• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
ads
মাদকবিরোধী অভিযানের পেছনে চক্রান্ত রয়েছে : ফখরুল

জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বেচ্ছাসেবক ফোরামের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম

ছবি : বাংলাদেশের খবর

রাজনীতি

মাদকবিরোধী অভিযানের পেছনে চক্রান্ত রয়েছে : ফখরুল

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৯ মে ২০১৮

দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পেছনে সরকারের ভিন্ন ধরনের চক্রান্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশে প্রতিদিন মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু যাদেরকে হত্যা করা হচ্ছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। কারা আজকে বাংলাদেশে একটা নতুন পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য এসব করছে।

তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানকে শুধু মাদকবিরোধী অভিযান মনে করলে ভুল করা হবে। এর পেছনে ষড়যন্ত্র আছে। কোনো সভ্য দেশে এ রকম বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করা কল্পনাও করা যায় না। এর আগে ২০১৩ সালে বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনের আগে ও পরে এই সরকার রক্ত ঝরিয়েছে।

গত শনিবার মাদকবিরোধী অভিযানের সময় কথিত বন্দুকযুদ্ধে কক্সবাজারের টেকনাফে পৌর কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হক নিহত হন। এই প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সেই এলাকার সব মানুষ বলেছে যে পৌর কাউন্সিলরের মতো একজন নিরীহ ভালো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আগেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি দিয়েছিলেন যে তার আর্থিক সচ্ছলতা নেই। তিনি তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন। কাদের ইঙ্গিতে তার মতো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। কারা এই তালিকা তৈরি করেছে?

সরকারের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, আপনার ঘরকে সুন্দর করে রেখে দিয়েছেন। আপনার ঘরে যারা মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত, মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত, তাদের গায়ে আপনি ফুলের টোকাও দিচ্ছেন না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, কোনো স্বৈরাচারী সরকারকে আন্দোলন ছাড়া অন্য কোনোভাবে সরানো সম্ভব হয় না। সেই আন্দোলনের জন্য বিএনপি নেতাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। জেলে যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করতে। এজন্য অস্থির হওয়া যাবে না। এই মুহূর্তে ইস্পাতকঠিন ঐক্য দরকার। তার কাছ থেকে যখন শফিউল বারী বাবুকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল তখন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা কোথায় ছিলেন তা জানতে চান তিনি। দলে জবাবদিহিতা থাকতে হবে। তরুণদের জাগতে হবে। এখন না জাগলে আর কবে জাগবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো পথ নেই। নির্বাচন দিতে হবে। সেই নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। তা না হলে নির্বাচন কি হবে তা খুলনায় দেখেছেন।

স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ান উল হোসেন রিয়াজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আওয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মশিউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads