• মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাংকে ধরনা

লোগো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

রাজনীতি

সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাংকে ধরনা

# ঝুঁকিমুক্ত শুল্ক খেলাপিরা # ঋণ শোধে খেলাপিমুক্ত হচ্ছেন # অনেকেই ঋণ নবায়ন করছেন

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ১৩ নভেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহীরা ব্যাংকে ধরনা দিচ্ছেন। তারা কোনো ব্যাংকের ঋণখেলাপি কি না সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। তারা ব্যাংকের মাধ্যমে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করছেন। এরই মধ্যে কেউ কেউ ব্যাংকের ঋণ হালনাগাদ করে নিয়েছেন। 

নির্বাচনের দিনক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। গত ৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। সেখানে ভোটগ্রহণের কথা ২৩ ডিসেম্বর বলা হলেও গতকাল সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দাবির মুখে ভোটগ্রহণের সময় পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর করা হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে এরই মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন আগ্রহীরা। প্রায় সব দল মনোনয়ন আবেদন ফরম বিতরণ শুরু করেছে।

এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে আগ্রহী প্রার্থীদের কর সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে শক্ত অবস্থান নেবে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। নির্বাচনে কোনো ধরনের বিতর্ক ও বাধা সৃষ্টি না করতে এই নীতিগত সিদ্ধান্ত কর প্রশাসনের। তবে যারা নির্বাচনে অংশ নেবেন তাদের যদি কর হালনাগাদ করা থাকে বা যাদের সার্টিফিকেট গ্রহণ করা দরকার তারা নিজেরা সংগ্রহ করতে পারবেন।

ভ্যাট ও শুল্ক খেলাপি ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হলে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, এবারের নির্বাচনটা চলে যাক, তারপর নতুন সরকারের প্রথম দিক থেকেই এ ব্যাপারে একটা উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বলে মন্ত্রিসভা থেকে সায় আসেনি।

তবে নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশ ব্যাংকের জালে পড়তে হবে আগ্রহী সব প্রার্থীকে। ঋণখেলাপি নন এমন সনদ নিতে হবে প্রার্থীদের। অটোমেটেড সিআইবি থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ব্যাপারে খুব সহজে তথ্য দিতে পারবে। এরই মধ্যে গ্রাহকের ঋণের তথ্য হালনাগাদ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রার্থী হতে ব্যাংকের দায় ঋণ পরিশোধ কিংবা পুনঃতফসিল করতে হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এরই মধ্যে গত তিন দিনে শতাধিক গ্রাহক যোগাযোগ করেছেন। এর আগে বেশ ক’জন গ্রাহক তাদের ঋণ নবায়ন করে নিয়েছেন। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেও অনেক গ্রাহক যোগাযোগ করেছেন।

ব্যাংকের সূত্র বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীরা ঋণ হালনাগাদ করে থাকেন। তবে ভিন্ন চিত্র ছিল দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। সেখানে বিনাভোটে ১৫৩ প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের এ সংক্রান্ত কোনো সনদ নিতে হয়নি। জনতা ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুছ ছালাম আজাদ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আমাদের ব্যাংকে বেশ কিছু গ্রাহক এসেছেন। যাদের অনেকের কাছে পুরনো ঋণ রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকা আদায় হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। সে মোতাবেক কোনো ব্যক্তির যদি এক টাকাও ঋণ থাকে তার রিপোর্ট পাঠাতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে। ফলে ছোট-বড় আকারের যে ঋণই থাকুক না কেন তা নিয়মিতকরণ করতে হবে। এবারই প্রথম ব্যাংকে যেকোনো পরিমাণের দায়ে আটকে যেতে পারে প্রার্থিতা। 

জানা গেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে বড় দল থেকে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী। তাদের অনেকের ব্যাংকে বড় আকারের খেলাপি ঋণ রয়েছে।

দোহার-নবাবগঞ্জ থেকে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতির বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান। অগ্রণী ব্যাংকের কাছে তার খেলাপি ঋণ সাড়ে ৫শ কোটি টাকা। বিপরীতে তিনি ৩শ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন।

বিজিএমইএ’র বর্তমান সহসভাপতি এস এম মান্নান কচি নির্বাচন করতে চান ঢাকা-১৬ আসন থেকে। তার খেলাপি ঋণ ১০৯ কোটি টাকা। তিনিও যোগাযোগ করেছেন জনতা ব্যাংকে। 

চলতি বছরের জুন মাস শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ। জুন প্রান্তিক শেষে ৫৭টি ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫২১ কোটি টাকা।

বর্তমান সংসদে থাকা আওয়ামী লীগের এমপি আসলামুল হক ঋণখেলাপি হয়েছেন। তার নর্থ পাওয়ার ইউটিলিটির কাছে শুধু ন্যাশনাল ব্যাংকেরই পাওনা ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। যার বড় অংশই খেলাপি হয়ে গেছে। রাজশাহীর এমপি এনামুল হকের নর্দান পাওয়ার সল্যুশন শীর্ষ ঋণ খেলাপির তালিকায়। তাকে ঋণ পরিশোধ করে নিতে হবে সিআইবি সনদ।

বিকল্পধারার মেজর (অব.) আবদুল মান্নান বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি থেকে নামে-বেনামে ঋণ নিয়েছেন। নির্বাচনে প্রার্থী হতে তাকেও সিআইবির মুখোমুখি হতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, নির্বাচনে কে প্রার্থী হতে পারবেন বা পারবেন না সেটি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। আমরা শুধু কমিশন থেকে যে তালিকা পাব সেটি যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ঋণখেলাপি কি না সেই রিপোর্ট দেব।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads