• মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫
ads
তৃণমূলের মতামতেই আ.লীগের মনোনয়ন

লোগো আ.লীগের

রাজনীতি

তৃণমূলের মতামতেই আ.লীগের মনোনয়ন

  • হাসান শান্তনু
  • প্রকাশিত ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব ও কোন্দলের আসনে তৃণমূলের মতামতে প্রার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। গত দুই বছর ধরে চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে দলের কেন্দ্রীয় উদ্যোগেও তেমন সফলতা না আসায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শতাধিক সংসদীয় আসনে দলের শত্রু ও প্রতিপক্ষ এখন আওয়ামী লীগ সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এদের অনেকে দলের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে ইচ্ছামতো বক্তব্য দিয়ে মাঠ গরম করছেন। নেতাদের আশঙ্কা, এ অবস্থা চলতে থাকলে বেশ কয়েকটি আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্তরা আগামী নির্বাচনে বেকায়দায় পড়তে পারেন। সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে এ দ্বন্দ্ব-সংঘাতে অস্বস্তিতে নীতিনির্ধারকরাও। তৃণমূলের মতামতে প্রার্থী ঠিক হলে জনপ্রিয় প্রার্থী পাওয়ার পাশাপাশি কোন্দলও কমবে বলে মনে করছে দলের শীর্ষ পর্যায়। আগামী নির্বাচনের আগে তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ করে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা আওয়ামী লীগের এখন লক্ষ্য।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন্দল মেটাতে চায় আওয়ামী লীগ। চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর সঙ্গে বাকি মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সমঝোতা করে বিরোধ মিটিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি সাংগঠনিক বিরোধ মেটানো ও নির্বাচনী প্রচারণা সমানতালে চলবে। দলীয় কোন্দল নিরসনে ও মনোনয়ন চূড়ান্ত করার আগে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক করার পরিকল্পনাও রয়েছে দলের। কোন্দলজর্জরিত এলাকায় বিনা নোটিশে বা গোপনে শীর্ষ নেতাদের সফর ও দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের জন্য কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে দলটি। চলতি মাস থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। ওই সফর শেষে ফিরে বিভাগীয় নেতাদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করতে পারেন বলে জানান দলটির কয়েক নেতা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান এ প্রসঙ্গে গত বুধবার বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘আমাদের পার্লামেন্টারি বোর্ডের কাছে সারা দেশের তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিবেদন এসেছে। এ মাসের শেষ দিকে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করব। মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে তৃণমূলের নেতাদের পরামর্শ চাওয়া হবে। তৃণমূলের পরামর্শ আর দলের জরিপ- এ দুটোর সমন্বয় করে মনোনয়ন বোর্ড একজনকে মনোনয়ন দেবে।’

দলীয় সূূত্র জানায়, কোন্দল কোথায় আছে ও তার কারণ খুুঁজে বের করে সুপারিশ করতে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে কয়েকজন প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সেখানে কোন্দলের কারণ হিসেবে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে দলে ও সরকারে প্রভাবশালী কয়েক নেতার ইন্ধন এবং দলের মনোনয়ন পেলেই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো নিশ্চিত সংসদ সদস্য হয়ে যাওয়া বলে মনে করা। মনোনয়নকে ঘিরেই আপাতত কোন্দল প্রকট হচ্ছে। কোন্দল নিরসনে তাই কয়েক দিনের মধ্যেই সব সাংগঠনিক জেলায় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকা চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার জরিপে সংসদ সদস্যদের ব্যাপারে ইতিবাচক প্রতিবেদন এসেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে বিভিন্ন এলাকায় কোন্দল থাকায় দলে উদ্বেগ আছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে দল পুনর্গঠন শেষে কোন্দল দূর করতে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের ১৫টি দল সারা দেশ সফর করে। তার পরও অনেক এলাকায় কোন্দল নিরসন হয়নি। বরং দলের মনোনয়ন নিয়ে এ কোন্দল আরো উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, নেতা ও মনোনয়নপ্রার্থীদের বিরুদ্ধে অন্যদের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন বা অন্য কোনোভাবে অভিযোগ না করতে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশ দেওয়া হলেও অনেক এলাকার নেতাকর্মীরা তা মানছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন সামনে রেখে নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অসুস্থ এ প্রতিযোগিতা থামাতে পারছে না আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে চারজন সংসদ সদস্যকে এলাকায় ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছে দলের তৃণমূলের একাংশ। এ অবস্থায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে না পারা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংসদ সদস্যসহ দলের ১৩ নেতাকে ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে নোটিশও দেয় আওয়ামী লীগ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads