• রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮, ৬ কার্তিক ১৪২৫
ads
অলি কাদের ইবরাহিম এখন কোন পথে

বা থেকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) মুহাম্মদ ইব্রাহীম

সংগৃহীত ছবি

রাজনীতি

অলি কাদের ইবরাহিম এখন কোন পথে

  • রেজাউল করিম লাবলু
  • প্রকাশিত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচিত জাতীয় ঐক্যের সমাবেশে যোগ দেননি পরিচিত তিন নেতা। গত শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ওই নাগরিক সমাবেশ করেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে ঐক্যের ওই সমাবেশে যোগ দেননি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) মুহাম্মদ ইব্রাহীম। সমাবেশে যোগ দিতে বলা হয়নি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের শীর্ষ  শরিক জামায়াতে ইসলামীকেও। তবে সমাবেশে অংশ নেন জোটের বেশ কয়েকটি দলের নেতারা।

সমাবেশে দৃশ্যত আওয়ামীবিরোধী নেতা কাদের সিদ্দিকী, অলি আহমদ, ইবরাহিমের অনুপস্থিতি নিয়ে আছে আলোচনা-সমালোচনা। রাজনীতিতে অনেকে ভাবছেন, নাগরিক সমাবেশে না গিয়ে তারা বুঝাতে চেয়েছেন যে তারা জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় নেই। তাহলে তারা কি সরকারি দলের সঙ্গে? নাকি স্বতন্ত্র অবস্থানে?

এ নিয়ে বাংলাদেশের খবরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সমাবেশে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতারা বলেন, তারা জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া কিংবা যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে নেই।

এলডিপি ও কল্যাণ পার্টির নেতারা জানান, নাগরিক সমাবেশে যোগ না দিলেও তারা বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের সঙ্গে রয়েছেন। পাশাপাশি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার যে উদ্যোগ বিএনপি নিচ্ছে তার সঙ্গেও আছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।

নাগরিক সমাবেশে যোগ না দেওয়া ও এলডিপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জানতে চাইলে এলডিপির সাধারণ সম্পাদক রেদোয়ান আহমেদ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, পার্টির চেয়ারম্যান পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভারতে গিয়েছিলেন। তাই তিনি আসতে পারেননি। তিনি বলেন, তারা সমাবেশে অংশ না নিলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের সঙ্গে আছেন। এছাড়া বিএনপি যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে চাইছে সে প্রক্রিয়ায়ও এলডিপি আছে। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে যে উদ্যোগ নেওয়া হবে তার সঙ্গে অবশ্যই থাকবে এলডিপি।

নাগরিক সমাবেশে এলডিপিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কি না জানতে চাইলে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা আ ব মোস্তাফা আমীন বাংলাদেশের খবরকে বলেন, এলডিপির চেয়ারম্যান দেশে ছিলেন না।

নাগরিক সমাবেশে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া ও সম্মানের সঙ্গে আমন্ত্রণ না জানানোর কারণে তাদের পার্টির চেয়ারম্যান নাগরিক সমাবেশে যোগ দেননি। গণফোরাম কিংবা বিএনপির পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ না জানানোয় তারা সমাবেশে যোগ দেননি।

সমাবেশে এলডিপি, কল্যাণ পার্টি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন না। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী নিজেই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া কিংবা যুক্তফ্রন্টে না থাকার ঘোষণা দেওয়ায় তাকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের শরিক সব দলকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়ে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বাংলাদেশের খবরকে বলেন, সমাবেশ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। ২০-দলীয় শরিকদের কারো সঙ্গে কথা হয়নি। তবে শরিকদের মধ্যে কেউ কেউ এসেছিলেন। তিনি বলেন, জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো ঐক্য হবে না। জামায়াতের বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার।

জোট শরিকদের অনেককে সমাবেশে যোগ না দেওয়া নিয়ে ২০-দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, জোটের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তারা বৈঠক করেছেন। জোটের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে তাদের সম্মতি আছে। জোটের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে অগ্রগতি হলে নতুন বৈঠক ডেকে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, নাগরিক সমাবেশ ছিল জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্টের কর্মসূচি। সেখানে তারা কাদের আমন্ত্রণ জানাবেন সেটা তাদের বিষয়।

এলডিপির সাধারণ সম্পাদক রেদোয়ান আহমেদ বলেন, নাগরিক সমাবেশে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে জিজ্ঞেস করেছিলেন। জবাবে সময় থাকলে তাকে যেতে বলেছিলেন। তবে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আমিনুর রহমান বলেন, তাদেরকে বিএনপির পক্ষ থেকেও কিছু বলা হয়নি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads