• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
বিএনপির তিন প্রস্তুতি

লোগো বিএনপি

সংরক্ষিত ছবি

রাজনীতি

বিএনপির তিন প্রস্তুতি

  • রেজাউল করিম লাবলু
  • প্রকাশিত ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদের ৩০০ আসনের জন্য তিন ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দলটি এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী তালিকার খসড়া প্রস্তুত করেছে। এর বাইরে ২০-দলীয় জোটের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ আসন ছাড় দিয়ে দ্বিতীয় তালিকা করা হয়েছে। বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য হলে নিজেরা ২০০ আসন রেখে বাকি ১০০টি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের জন্য ছাড় দিয়ে তৃতীয় খসড়া তালিকা করা হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের খবরকে বলেন, এই মুহূর্তে বিএনপি সংসদীয় আসন বণ্টন নিয়ে ভাবছে না। দল এখন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি নিয়ে আন্দোলনে আছে। সময় হলে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা হবে, তখন বলা যাবে। তবে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ৩০০ আসনে বিএনপি যাদের প্রার্থী করবে তাদের ইতোমধ্যে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন তারেক রহমান। ফোনেও তাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছেন তিনি। সবুজ সঙ্কেত পেয়ে ইতোমধ্যে নেতারা এলাকায় কাজ শুরু করেছেন।

ওই সূত্র আরো জানান, তবে ২০-দলীয় জোট এবং বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য হলে যেসব আসন ছাড়া হবে সেখানে বিএনপির প্রার্থীকে তারেক রহমান কথা বলে বসিয়ে দেবেন। বিএনপি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এলে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। ২০০১ সালের নির্বাচনেও বিএনপি যেসব দলীয় প্রার্থীকে বসিয়ে দিয়েছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পর তাদের মূল্যায়ন করা হয়েছিল।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরীর বরাত দিয়ে বলা হয়, তারা বিএনপির কাছে ১৫০ আসন চেয়েছেন। তবে গত ২০ জুলাই গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহী বলেন, এ বিষয়ে তিনি কাউকে কিছু বলেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে বিএনপিকে জানানো হয়েছে, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য হলে বিএনপিকে বড় ধরনের ছাড় দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে সেই ঐক্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে রাখা যাবে না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি বয়কট করেছিল। তবে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি রাখছে দলটি। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছেন, আগামী নভেম্বরে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা বাংলাদেশের খবরকে বলেন, তারা বিএনপির কাছে ৭০টি আসন চাইবেন। ৭০ আসনের প্রার্থীসহ একটি তালিকা বিএনপির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের চেষ্টা থাকবে ৭০টি। না হলে ৪৫টি আসন তাদের দিতেই হবে।

লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বাংলাদেশের খবরকে বলেন, তারা ৩৩টি আসনের একটি প্রার্থী তালিকা বিএনপির কাছে হস্তান্তর করেছেন। এই আসনগুলো নিয়ে তারা দরকষাকষি করবেন।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, তারা এখনো এ বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে তিনি মিরপুর থেকে নির্বাচন করতে চান। সে লক্ষ্যে তিনি কাজ করে চলেছেন। ঢাকা-১৫ আসনে তিনি গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আসনে ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন মরহুম হামিদুল্লাহ খান।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আমিনুর রহমান বলেন, তারা কোনো তালিকা বিএনপিকে দেননি। তবে তার দলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মুহাম্মদ ইব্রাহীম চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads