• রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮, ৬ কার্তিক ১৪২৫
ads
অন্তর্জ্বালা থেকে সিনহা মনগড়া কথা বলেছেন : কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

সংগৃহীত ছবি

রাজনীতি

অন্তর্জ্বালা থেকে সিনহা মনগড়া কথা বলেছেন : কাদের

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা) তার আত্মজীবনীমূলক বইয়ে পদত্যাগে বাধ্য করাসহ যেসব অভিযোগ করেছেন সেগুলো মনগড়া কথা বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “তিনি (বিচারপতি সিনহা) সাবেক হয়ে গেছেন। সাবেক হওয়ার অন্তর্জ্বালা আছে। কী পরিস্থিতিতে সাবেক হয়েছেন তা সবাই জানে। বই লিখে মনগড়া কথা বলবেন বিদেশে বসে, সেটা নিয়ে কথা বলার কোনো প্রয়োজন আছে?”

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি থাকা অবস্থায় এখন বইতে যা লিখেছেন, তখন বলার সৎ সাহস একজন বিচারপতির কেন ছিলো না? এখন বিদায় নিয়ে কেন পুরানো কথা নতুন করে বলছেন, যা খুশি তাই বলছেন। এটা হয়, এটা হতেই পারে। এ নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসি’ বা ‘একটি স্বপ্নভঙ্গ : আইনের শাসন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র’ নামের ওই বইয়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি দাবি করেছেন, গোয়েন্দা সংস্থার হুমকিতে তিনি দেশত্যাগ ও পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।

বিশ্বখ্যাত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজান ডটকমের ওয়েবসাইটে বইটি বিক্রি হচ্ছে হু হু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে বইটির প্রচ্ছদ। কিন্ডেল ভার্সনেও এটি পাওয়া যাচ্ছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে এর বিক্রি শুরু হয়। ৬১০ পৃষ্ঠার এ বইয়ের মূল্য ১০ ডলার।

এস কে সিনহা লিখেছেন, সংসদের বিরুদ্ধে গিয়েছি বলে প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের লোকজন আমাকে অভিযুক্ত করেন। আইনমন্ত্রীসহ মন্ত্রীরা আমার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। যখন আমি আমার বাসভবনে অবরুদ্ধ ছিলাম, তখন বিচারপতি ও আইনজীবীদের আমার সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয়। গণমাধ্যমে খবর আসে, আমি অসুস্থ ও চিকিৎসা ছুটিতে আছি। অনেক মন্ত্রী বলেন, আমি চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাচ্ছি। তিনি আরো লিখেছেন, অধস্তন আদালতের একজন আইনজীবী থেকে বিচারিক সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ায় বিচার বিভাগের পরিবর্তন ও প্রতিবন্ধকতা দেখার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু ২০১৭ সালে স্বাধীন বিচার বিভাগের পক্ষে একটি ঐতিহাসিক রায় দেওয়ার পর বর্তমান সরকার আমাকে বলপ্রয়োগে পদত্যাগ এবং নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে।

গ্রন্থের সারসংক্ষেপেই উঠে এসেছে ওই সময় তাকে ঘিরে সংঘটিত নানা ঘটনা। তিনি লিখেছেন, ২০১৭ সালে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে একটি ঐতিহাসিক রায় দেওয়ার পর সরকার আমাকে বল প্রয়োগের মাধ্যমে পদত্যাগ এবং নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে। অথচ সেটি ছিল বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সর্বসম্মত একটি রায়। রায়ের পর্যবেক্ষণটি সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের প্রশংসা অর্জন করে। দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার (প্রভাবশালী এ সংস্থাটির নাম উল্লেখ রয়েছে) হুমকির মুখে বিদেশে থাকা অবস্থায় পদত্যাগ করেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন পদত্যাগ করা সাবেক এই প্রধান বিচারপতি।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১১ নভেম্বর সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ হাই কমিশনে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন বিচারপতি এস কে সিনহা। এটাই ছিল বাংলাদেশে কোনো প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের প্রথম ঘটনা। ওইদিন সকালে পদত্যাগপত্রটি বঙ্গভবনে পৌঁছে। পরে ১৪ নভেম্বর তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে ১৩ অক্টোবর এক মাসের ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন।

বিচারপতি এস কে সিনহা ছুটিতে গেলে গত ২ অক্টোবর থেকে সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগের প্রবীণতম বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হন।

এর আগে ১ আগস্ট উচ্চ আদালতের বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দিয়ে করা ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রকাশিত হয়। রায়ে প্রধান বিচারপতির দেওয়া বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন মন্ত্রী, দলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আইনজীবীরা। তারা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিও তোলেন। সমালোচনার মধ্যেই ১ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা হঠাৎ করেই এক মাসের ছুটি চেয়ে চিঠি দেন। ১১ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার কথা উল্লেখ করে করা প্রধান বিচারপতির এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তার ছুটি ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। গত ১৩ অক্টোবর শেষ রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধান বিচারপতি। দেশ ছাড়ার আগে তিনি তার বাসভবনের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি অসুস্থ নই। বিচার বিভাগের স্বার্থে ফিরে আসব। ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে একটি মহল প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়েছে।’ তিনি একটি লিখিত বিবৃতিও সাংবাদিকদের দিয়ে যান। পরের দিন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন পাল্টা একটি বিবৃতিতে জানায় প্রধান বিচারপতির বক্তব্য বিভ্রান্তিমূলক। আরো বলা হয়, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ ওঠার পর তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এ কারণে তার সঙ্গে বসতে চাননি আপিল বিভাগের বিচারপতিরা।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads