর্ব-পশ্চিম দিক লম্বালম্বি হতে হবে। এই পদ্ধতিতে সূর্যের কিরণ সরাসরি মুরগির ঘরে প্রবেশ করবে না এবং বাতাস ঘরের এক পাশ দিয়ে ঢুকে অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাবে। ঘরের মেঝে পাকা হলে ভালো হয়। পরিমিত আলো-বাতাস পাওয়ার জন্য ২ থেকে ২.৫ ফুট পাকা দেয়াল কিংবা বাঁশ দিয়ে বেড়া তৈরির করে এর উপর ২.৫ থেকে ৩ ফুট বাঁশের চটি দিয়ে জালের মতো বেড়া দিতে হবে। মেঝেতে প্রতিটি ব্রয়লারের জন্য জায়গা প্রয়োজন শীতকালে এক বর্গফুট, গ্রীষ্মে দেড় বর্গফুট এবং লেয়ারের জন্য উভয় ঋতুতে দুই বর্গফুট। মুরগির বয়স ও আকার ভেদে জায়গার পরিমাণ কমবেশি হতে পারে। ঘরে মুরগি দেওয়ার ৩-৪ দিন আগে লিটার সাজাতে হয়। ঘর শুকিয়ে লিটারের জন্য ২ ইঞ্চি এবং ডিপলিটার হলে ৬ ইঞ্চি পুরু করে উপকরণগুলো বিছাতে হবে।

লিটারে মুরগি পালনে সুবিধা অনেক। মুরগির পায়খানার সঙ্গে মিশ্রিত মূত্র লিটারে শুষে নেয়। ফলে ঘর থাকে শুকনো এবং দুর্গন্ধমুক্ত। এতে মুরগি আরাম অনুভব করে। শীতকালে শীত থেকে রক্ষা করে এবং গ্রীষ্মেও পায় স্বস্তি। এ ছাড়া মাছির উপদ্রব কম হয়। খাঁচায় পালন পদ্ধতিতে তারের সঙ্গে অনবরত ঘর্ষণের ফলে মুরগির পায়ের নিচে ফুলে যায় এবং পরে ক্ষত সৃষ্টি করে। কিন্তু লিটার পদ্ধতিতে এরকম হওয়ার আশঙ্কা  নেই। ডিপলিটার প্রতিদিন পরিষ্কারের প্রয়োজন হয় না। লিটার প্রক্রিয়াজাত করে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর খাদ্য তৈরি করা যায়। অকেজো ডিপলিটার দ্বারা জমির জৈবসার এবং মাছের খাদ্য তৈরি হয়। মুরগির ঘরের মধ্যে লিটার ব্যবহার করলে এক ধরনের পোকা, ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি হয়। লিটারের কার্যকারিতায় এসব মারা যায় এবং পুনরায় জন্মে। এভাবে লিটারে আমিষের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। মুরগি পা দিয়ে লিটার আঁচড়ায়, উল্টে-পাল্টে গোসল করে এবং লিটারে জন্মানো খাদ্য কুড়িয়ে খায়। এতে মুরগির স্বাস্থ্য থাকে ভালো।

আবদ্ধ অবস্থায় মুরগি পালনে লিটার পদ্ধতি শ্রেয়। এতে উৎপাদন খরচ কম পড়ে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয়  উপকরণগুলোও হাতের কাছে পাওয়া যায়। তাই সুস্থ এবং বেশি ডিম দেওয়া মুরগি চিহ্নিত করে তবেই পালন করা উচিত। এতে একদিকে যেমন রোগবালাইয়ের সম্ভাবনা কম থাকে, তেমনি খামারি হন লাভবান।

 

লেখক : টেকনিক্যাল পার্টিসিপেন্ট

কৃষিবিষয়ক আঞ্চলিক অনুষ্ঠান, বাংলাদেশ বেতার, বরিশাল