• মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫
ads
পরিধি বাড়তে পারে আ.লীগ জোটের

লোগো আ.লীগ

রাজনীতি

পরিধি বাড়তে পারে আ.লীগ জোটের

  • হাসান শান্তনু
  • প্রকাশিত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বিএনপি ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কর্মকাণ্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ঐক্য প্রক্রিয়ার নির্বাচনমুখী কর্মসূচিকে আপাতত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে দলটি। পাশাপাশি তাদের নির্বাচন বর্জন করে ‘অন্য পরিস্থিতি’ সৃষ্টির উদ্দেশ্য আছে কিনা- এ নিয়েও সতর্ক আওয়ামী লীগ। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পর শীর্ষ নেতারা তাকে জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে পর্যবেক্ষণ অবহিতের পর এ ব্যাপারে চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হবে। 

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক নেতা জানান, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ ঐক্য প্রক্রিয়ার ৫ দফা দাবি মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে ঐক্য প্রক্রিয়া নির্বাচনে অংশ নিলে আরো কয়েকটি দলকে নিয়ে আওয়ামী লীগ ‘নির্বাচনী জোটে’র পরিধি বাড়াবে। শেষ পর্যন্ত ঐক্য প্রক্রিয়া নির্বাচন বর্জন করলে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিসহ আরো কয়েকটি দলের জোটকে দিয়ে আলাদা হয়ে নির্বাচন করার পরিকল্পনাও আছে।

তবে ঐক্য প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য নির্বাচনে অংশ নেওয়া কিনা- এ নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতাই সন্দিহান। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ প্রসঙ্গে গতকাল সোমবার বলেন, ‘এক শ্রেণির বর্ণচোরা রাজনৈতিক নেতা ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। এক-এগারোর মতো চক্রান্ত করতে মহানগর নাট্যমঞ্চে দলছুট ও হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তিরা নাটক করেছেন। ঐক্যের নামে ভিন্ন কোনো ফন্দি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

সূত্র জানায়, নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে ঐক্য প্রক্রিয়া আন্দোলনের ডাক দিলে তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে কঠোর হবে সরকার। ঐক্য প্রক্রিয়ার মূল দাবি আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত জোটের দাবির মধ্যে পার্থক্য দেখছে না সরকার। ঐক্য প্রক্রিয়ার দাবি মানা না হলে আগামী ১ অক্টোবর থেকে সারা দেশে সভা ও সমাবেশের কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জোটটি। ঢাকার পর সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহেও তারা জনসভা করতে চায়। আপাতত এসব কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই। ঐক্য প্রক্রিয়ার কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে দেশে নির্বাচনী আবহ তৈরি হয়েছে আর নির্বাচন প্রতিযোগিতাপূর্ণ হচ্ছে- প্রমাণ হবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তাই তাদের বিষয়ে আপাতত কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে সূত্র জানায়।

দাবি বাস্তবায়নে ঐক্য প্রক্রিয়া সরকারের ওপর কতটুকু চাপ সৃষ্টি করতে পারে- এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন সম্মেলন ছাড়া ১৮ বছর ধরে গণফোরামের সভাপতি। ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দলের সম্মেলন কখন হয়েছে, তা হয়তো তারই মনে নেই। প্রকৃতপক্ষে এ জোট তাই জনবিচ্ছিন্ন, নামসর্বস্ব ও পরিত্যক্তদের।’

এদিকে মহাজোটের শরিক ১৪ দলকে নিয়ে পাল্টা কর্মসূচির আয়োজন করে দল ও সরকারের পক্ষে জনপ্রিয়তা প্রমাণের পরিকল্পনা নিয়েছে আওয়ামী লীগ। গতকাল ১৪ দলের পক্ষে কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশের চেয়ে আরো বড় পরিসরে সারা দেশে সমাবেশ ও মতবিনিময় করার পরিকল্পনা করছে ১৪ দল। এসব অনুষ্ঠানসহ নির্বাচনী প্রচারণা ও জনসভায় আওয়ামী লীগের নেতারা যুক্তফ্রন্ট, গণফোরাম এবং ঐক্য প্রক্রিয়ার সাংগঠনিক দুর্বলতা তুলে ধরবেন।

সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের জোটের পরিধিও বাড়তে পারে। প্রগতিশীল, বাম ও গণতান্ত্রিক ধারার কয়েকটি রাজনৈতিক দলের মহাজোটে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ইসলামী ধারার বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল মহাজোটের শরিক না হলেও ‘নির্বাচনী জোটে’ থাকতে পারে। নির্বাচনী জোট ও আওয়ামী লীগের ‘আদর্শিক জোট’ ১৪ দলীয় জোটের শরিকরাও একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেবে।

সূত্র জানায়, ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগের আলোচনা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বামদলগুলোর সঙ্গে, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ছোট ছোট অন্য দল আর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছেন। বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করার পরিকল্পনাও আছে। সিপিবির নেতৃত্বে গঠিত ৮টি দলের বাম গণতান্ত্রিক জোট, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বের জোটসহ আরো কয়েকটি দল আওয়ামী লীগের ‘নির্বাচনী জোটে’র শরিক হওয়ার ঘোষণা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই আসতে পারে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads