• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
‘ফিরতে শুরু করায়’ শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ কাদেরের

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

সংরক্ষিত ছবি

রাজনীতি

‘ফিরতে শুরু করায়’ শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ কাদেরের

 ‘চুমু’ বেরিয়েছে মুখ ফসকে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৬ আগস্ট ২০১৮

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরতে শুরু করেছে উল্লেখ করে তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এর আগে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা হলে দলীয় কর্মীরা ‘চুমু খাবে না’ বলে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক। গতকাল রোববার বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কাদের বলেন, ‘আগামীকাল (সোমবার) সড়ক পরিবহন আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হবে। এটা পরবর্তী সময়ে সংসদে পাস হবে। ৯ দফা দাবির যেগুলো আইনি কারণে বাস্তবায়ন হয়নি, তাও হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন।’

আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা হলে দলের কর্মীরা ‘চুমু খাবে না’ বলে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেজন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন ওবায়দুল কাদের। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত শনিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে হামলার প্রসঙ্গ ধরে তিনি গতকাল রোববার সকালে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, ‘এখন আপনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে গোলাগুলি করতে করতে আসবেন, তাদেরকে কি বল প্রয়োগ করবে না? চুমু খাবে?’

বিকালের সংবাদ সম্মেলনে এ বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করলে আমরা কি চুমু খাব- এ বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেলে দুঃখ প্রকাশ করছি। এ বক্তব্য মুখ ফসকে বের হয়ে গিয়েছে। রাজনীতিতে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারও হয়, কিন্তু কেউ আমার কাছে আশা করে নাই।’

শনিবার ও রোববার আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় কাদের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘যদি কেউ প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলার বিষয়ে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেবেন কি না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছি। এটা আমাদের দলীয় ফোরামে আলোচনা হবে। আরো একটু পরিস্থিতি দেখি।’

কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের বার বার বলেছেন শিক্ষার্থীদের ওপর বল প্রয়োগ করা যাবে না। কিছুক্ষণ আগেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা উপদেশ চেয়েছিলাম। তিনি আমাদের অল্প কথায় বলেছেন, ‘এ পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে। এই দুটি শব্দই তিনি বলেছিলেন।’ নেতাকর্মীদের প্রতি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সতর্কভাবে সবাইকে অপেক্ষা করার জন্য আহ্বান করছি। এখানে কোনোভাবে আমরা আক্রমণকারী হিসেবে চিহ্নিত হতে চাই না।’

আওয়ামী লীগ নেতারা দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ‘অশুভ শক্তি’ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছিল। কাদের বলেন, ‘আমরা গতকাল (শনিবার) বলেছিলাম, আমীর খসরুর বক্তব্যে প্রমাণ হয়েছে বিএনপি অরাজনৈতিক একটা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রঙ, রূপ দিতে চলেছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম সেই বক্তব্য সমর্থন দিয়ে প্রমাণ করলেন। এটা এখন আর কোনো গোপন বিষয় নয়।’ ‘ধর্ষিত হয়েছি’ দাবি করে যে তরুণী ফেসবুকে ভিডিও আপ করেছেন, তার সঙ্গেও বিএনপি জড়িত বলে দাবি করেন কাদের।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, একেএম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads