• রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮, ৬ কার্তিক ১৪২৫
ads
জাতীয় ঐক্যে প্রীতি না ভীতি

বা দিক থেকে ড. আতাউর রহমান, নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, ড. বদিউল আলম মজুমদার

সংগৃহীত ছবি

রাজনীতি

ডেডলাইন ৩০ সেপ্টেম্বর

জাতীয় ঐক্যে প্রীতি না ভীতি

  • মাহমুদ আল ফয়সাল
  • প্রকাশিত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাজনীতিতে নতুন ধারা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে -ড. আতাউর রহমান

ম্যারেজ অব কনভেনিয়েন্স ইতিবাচক পরিণতির দিকে যাবে না -নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ

ভারসাম্যহীন রাজনীতিতে নতুন প্রতিপক্ষ, ভয়ে আছে সরকার -ড. বদিউল আলম মজুমদার

 

নির্বাচন সামনে রেখে ড. কামাল হোসেন, অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আ স ম আবদুর রব ও মাহমুদুর রহমান মান্নাদের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে শামিল হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি। শনিবার ঢাকায় নাগরিক সমাবেশে তারা বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে। নাগরিক সমাবেশ থেকে জাতীয় ঐক্যের নেতারা ৩০ সেপ্টেম্বর ডেডলাইন দিয়ে সরকারকে কিছু দাবি মানার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তারা ঘোষণা করেছেন, এ সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ সৃষ্টির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং তফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি গ্রেফতার রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি ও নির্বাচন পর্যন্ত নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা যাবে না। এ ব্যাপারে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী ১ অক্টোবর থেকে সারা দেশে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ব্যানারে সভা-সমাবেশ শুরু হবে।

এই বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যে ভীতি না প্রীতির সঞ্চার হয়েছে- এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, নতুন এই ঐক্যে সরকারের বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। ‘অতি

জাতীয় ঐক্যে প্রীতি না ভীতি

 

 সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট’র মতোই সময়ের বিবর্তনে ঐক্যে বিভেদ দেখা দেবে। তবে অন্যদের মতে, নতুন এই ঐক্য সরকারের ভীতির কারণ হয়ে উঠছে। তারা সরকারকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জে ফেলবে।

অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান

বাংলাদেশ রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, বৃহত্তর এই ঐক্যের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারার সৃষ্টি হয়েছে। এটা সাময়িক এবং বেশি দিন টেকসই না হলেও তারা সরকারকে এরই মধ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, নতুন এই ফোরাম যদি সিভিল সোসাইটি ও পেশাজীবীদের শামিল করতে পারে তাহলে পুরো বিষয়টি সরকারকে দারুণ ভাবিয়ে তুলবে।

ড. আতাউর রহমান মনে করেন, বিএনপির নানামুখী ব্যর্থতা ও দূরদর্শিতার অভাবে দ্বিদলীয় ব্যবস্থার ছন্দপতন ঘটে এবং বিকল্প শক্তি হিসেবে ক্রমেই বিএনপি দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু নতুন এই প্রক্রিয়ায় শামিল হয়ে দলটি আবার সরকারের বিকল্প অবস্থান সুদৃঢ় করার পথে এগোলো। নির্বাচন খুবই কাছে এবং এই ঐক্য তাতে বড় ভূমিকা রাখবে। তিনি আরো বলেন, বৃহত্তর ঐক্যের পর ভবিষ্যতে দাবিদাওয়ার ভিত্তিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করে অহিংস আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হলে তা যৌক্তিক ও কাঙ্ক্ষিত পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারবে। নতুন এই ঐক্য জাতীয় পার্টির জন্যও চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক আতাউর রহমান।

নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ

জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষের একত্রিত হওয়া বা ‘ম্যারেজ অব কনভেনিয়েন্স’ হচ্ছে সাময়িক সময়ের বিষয়। ভালো না লাগা থেকে অর্থাৎ নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে সৃষ্ট ঐক্যের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় থাকে এবং তা ইতিবাচক পরিণতির দিকে যায় না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারকে পছন্দ না করার এই নীতির আলোকে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য হয়েছে। ফলে ‘ভাগের মা যেমন গঙ্গা পায় না’ কিংবা ‘অতি সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট’র মতোই অবস্থা হবে তাদের। বিদেশে পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য অনেকে বিয়ে করেন। পাসপোর্ট পেলে- দুজনার দুটি পথ দুদিকে চলে যায়। এদেরও অবস্থা শিগগির তেমনই হবে।

অধ্যাপক কলিমুল্লাহ বলেন, সাধারণ মানুষ অবশ্য নতুন এই ঐক্যকে কৌতূহল নিয়েই দেখছে। তাদের নিয়ে সরকারের ভয়ের খুব একটা কারণ আছে বলে তিনি মনে করেন না। তবে এই ঐক্যের একটা ‘নুইসেন্স ভ্যালু’ আছে এবং এখানকার শীর্ষ নেতারা সমাজে সুপরিচিত। তারা টেবিলের আলোচনা বা জাতীয় বিষয়ে শোরগোল ফেলতে সক্ষম বলেও মনে করেন অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ।

ড. বদিউল আলম মজুমদার

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বাংলাদেশের খবরকে বলেন, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য দেশের রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। গণতন্ত্রের জন্য বিরোধী দল ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকা খুবই জরুরি। এটা সরকারের জন্যও প্রয়োজন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দেশে রাজনৈতিক ভারসাম্য ছিল না। ২০১৪ সালের পর সংসদ ও সংসদের বাইরে কার্যত বিরোধী দল নেই। অথচ দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বিরোধী দলের কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় ঐক্য সেই চাহিদা পূরণ করবে।

ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, নতুন এই ঐক্য সরকারের জন্য ভীতির কারণ হয়ে উঠেছে। ‘আওয়ামী লীগ ছাড়া জাতীয় ঐক্য হবে না’- সরকারের এমন প্রচারণার মধ্য দিয়েই ভীতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য শক্তিশালী হলে এবং জনগণকে শামিল করতে পারলে সরকারকে তারা ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে। জনগণ গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন চায়। জাতীয় ঐক্য সেই দাবিতে সোচ্চার। সেই পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকারকে চাপ প্রয়োগ করে দাবি মানতে বাধ্য করবে বলেও মনে করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads