• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

বিএনপির লোগো

সংগৃহীত ছবি

রাজনীতি

দুঃসময় পার করছে বিএনপি

  • রেজাউল করিম লাবলু
  • প্রকাশিত ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রতিষ্ঠার পর থেকে একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলেও বর্তমানে চরম দুঃসময় পার করছে বিএনপি। একাধিক দায়িত্বশীল নেতা দলের অবস্থা এমনটাই মনে করছেন। দলটির আত্মপ্রকাশ ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর। নেতারা বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শতাধিক মামলা মাথায় নিয়ে সুদূর লন্ডনে অনেকটা নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। দলের কয়েক লাখ নেতাকর্মী কারাগারে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র চার মাস বাকি থাকলেও অনেক বিষয়ে গুছিয়ে উঠতে পারেননি দলের দায়িত্বশীল নেতারা।

বাংলাদেশের খবরের সঙ্গে আলাপে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের চরম দুঃসময়ের কথা স্বীকার করে বলেন, দল প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি দুঃসময়ের মধ্যে রয়েছে তাদের দল। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, শিগগিরই দুঃসময় কেটে যাবে। জনগণকে আশার আলো দেখাবে বিএনপি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র চার মাস বাকি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে।

গত বছর ডিসেম্বরে দলের এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ মামলার সংখ্যা ৭৮ হাজার ৩২৩টি, তাতে আসামির সংখ্যা ৭ লাখ ৮৩ হাজার ২৩৮ জন। এ সরকারের শাসনামলে দলের ৭৪৭ নেতাকর্মী অপহূত হয়েছেন; সরাসরি ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে খুন’ হয়েছেন ৫২০ জন; ১৫৭ জন এখনো নিখোঁজ। নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৩৭ লাখ।

বিএনপির দফতর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল নেতাকর্মী কেউই রেহাই পাননি এ সরকারের হাত থেকে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শতাধিক মামলার আসামি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রায় ১০০ মামলার আসামি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্তমান সময়ের মতো দুঃসময় বিএনপি কখনো পার করেনি। স্বৈরাচার এরশাদের ৯ বছরের শাসনামল, ওয়ান-ইলেভেনের ফখরুদ্দীন-মঈন উদ্দিনের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের এতটা নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হতে হয়নি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পর্যন্ত বলেছেন, স্বৈরাচারী শাসনের দিক থেকে বর্তমান সরকার তাকেও হার মানিয়েছে।

তিনি বলেন, বিনা ভোটের বর্তমান সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের খুন, গুম করছে। কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজপথে নামা শিক্ষার্থী, নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকেও সরকার ভয় পাচ্ছে। তাদের আন্দোলনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে দমন করেছে।

দলের বর্তমান দুঃসময় সম্পর্কে দলের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে দায়ী করছেন। তবে নিজের দল ও অতীতে সরকার পরিচালনায় নিজেদের ভুলত্রুটির কথাও বলছেন কেউ কেউ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক ভাইস চেয়ারম্যান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, বিএনপি ইতিপূর্বে একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। ছিল জাতীয় সংসদের বিরোধী দলেও। চলার পথে বিভিন্ন ভুলত্রুটির পাহাড়ে চাপা পড়েছে তাদের দল।

কী ধরণের ভুলত্রুটি ছিল সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকাকালীন বিএনপির দল গোছানোর বিষয়ে বরাবরই ছিল অনীহা। যার কারণে এতদিনে দলকে সারা দেশে সুসংগঠিত করা যায়নি। তাই সেই দুর্বলতা সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। এর বাইরে দলের পররাষ্ট্রনীতিতে দূরদর্শিতার অভাব, সরকারকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার ব্যর্থতা, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির বাংলাদেশ সফরে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ না করা, ওয়ান-ইলেভেনে রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণে ব্যর্থতাসহ নানা কারণে আজ বিএনপির এই অবস্থা।

রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাৎ না করার বিষয়টি। প্রণব মুখার্জির বাংলাদেশ সফরের আগে ভারত সফর করেছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। তার ভারত সফরের সময় ভারত সরকার তাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছিল। তিনি তখন প্রণব মুখার্জিকে বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। বিনিময়ে প্রণব মুখার্জি যখন বাংলাদেশ সফরে আসলেন তখন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হরতালের কারণ দেখিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। বিষয়টি খোদ প্রণব মুখার্জিসহ ভারত সরকার ভালোভাবে নেয়নি। যদিও পরে খালেদা জিয়া ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, নিরাপত্তার কারণে তিনি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বাংলাদেশের খবরকে বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্তমান সময়ের মতো দুঃসময় বিএনপি অতীতে কখনো পার করেনি। এতটা নিপীড়ন, নির্যাতনের শিকার কখনো হননি দলের নেতাকর্মীরা।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads