• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
ads
আন্দোলনে নেতা নয়, কর্মীকেই শক্তি ভাবছে হাইকমান্ড

লোগো বিএনপি

রাজনীতি

আশাবাদী হয়ে উঠছে বিএনপি

আন্দোলনে নেতা নয়, কর্মীকেই শক্তি ভাবছে হাইকমান্ড

  • আফজাল বারী
  • প্রকাশিত ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

স্বল্প সময়ের নোটিশে বড় ধরনের শোডাউন করেছে বিএনপি। সব মহলেই আলোচনা হচ্ছে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশ নিয়ে। সমাবেশের শৃঙ্খলা এবং সরকারের উদারতাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। এ অবস্থা বিরাজ করলে রাজপথে রক্তপাত ফিরবে না এবং কাঙ্ক্ষিত নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হবে বলেও মনে করেন তারা। 

এদিকে বাধাহীন সফল সমাবেশে আশাবাদী হয়ে উঠছে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, আগামীর আন্দোলনে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব সঙ্কট সৃষ্টি হলেও সাধারণ নেতাকর্মীরাই নেতার ভূমিকা পালন করবে। এতে দলীয় প্রধান কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ নির্দলীয় সরকারের দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনে সফলতা মিলবে।

দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের’ দাবিতে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে দলটি। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে স্বাভাবিকভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পারেনি বিএনপি। সভা-সমাবেশে নাশকতামূলক ঘটনা ঘটতে পারে- এ শঙ্কায় অনুমতি দেয়নি পুলিশ। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর দলটি বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কর্মসূচি পালন করেছে, তাতেও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ছিল। দীর্ঘ আড়াই বছর পর ২৩ শর্তে গত জুলাইয়ে পল্টনে সমাবেশের অনুমতি দেয় সরকার। সেটা সুশৃঙ্খল ছিল। তাই এবার বিনাশর্তে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। সরকারের তরফ থেকে এটাকে নমনীয়তা বললেও বিএনপি বলছে বাস্তবতার আলোকে তারা সভার অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে।

বিএনপির সমাবেশ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নূরুল আমিন বেপারি বাংলাদেশের খবরকে বলেন, সমাবেশের প্রচারণা ছিল না। তারপরও স্বল্প সময়ের নোটিশে লাখো নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দিয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল। সাধারণ মানুষ যে সহিংসতামুক্ত ইতিবাচক রাজনীতি চায় দলটি সে বার্তাই পৌঁছে দিয়েছে। বিএনপির আগামীর চূড়ান্ত আন্দোলনে সমাবেশটি টনিক হিসেবে কাজ করবে। সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অন্যবারের তুলনায় এবার অনেকটাই নমনীয় ছিল বলেই যে সমাবেশ সফল হয়েছে এটাও বলতে হবে- যোগ করেন এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মতে, বিএনপির সমাবেশ ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য ইতিবাচক। সুশৃঙ্খল সমাবেশের মধ্য দিয়ে একদিকে নিজেদের নীতির পরিচয় দিয়েছে, অন্যদিকে যে আশঙ্কা থেকে পুলিশ বা সরকার এতদিন তাদের সভা-সমাবেশের অনুমতি দেয়নি তা ভুল প্রমাণিত করেছে। এভাবে সরকারের উদারতা এবং বিরোধী দলগুলো সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বজায় থাকলে আমরা আশা করতে পারি দেশে শান্ত পরিবেশে একটি নির্বাচন হতে পারে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের খবরকে বলেন, সারা দেশে নেতাকর্মী গ্রেফতার, বাসায় তল্লাশিসহ নানামুখী শঙ্কার মধ্যে বিএনপির সমাবেশে লাখো মানুষের উপস্থিতি বলে দেয় তারা সরকারের দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায়। নির্দলীয়, নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং গণতন্ত্রের ‘মাতা’ খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়। হাজার হাজার মামলা দিয়ে, কারান্তরীণ করে নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙতে পারেনি। বরং তারা শানিত হয়ে উঠছে। নেতাদের বন্দি রাখা হলেও কর্মীরাই নেতার ভূমিকা পালন করবে। বিএনপির শক্তির উৎস জনগণ।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, পুলিশ তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করুক আমরা এটা চাই। তাদের কাছে বিএনপি বিশেষ সুবিধা চায় না। পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে বিএনপি যেকোনো আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ দিতে সক্ষম হবে। স্বল্প সময়ের নোটিশে গত শনিবারের সমাবেশ তার প্রমাণ। 

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন বলেন, দীর্ঘদিন পর মুখিয়ে থাকা নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাবেশে অংশ নিয়েছে। বিনা প্রচারে স্বল্প সময়ের যে সংখ্যক লোকসমাগম হয়েছিল তাতে বোঝা যায় নির্যাতন করেও বিএনপিকে স্তব্ধ করা যায়নি, যাবে না। আগামীর আন্দোলন সংগ্রামের একটি বার্তা মিলেছে বিএনপির এ সমাবেশ থেকে। 

মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, বিএনপির সমাবেশে লোকসমাগম বলে দেয় মানুষ তাদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার। সরকার তাদের দমিয়ে রাখতে চায় কিন্তু সুযোগ পেলে জনগণ রাস্তায় নামবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। সমাবেশ থেকে সরকারের বোঝা উচিত মানুষ তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত দেখতে চায়। অতীতে হয়তো বাধা মেনে রাস্তায় নামেনি, ভবিষ্যতে ভোটের অধিকার ও খালেদার মুক্তির আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে বলে আশা করছি।

যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব বলেন, সারা দেশে গণগ্রেফতারের মধ্যেও বিএনপির সমাবেশ ছিল জনাকীর্ণ। তার মানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা, বিএনপির দাবির প্রতি সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছে। চূড়ান্ত আন্দোলনে সফলতা পাবে বলে আশার আলো দেখা যাচ্ছে।  

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads