• মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫
ads
রাজনীতিতে সংঘাতের আশঙ্কা

২৯ সেপ্টেম্বরকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

সংরক্ষিত ছবি

রাজনীতি

রাজপথ দখলের ঘোষণা দু’পক্ষের

রাজনীতিতে সংঘাতের আশঙ্কা

  • রেজাউল করিম লাবলু ও হাসান শান্তনু
  • প্রকাশিত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

২৯ সেপ্টেম্বরকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ওইদিন ক্ষমতাসীন ১৪-দলীয় জোটের সমাবেশ আগেই ঘোষণা করা ছিল। কিন্তু গতকাল ওইদিনই বিএনপি তাদের সমাবেশ ডেকেছে, যেটা ২৭ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা ছিল। এ নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে দু’পক্ষই পরস্পরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। 

গতকাল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক সভায় দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে কোনো অশুভ শক্তি বিএনপি-জামায়াতকে সমর্থন দেওয়ার নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা মোকাবেলার জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। তারা যদি নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে তাহলে হাত-পা ভেঙে দেবেন।

এর পাল্টা হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আবদুস সালাম গতকাল বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর জনসভা সফল করতে বিএনপি রাজপথে থাকবে। আওয়ামী লীগ যেন পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যারাকে রেখে শুধু নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে নামে।

এ ধরনের পরস্পরবিরোধী ঘোষণাকে ভালো চোখে দেখছেন না জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান। তিনি বলেন, অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ যদি আগে ঘোষণা দিয়ে থাকে তাহলে একই দিন বিএনপির সমাবেশ ডাকা ঠিক হয়নি। তারা অন্য কোনো দিন সমাবেশ করতে পারত।

তিনি আরো বলেন, সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন। সে চেষ্টা না করে পাল্টাপাল্টি অবস্থান দেশকে রাজনৈতিক সঙ্কটের দিকে নিয়ে যাবে।

গত সোমবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছিলেন, ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে বিএনপি। বিকালে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় ২৯ সেপ্টেম্বর ১৪ দল রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে সমাবেশ করবে। এর এক দিন পর গতকাল সকালে নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, তারা ২৭ নয় ২৯ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবেন। 

জনসভার তারিখ হঠাৎ দুই দিন পেছানোর কোনো কারণ জানাননি রিজভী। তবে তিনি বাংলাদেশের খবরকে বলেন, দলের সিদ্ধান্ত তিনি শুধু ঘোষণা করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করার জন্যই জনসভার তারিখ পেছানো হয়েছে। তাদের আর কোনো ছাড় নয়। এখন থেকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের সব অপকর্মের সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।

বিএনপির পক্ষ থেকে সকালে জনসভার তারিখ পরিবর্তনের পর গতকাল দুপুরে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে মহানগর ১৪ দলের সমাবেশের প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোটের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ঢাকা দখলে রাখার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, প্রত্যেক ঘর, বাড়ি, পাড়া-মহল্লা ও এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো অপশক্তি মাঠে নামতে না পারে। ওদের মাঠে ও রাস্তায় প্রতিহত করতে মহানগর ১৪ দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সভা শেষে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আগে থেকেই ঢাকা দখলে ছিল, ভবিষ্যতেও আমাদের দখলে থাকবে। শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশ শেখ হাসিনার দখলে থাকবে।  

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চক্রান্তকারীরা মাঠে নামবে। আমরা দেখব কারা নামে। আগামী একটি মাস আপনাদের কোনো কাজ নেই। ১৪ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পাড়া-মহল্লায় আপনারা সজাগ থাকবেন। কোনো চক্রান্ত ও নৈরাজ্য হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ইনশাল্লাহ আমরা প্রতিহত করব। 

তিনি বলেন, সঠিক কি না জানি না, খবরের কাগজে দেখলাম বিএনপি বলেছে, তারা নাকি আওয়ামী লীগের কৌশল অবলম্বন করছে। তাদেরকে বলছি, আওয়ামী লীগের কৌশলের দেখেছেন কী আপনারা? ভবিষ্যতে আরো দেখবেন। আওয়ামী লীগের কৌশল পরাজিত হয় না।

২৯ সেপ্টেম্বরের সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানিয়ে নাসিম বলেন, আপনারা ১৪ দলের প্রোগ্রামে আসবেন। সেখানে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতারা বক্তব্য রাখবেন। ঢাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে এ বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। ২৯ তারিখে ১৪ দলের সমাবেশ। আপনারা আপনাদের এমপিকে নিয়ে ঘরে ঘরে পৌঁছে যান।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আওয়ামী লীগ তো দখলের রাজনীতিই করে। তারা সারা দেশে মানুষের ঘর-বাড়ি, ব্যাংক, সোনা, কয়লা, পাথর, বিমানের কার্গোসহ সবকিছু দখল করে আছে। এ আর নতুন কী। তবে বিএনপিও শনিবার জনসভার দিন রাজপথে থাকবে। সাধারণ মানুষ কার সঙ্গে থাকে দেখা যাবে।

এর আগে সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জালিম সরকার ক্ষমতায় আছে, তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদেরকে রাস্তায় নামতেই হবে। দেশের মেহনতি কৃষক-শ্রমিক সর্বসাধারণের সবচেয়ে প্রিয় নেত্রী কারাগারে ধুঁকে ধুঁকে মরবেন আর আমরা চুপচাপ বসে থাকব, এটা হয় না। এটা নিজের সঙ্গে নিজের প্রতারণা।

একই অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নেতাকর্মীদের ১ অক্টোবর থেকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরুর ‘সর্বাত্মক প্রস্তুতি’ নিতে বলেছেন। তিনি বলেন, আমরা এবার খালি মাঠে গোল দিতে দেব না। জনগণকে নিয়েই আমরা মাঠে থাকব। তবে ১ অক্টোবর তারিখটি তিনি নির্দিষ্ট করে কেন বললেন, তার কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads