• মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব জনগণই দেবে : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সংরক্ষিত ছবি

রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব জনগণই দেবে : ফখরুল

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

‘নির্বাচন হবেই এবং তা ঠেকানোর ক্ষমতা কারো নেই’— প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পুরো জাতি হতাশ হয়েছে। এই কথাগুলো বলেই তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চায়। ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে তাদের যত পরিকল্পনা আছে তা ভেঙে দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এসব বক্তব্যের জবাব জনগণই দেবে। গতকাল সুপ্রিমকোর্ট বার মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইয়ুথ পার্লামেন্ট-২০১৮ এর আয়োজনে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, তাতে জাতি হতাশ। এখন সবচেয়ে বড় সঙ্কট হলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। এটা এখন জনগণের সময়ের দাবি। এই দাবিকে তিনি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। আরে সংবিধান তো মানুষের তৈরি করা। এর আগে যে সংবিধান ছিল, তা তো তারা পরিবর্তন করেছেন। অসংখ্যবার কাটছাঁট করে তাদের সুবিধামতো করে নিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এখন যে পথে তারা এগোচ্ছে, এটা সম্পূর্ণ একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করার পথ। জনগণের রায় নেওয়ার পথ দেখা যাচ্ছে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার সারা দেশে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ধরপাকড় শুরু করে দিয়েছে। তারা বলে গণতন্ত্র আছে। কিন্তু এভাবে একদিকে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করবে আর অন্যদিকে তারা নির্বাচনের প্রচারণা চালিয়ে যাবে। এটা কোন ধরনের গণতন্ত্র।

তিনি বলেন, জনগণ আশা করেছিল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যেন একজন জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত হতে পারেন, সেই ব্যবস্থা তারা করবেন। কিন্তু সেটা তারা করেননি। এটা তাদের ব্যর্থতা। এর জন্য সব দায়দায়িত্ব তাদের নিতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি জনগণের দাবি নিয়ে লড়াই করছে। এটা বিএনপির দাবি নয়। জনগণ চায় এমন একজন প্রতিনিধি আসবেন, যিনি প্রকৃতপক্ষে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবেন। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। সেই দাবি নিয়ে বিএনপি কথা বলছে, সংগ্রাম করছে। এ জন্য খালেদা জিয়া আজ কারাগারে, তারেক রহমান দেশের বাইরে, হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। এ অবস্থা পরিবর্তনের জন্য জনগণই ব্যবস্থা নেবে। জনগণই প্রতিবাদ করবে।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করেই যদি নির্বাচন করে, তাহলে কী করবে বিএনপি- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপি ইভিএম রিজেক্ট করে দিয়েছে।

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ধারা অব্যাহত রয়েছে : এদিকে গতকাল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে এখন অন্ধকার শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ বিরাজ করছে। ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের মতো দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর বর্তমান সরকারের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের ধারা এখনো বয়ে চলেছে। নানাভাবে তাকে বিপর্যস্ত-বিপন্ন করার জন্য সরকার কূটচাল চেলেই যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সরকার একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের নামে অভিযোগপত্র দিতে পারেনি। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর সেই মামলায় সম্পূরক চার্জশিট দিয়ে তারেক রহমানের নাম দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এই নাম দেওয়া সরকারের প্রতিহিংসার চরিতার্থেরই নামান্তর। অর্থাৎ নির্দোষ তারেক রহমান আওয়ামী সরকারের আক্রোশের শিকার।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads