• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
রাজনীতিতে ইভিএম বিতর্ক

ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)

সংগৃহীত ছবি

রাজনীতি

রাজনীতিতে ইভিএম বিতর্ক

  • আফজাল বারী
  • প্রকাশিত ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

চলমান নানা ইস্যুর ভিড়ে রাজনীতিক অঙ্গনে তুমুল বিতর্ক তুলেছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। গত সংসদ নির্বাচনের আগের চিত্রও ছিল একই। একাদশ সংসদের ভোটগ্রহণে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে খোদ নির্বাচন কমিশনার বেঁকে বসেছেন, ঘোর আপত্তি দিয়েছেন। ক্ষমতাসীন দল ‘হ্যাঁ’ বললেও প্রতিপক্ষের এক কথা- ‘না’। তবে অনভিজ্ঞতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন  আলোচনা নেই।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের মতে, নির্বাচনের বাকি সময়ে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইভিএম ব্যবহার সম্ভব নয়। মেশিন কেনার চুক্তিতে সময় লাগবে অন্তত ৩ মাস। প্রশিক্ষণের জন্যও পর্যাপ্ত সময় দরকার। আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়, নির্বাচনের আগে ইভিএম হচ্ছে নতুন ইস্যু বা চাল। প্রতিপক্ষকে ব্যস্ত রাখার রাজনৈতিক কৌশল। এতে সফলতাও দেখা যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে সংসদ নির্বাচনে ১০০ আসনে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

১৯৬০ সালে প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে ইভিএম প্রস্তুত করা হয়। এর কার্যকারিতা নিয়ে খোদ সে দেশটিতেই প্রবল বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ডিআরই পদ্ধতিতে ই-ভোটিংয়ের ফলে নির্বাচনী কারচুপির ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে। এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন ২০০৮ সালে স্থানীয় নির্বাচনে দেশে ইভিএমের প্রচলন করেছিল।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন গতকাল বাংলাদেশের খবরকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের অল্প সময় বাকি। এর মধ্যে এতগুলো মেশিন কেনা ও আইন সংশোধনের উদ্যোগে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার ভালো। তবে তার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভোটারদের এর ব্যবহার শেখানো এবং জনগণকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা জরুরি। এ নিয়ে সব দলের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। এসবে অনেক সময় লাগবে।

বিএনপি এর ব্যবহার নিয়ে শুরু থেকে আপত্তি জানিয়ে আসছে। তাদের বক্তব্য, ভোট চুরির কৌশল বাস্তবায়নে ইভিএমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে সরকার। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, বিশ্বের ৯০ ভাগ দেশে নির্বাচনে এর ব্যবহার নেই। বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন, ইভিএম দিয়ে নির্বাচনে জালিয়াতি সম্ভব। এটি সহজেই হ্যাক করা যায়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক সেনা কর্মকর্তা ফারুক খান বলেন, উন্নত বিশ্বে ইভিএমে ভোট হয়।

যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, ইভিএমের যান্ত্রিক দুর্বলতার সুযোগে ভোট কারচুপি করা যায় বলেই বিভিন্ন দেশ এটা বাতিল করেছে। ভারতে বিরোধী দল এর বিরোধিতা করেছে। ইভিএম প্রস্তুতকারী দেশ আমেরিকাসহ পৃথিবীর বহু দেশে এর ব্যবহার নেই। আমরা যুক্তফ্রন্টের তরফ থেকে বিপুল টাকা খরচ করে ইভিএম সংগ্রহ এবং নির্বাচনে তা ব্যবহার না করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির চরমোনাই পীর বলেছেন, ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত দেশে নতুন সঙ্কট সৃষ্টি করবে। বিশ্বের ২০০ দেশের মধ্যে মাত্র চারটিতে এটি ব্যবহূত হয়। তাতেও বিতর্ক আছে। ২০-দলীয় জোটের শরিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া অভিযোগ করেছেন, আগামী নির্বাচনে ১০০ আসনে বিশেষ দল বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দিতেই ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টিকে দ্রুত আরপিওতে সংযোজন করা হয়েছে।

ইভিএম ব্যবহার না করার পক্ষে সাত কারণ উল্লেখ করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার ভিত্তিতে এর ব্যবহারের সম্ভাবনা না থাকা, বিনা দরপত্রে কেনা ইভিএমের কারিগরি পরীক্ষায় ঘাটতি, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা, আদালতে মামলার সম্ভাবনা, এর ব্যবহারে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব, ভোটারদের সন্দেহ ও অনভ্যস্ততা এবং জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে আরো সময়ের প্রয়োজন আছে বিধায়।

সরকারি ক্রয় আইনে (পিপিআর-২০০৮) বলা আছে, সম্ভাব্য সব দরদাতার কাছে পৌঁছানোর মতো সময় দিয়ে দরপত্র প্রকাশ করতে হবে। তার আগে প্রাক-দরপত্র সভার আয়োজন করতে হবে। এ সভার কার্য-বিবরণী বিতরণ করতে হবে পাঁচ দিনের মধ্যে।

এ বিষয়ে সরকারের কেন্দ্রীয় ক্রয় কারিগরি ইউনিটের (সিপিটিইউ) পরিচালক মো. শামিমুল হক বলেন, টেন্ডারের দলিল পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রকাশ করতে হবে। টেন্ডার দাখিলের জন্য অন্তত ৪২ দিন সময় দিতে হয়। প্রাথমিক যোগ্য দরদাতা নির্বাচনের জন্য মূল্যায়ন কমিটির সভা ডাকতে হবে। মূল্যায়নের পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে। বড় আকারের ক্রয় প্রস্তাব সাধারণত ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন করে। ক্রয় কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির পথ উন্মুক্ত হয়। আন্তর্জাতিক সময় বাকি। এর মধ্যে এতগুলো মেশিন কেনা ও আইন সংশোধনের উদ্যোগে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার ভালো। তবে তার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভোটারদের এর ব্যবহার শেখানো এবং জনগণকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা জরুরি। এ নিয়ে সব দলের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। এসবে অনেক সময় লাগবে।

বিএনপি এর ব্যবহার নিয়ে শুরু থেকে আপত্তি জানিয়ে আসছে। তাদের বক্তব্য, ভোট চুরির কৌশল বাস্তবায়নে ইভিএমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে সরকার। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, বিশ্বের ৯০ ভাগ দেশে নির্বাচনে এর ব্যবহার নেই। বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন, ইভিএম দিয়ে নির্বাচনে জালিয়াতি সম্ভব। এটি সহজেই হ্যাক করা যায়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক সেনা কর্মকর্তা ফারুক খান বলেন, উন্নত বিশ্বে ইভিএমে ভোট হয়।

যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, ইভিএমের যান্ত্রিক দুর্বলতার সুযোগে ভোট কারচুপি করা যায় বলেই বিভিন্ন দেশ এটা বাতিল করেছে। ভারতে বিরোধী দল এর বিরোধিতা করেছে। ইভিএম প্রস্তুতকারী দেশ আমেরিকাসহ পৃথিবীর বহু দেশে এর ব্যবহার নেই। আমরা যুক্তফ্রন্টের তরফ থেকে বিপুল টাকা খরচ করে ইভিএম সংগ্রহ এবং নির্বাচনে তা ব্যবহার না করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির চরমোনাই পীর বলেছেন, ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত দেশে নতুন সঙ্কট সৃষ্টি করবে। বিশ্বের ২০০ দেশের মধ্যে মাত্র চারটিতে এটি ব্যবহূত হয়। তাতেও বিতর্ক আছে। ২০-দলীয় জোটের শরিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া অভিযোগ করেছেন, আগামী নির্বাচনে ১০০ আসনে বিশেষ দল বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দিতেই ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টিকে দ্রুত আরপিওতে সংযোজন করা হয়েছে।

ইভিএম ব্যবহার না করার পক্ষে সাত কারণ উল্লেখ করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার ভিত্তিতে এর ব্যবহারের সম্ভাবনা না থাকা, বিনা দরপত্রে কেনা ইভিএমের কারিগরি পরীক্ষায় ঘাটতি, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা, আদালতে মামলার সম্ভাবনা, এর ব্যবহারে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব, ভোটারদের সন্দেহ ও অনভ্যস্ততা এবং জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে আরো সময়ের প্রয়োজন আছে বিধায়।

সরকারি ক্রয় আইনে (পিপিআর-২০০৮) বলা আছে, সম্ভাব্য সব দরদাতার কাছে পৌঁছানোর মতো সময় দিয়ে দরপত্র প্রকাশ করতে হবে। তার আগে প্রাক-দরপত্র সভার আয়োজন করতে হবে। এ সভার কার্য-বিবরণী বিতরণ করতে হবে পাঁচ দিনের মধ্যে।

এ বিষয়ে সরকারের কেন্দ্রীয় ক্রয় কারিগরি ইউনিটের (সিপিটিইউ) পরিচালক মো. শামিমুল হক বলেন, টেন্ডারের দলিল পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রকাশ করতে হবে। টেন্ডার দাখিলের জন্য অন্তত ৪২ দিন সময় দিতে হয়। প্রাথমিক যোগ্য দরদাতা নির্বাচনের জন্য মূল্যায়ন কমিটির সভা ডাকতে হবে। মূল্যায়নের পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে। বড় আকারের ক্রয় প্রস্তাব সাধারণত ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন করে। ক্রয় কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির পথ উন্মুক্ত হয়। আন্তর্জাতিক দরপত্রের আওতায় চুক্তি সম্পাদনে নোটিশ ইস্যুর ২৮ কর্মদিবসের মধ্যে চুক্তি করতে হয়। সবমিলে চুক্তি করতেই কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগবে বলে মনে করেন তিনি।

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads