• বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
ads
আ.লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে বিশেষায়িত সমরাস্ত্র হামলা

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

সংরক্ষিত ছবি

রাজনীতি

রায়ের পর্যবেক্ষণ

আ.লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে বিশেষায়িত সমরাস্ত্র হামলা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১১ অক্টোবর ২০১৮

একুশ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে বিশেষায়িত সমরাস্ত্র আর্জেস গ্রেনেডের প্রয়োগ ঘটানো হয়। দলটির নেতাকর্মীসহ ২৪ জনকে হত্যা ও শতাধিক নেতাকর্মীকে মারাত্মকভাবে জখম করা হয় মর্মে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসিকিউশন পক্ষ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের শাস্তি প্রদান যুক্তিসঙ্গত বলে এ আদালত মনে করেন। 

গতকাল বুধবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন রায়ের পর্যবেক্ষণে এ মন্তব্য করেন। আদালত আরো বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার হীন প্রচেষ্টা চালানো হয়। ‘শেখ হাসিনাকে হালকা নাশতা করানো হবে’- এ উদ্ধৃতি দিয়ে দেশীয় জঙ্গি সংগঠনের কতিপয় সদস্য আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সহায়তায় হামলা চালায়। তৎকালীন রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটনাস্থল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ২৩ নম্বর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর সামনে যুদ্ধে ব্যবহূত বিশেষায়িত মারণাস্ত্র আর্জেস গ্রেনেড বিস্ফোরণের মাধ্যমে ঘটনা ঘটায় তারা। প্রশ্ন ওঠে, কেন এই মারণাস্ত্রের ব্যবহার? রাজনীতি মানেই কি বিরোধী দলের ওপর পৈশাচিক আক্রমণ? শুধু আক্রমণই নয়, দলকে নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টা। রাজনীতিতে অবশ্যম্ভাবীভাবে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ থাকবে। তাই বলে বিরোধী দলকে নেতৃত্বশূন্য করার প্রয়াস চালানো হবে? এটা কাম্য নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ক্ষমতায় যে দলই থাকবে, বিরোধী দলের প্রতি উদারনীতি প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকতে হবে তাদের। বিরোধীদলীয় নেতাদের হত্যা করে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ফায়দা অর্জন করা মোটেই গণতান্ত্রিক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ নয়।

আদালত বলেন, সাধারণ জনগণ এ রাজনীতি চায় না। সাধারণ জনগণ চায়, যেকোনো রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশে যোগ দিয়ে সেই দলের নীতি, আদর্শ ও পরিকল্পনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান ধারণ করা। আর সেই সভা-সমাবেশে আর্জেস গ্রেনেড বিস্ফোরণ করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণকে হত্যার এ ধারা চালু থাকলে পরবর্তী সময়ে দেশের সাধারণ জনগণ রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়বে। এ আদালত চায় না সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগা শরীফের ঘটনা, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ওপর নৃশংস হামলা, রমনার বটমূলে সংঘটিত বোমা হামলা এবং এ মামলার ঘটনায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নৃশংস বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটুক।

সাক্ষীদের দুর্বিষহ জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে আদালত বলেন, এ আদালত সাক্ষীর কাঠগড়ায় গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত মাকে দুর্বিষহ কষ্ট পেয়ে মৃত্যুবরণ প্রত্যক্ষ করা সাক্ষী নাজমুল হাসান পাপন ও তার স্ত্রী রোকসানা হাসানের কষ্ট প্রত্যক্ষ করেছেন। আরো প্রত্যক্ষ করেছেন সাক্ষী উম্মে কুলসুম রেনুকা, সাক্ষী নুজহাত এ্যানী, সাক্ষী রাশেদা আক্তার রুমা, সাক্ষী নীলা চৌধুরীসহ ঘটনার সময় ঘটনাস্থল থেকে যারা গ্রেনেড হামলায় মারাত্মক জখম হয়ে দেশে-বিদেশে চিকিৎসার পরও এখনো দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন, যাদের চোখে ঘুম নেই, গ্রীষ্ম বা শীত সব সময়েই শরীরের বিভিন্ন অংশ স্প্লিন্টারের তীব্র যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছে, যাদের পরিবারের সুস্থ সদস্যরা প্রাণহীনভাবে বেঁচে রয়েছেন তাদের।

সাক্ষীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আদালত গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছেন সাক্ষী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি, সাক্ষী প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ ও অ্যাডভোকেট সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বাহাউদ্দিন নাছিম এমপির আদালতে প্রদত্ত সাক্ষ্য, ঘটনার তারিখে ঘটনাস্থলে যে মারাত্মক ও ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল সে মর্মে বক্তব্য।

আদালত গভীরভাবে সাক্ষী অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্তের জবানবন্দি পর্যালোচনা করেন। কারণ তিনি তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রীর চিকিৎসা করেছেন। ঘটনার সময় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ফলে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রীর ডান কানে জখম হয়। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে উল্লিখিত নৃশংস ও ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব বলে আদালত মনে করেন।

সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায় মূল ঘটনার পূর্বে বিভিন্ন স্থানে এ মামলার আসামিরা অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সভা করে পরিকল্পিতভাবে ২৩ নম্বর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের সামনে ঘটনার তারিখ ও সময়ে মারাত্মক সমরাস্ত্র আর্জেস গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ ২৪ জনকে হত্যা এবং শতাধিক নেতাকর্মীকে মারাত্মকভাবে জখম করে মর্মে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসিকিউশন পক্ষ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের শাস্তি প্রদান যুক্তিসঙ্গত বলে এ আদালত মনে করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads