• বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
আ.লীগের মনোনয়ন চান অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী

আওয়ামী লীগের লোগো

রাজনীতি

আ.লীগের মনোনয়ন চান অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ৩০ আগস্ট ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টায় আছেন অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী, যাদের অধিকাংশই তরুণ। সব ঠিক থাকলে অক্টোবরের শেষে তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত দলের মনোনয়ন পেতে ওই অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী নিয়মিত এলাকায় যাতায়াত করছেন। সরকারি দলের প্রভাবশালী সদস্যসহ মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখেন এমন নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি বলছে, দেশের বর্তমান সংসদেও বড় সংখ্যক সদস্য কোনো না কোনোভাবে ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে মাঠের রাজনীতি করে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন, এমন রাজনীতিবিদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

টিআইবির এক জরিপে এর আগে জানা যায়, বর্তমান সংসদের ৫৯ শতাংশ সংসদ সদস্য ব্যবসায়ী। সংস্থাটির তথ্য মতে, ১৭৬ সংসদ সদস্য কোনো না কোনোভাবে ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএসহ পোশাক খাতের মালিকদের বড় একটি অংশ বর্তমান সংসদে রয়েছেন। তাদের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ একজন। যিনি শাশা গার্মেন্টসের চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে এর পরিচালক। অবশ্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ রাজনীতিবিদ হিসেবেও সমান পরিচিত। প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি চট্টগ্রামভিত্তিক সানোয়ারা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম একটি পোশাক কোম্পানির মালিক। এ ছাড়া বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু আবাসন খাতের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি এই খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের সভাপতিও ছিলেন।

মন্ত্রিসভার বাইরে সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি টিপু মুনশি। তিনি রংপুর-৪ থেকে এবারো মনোনয়ন চান।

ঢাকায় আবারো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান অরবিট সোয়েটার্সের উদ্যোক্তা পরিচালক আসলামুল হক ও বেস্ট ডেনিম অ্যাপারেলের মালিক কামাল আহমেদ মজুমদার। তার মালিকানায় একটি বেসরকারি টেলিভিশনও রয়েছে।

এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের সংসদ সদস্য ও মনট্রিস গ্রুপের এমডি আবদুল মজিদ মণ্ডল, ফাবিয়ান গ্রুপের এমডি তাজুল ইসলাম চৌধুরী কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তালকুদার আবদুল খালেক খুলনার সংসদ সদস্য ছিলেন। বর্তমানে মেয়র। তিনি বেসরকারি সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান।

গুঞ্জন রয়েছে, দোহার নবাবগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতির বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান। ২০০১ সালের নির্বাচনে তৎকালীন বিএনপি নেতা নাজমুল হুদার কাছে হেরে গিয়েছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক এই সভাপতি।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর। তিনি এরই মধ্যে বিভিন্নভাবে জনসংযোগ শুরু করেছেন। এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী। তিনি গাজী গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। 

এবারো পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের বেশ কয়েকজন নতুন প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে আছেন। প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চান বিজিএমইএ’র নেতা মোহাম্মদ নাসির। তিনি চট্টগ্রামের পটিয়া আসনটি চান। তিনি বলেন, আমি দেড় বছর ধরে এলাকায় জনসংযোগ করছি। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। এলাকার মানুষ আমাকে চায়।

বিজিএমইএ’র বর্তমান সহসভাপতি এসএম মান্নান কচি নির্বাচন করতে চান ঢাকা-১৬ আসন থেকে। তিনি অবশ্য ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মান্নান কচি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি ব্যবসায়ী হলেও ছাত্ররাজনীতি আমার শিকড়। মনোনয়ন পাব বলে বিশ্বাস আছে।

বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী খুলনা-২ থেকে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। ফলে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তার প্রার্থিতা প্রায় নিশ্চিত।

এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন এমন বেশ কয়েকজনও তৎপর হয়ে উঠেছেন। সংগঠনটির সাবেক সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন নরসিংদী-৪ থেকে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। তিনিও মনোনয়ন পাবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের খবরকে। বিকেএমইএ’র সাবেক সহসভাপতি আসলাম সানিও একই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চান।

এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মুনতাকিম আশরাফ কুমিল্লার চান্দিনা থেকে প্রার্থী হতে আগ্রহী। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য তার বাবা আলী আশরাফ। এফবিসিসিআইয়ের আরেক পরিচালক মোহাম্মদ বজলুর রহমান নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে মনোনয়ন পেতে জোর লবিং করছেন। তবে তার ভাই অধ্যাপক রেজাউল করিম কয়েক দফা বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন।

নারী উদ্যোক্তা ও নিটল নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা আহমাদও এবার মনোনয়ন চান আওয়ামী লীগের। তিনি কুমিল্লার হোমনা তিতাসে কার্যক্রম শুরু করেছেন। এই নারী উদ্যোক্তা রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের পরিচালক। 

মানিকগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে জাতীয় সংসদে আসতে চান তাবারাকুল তোসাদ্দেক হোসেন খান টিটু। তিনিও এরই মধ্যে জনসংযোগ শুরু করেছেন।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী থেকে প্রার্থী হতে চান ব্যবসায়ী আবু নাসের। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর পদত্যাগের পর উপনির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েও পাননি। তবে এবার তিনি আশাবাদী। নাসের বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করছি। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। আমি শুধু ব্যবসায়ী নই, ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করছি।

চুয়াডাঙ্গা থেকে এফবিসিসিআই পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা প্রার্থী হতে চান। তিনি জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুলেয়ার্স সমিতির নেতা। জামালপুর থেকে মনোনয়ন চাইবেন আরেক পরিচালক রেজাউল করিম রেজনু। তিনি জামালপুর চেম্বারের সভাপতি।

ময়মনসিংহ থেকে মনোনয়ন পেতে লবিং করছেন এফবিসিসিআই পরিচালক আমিনুল হক শামীম। সংগঠনটির নারী পরিচালক ও অভিনেত্রী শমী কায়সার নোয়াখালীতে মনোনয়ন চান বলে শোনা যাচ্ছে। জানতে চাইলে এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বাংলাদেশের খবরকে বলেন, কে, কোন দল থেকে নির্বাচন করবেন এটি তাদের নিজেদের ব্যাপার।

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এ প্রতিবেদককে বলেন, দেশের রাজনীতিতে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে রাজনীতি আর প্রকৃত রাজনীতিবিদদের কাছে থাকবে না। বহিরাগতরা দখল করে নেবেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads