• বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
ads
ভোটের আগে চাপে ইউনূস

ড. মুহাম্মদ ইউনূস

সংরক্ষিত ছবি

রাজনীতি

ভোটের আগে চাপে ইউনূস

# গ্রামীণ ব্যাংকে অনিয়মের তথ্য চেয়ে গভর্নরকে সরকারের চিঠি # সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কাল অর্থমন্ত্রীর বৈঠক

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এখন সরগরম দেশ। রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে। চলছে জোটের কলেবর বাড়ানোর গোপন ও প্রকাশ্য চেষ্টা। আত্মপ্রকাশ করছে নতুন নতুন জোট। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নানা পক্ষ। এ পরিস্থিতিতে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টির উদ্যোগ চলছে। সরকার মনে করছে, দেশে-বিদেশে প্রভাবশালী হওয়ায় নির্বাচন সামনে রেখে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারেন, যা ক্ষমতাসীন দলকে বেকায়দায় ফেলতে পারে। তাই বিশিষ্ট এই ব্যক্তিকে চাপে রাখার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে ক্ষমতাসীনরা।

কয়েকটি সূত্র বলছে, আইনজ্ঞ ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনসহ বিশিষ্ট কয়েকজন যুক্তফ্রন্ট নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের পথে অনেকটা এগিয়েছেন। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট সম্প্রতি সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের বাসায় যান। সেটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস তার দেশি-বিদেশি শুভাকাঙ্ক্ষীদের ব্যবহার করে যাতে কলকাঠি নাড়তে না পারেন, সে বিষয়ে সতর্ক সরকার। তারই অংশ হিসেবে তাকে চাপে রাখার এ কৌশল।

সূত্রে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রীর সায় নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত ১৩ সেপ্টেম্বর একটি চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে। তাতে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে যত ধরনের অনিয়মের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক পেয়েছে তার বিশদ সরকারকে পাঠাতে বলা হয়েছে। একইভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যানকেও নোবেল বিজয়ীর কর ফাঁকির নথিপত্র পাঠাতে বলা হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকি বিষয়ে এনবিআর এর আগে কয়েক দফা অনুসন্ধান চালায়। তাতে এ অভিযোগের সত্যতাও মেলে। তবে ইউনূস সেন্টার বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পর গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা একটি রাজনৈতিক দল গঠনেরও উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে বিষয়টি তিনি বরাবরই এড়িয়ে গেছেন।

একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল বেলা ১১টায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সম্মেলন কক্ষে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকার সময় ড. ইউনূসের ক্ষমতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে আলোচনা হবে।

চলতি বছরের ঈদুল আজহায় একটি ম্যাগাজিনের ঈদ সংখ্যায় মহিউদ্দিন আহমদ লিখিত ‘১/১১’ প্রবন্ধে জেনারেল মইন ও ব্রিগেডিয়ার বারীর দুটি সাক্ষাৎকারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হতে সেনাবাহিনীর প্রস্তাবে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস কেন রাজি হননি এ বিষয়ে তথ্য উঠে আসে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দু’বছর মেয়াদের হওয়ায় তিনি দায়িত্ব গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেন বলে সাক্ষাৎকারে দাবি করা হয়।

তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক বিবৃতি দিয়ে এ বিষয়ে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ড. ফখরুদ্দীন আহমদের কেয়ারটেকার সরকার গঠনের আগে কী আলাপ হয়েছিল তাও জানিয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংকের এই প্রতিষ্ঠাতা।

সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি পুরনো হলেও সরকার বর্তমান পরিস্থিতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দিকে সতর্ক নজর রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে কয়েক দফা বলেছেন, ক্ষমতায় আসতে নানারকম ষড়যন্ত্র হচ্ছে। একই কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও। জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বাংলাদেশের খবরকে বলেন, যা হচ্ছে, তা নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। পুরনো বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। এ নিয়ে চিঠি চালাচালি ও বৈঠক হতেই পারে। এখানে রাজনীতি ও ভোটের গন্ধ খুঁজবেন না।

২০১১ সালে ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ থেকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আইন মোতাবেক ৭৫ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে সমালোচকরা বলছেন, রাজনৈতিক দল গঠনসহ বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদকালে তার ভূমিকায় সরকার নাখোশ হয়ে ওই কাজ করে। এরপর দেশের বড় অবকাঠামো পদ্মা সেতু থেকে বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়ার নেপথ্যে ড. ইউনূসের হাত রয়েছে বলে সরকার দাবি করে আসছে। তবে এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে বিবৃতি দিয়ে কয়েক দফা জানিয়েছে ইউনূস সেন্টার।

এদিকে ড. ইউনূসের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মওকুফ করা ঋণ ফেরত নিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার পারিবারিক প্রতিষ্ঠান নামে পরিচিত ‘প্যাকেজেস করপোরেশনকে’ নব্বইয়ের দশকে ৮৯ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়। পরে ২০০৫ সালে সুদসহ ওই ঋণের পুরো অর্থ মওকুফ করে দেয় গ্রামীণ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, অবৈধভাবে এই অর্থ মওকুফ করা হয়েছে। তাই সেই টাকা ফেরত দিতে হবে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads