• বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে

লোগো নির্বাচন

রাজনীতি

বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যস্থতা ছাড়া

সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে

  • আহমদ আতিক
  • প্রকাশিত ১৪ নভেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনমুখী দেশের সব রাজনৈতিক জোট ও দল। সংশয়, উত্তেজনা শেষে ভোটে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে সবাই। সব দল ও জোটের কার্যালয় এখন উৎসবমুখর। গত শুক্রবার আওয়ামী লীগ, রোববার জাতীয় পার্টি ও সোমবার মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সব দল।

নির্বাচন নিয়ে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত সব দলের ভোটে অংশগ্রহণ নিয়ে চলছে জোর তৎপরতা। সব রাজনৈতিক দলের এ কর্মতৎপরতায় নজর কাড়ার বিষয় বড় ধরনের কথাবার্তা নেই বিদেশি কূটনীতিকদের। নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে মতভেদ-মতপার্থক্য শেষে সমাধানের পথ খুঁজে নিয়েছে সব রাজনৈতিক দল।

রাজনৈতিক সব দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে এই পরিবেশ অতীতে কখনো দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথমবারের মতো এই অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা রাখার দায়িত্ব সবার। এর আগে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের মতবিরোধে জড়িয়ে পড়ত বিদেশি কূটনীতিকরা। তাদের দৌড়ঝাঁপ ছিল উল্লেখ করার মতো। এবার সেখানে ব্যতিক্রম।

কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত উত্তম ব্যবস্থা এবং পরিবর্তনের সূচনা। সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের এ উদ্যোগ বিদেশিদের কাছেও নতুন চমক।

বাংলাদেশের বিগত কয়েকটি নির্বাচনের আগে বিবদমান রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতায় ঢাকায় আসন স্যার স্টিফেন নিনিয়ান, জিমি কার্টার ও অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর মতো কূটনীতিকরা। বিগত নির্বাচন নিয়ে ঢাকার বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে বেশ কয়েকটি গ্রুপও তৈরি হয়েছিল। টুইসডে, ফ্রাইডে ও ব্রেকফাস্ট গ্রুপগুলো বাংলাদেশের ঘরোয়া রাজনীতির সমাধান দিতে চেষ্টা করত। তাদের এ সমাধানের চেষ্টায় খুশি থাকত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের উদ্যোগে ভাটা পড়েছে। নির্বাচন নিয়ে কূটনীতিকরা অনেকটা নীরব। সদ্য বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূতও এ নিয়ে কথা বলেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ আয়োজনে বিদেশিদের কোনো হাত ছিল না এবং বিদেশি কোনো রাষ্ট্রদূত সংলাপ আয়োজনের কথা বলেননি।

তিনি বলেন, সংলাপের আয়োজন বাংলাদেশের নিজস্ব। নিজস্ব উদ্যোগে আয়োজিত এ সংলাপ কার্যকর হতে পারে বলে আশা তার। বিদেশি সহায়তা ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যে সংলাপ সবচেয়ে ভালো। তিনি প্রত্যাশা করেন, এর ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বিশ্বাসযোগ্য ও অবাধ নির্বাচন হবে, যেখানে জনমতের সত্যিকারের প্রতিফলন ঘটবে। তিনি এ সংলাপের উদ্যোগকে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ ও ‘অসাধারণ অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেন।

নির্বাচনের আগে বিবদমান রাজনৈতিক দলগুলো সংলাপে বসবে- এ ধারণা ছিল না বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে পরামর্শ দিয়ে আসা বিদেশি বন্ধুরাষ্ট্রের দূতদের। বিরোধী পক্ষের সংলাপে বসার অনুরোধে সরকারের পক্ষ থেকে হঠাৎ করেই সাড়া দেওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে বেশ চমকপ্রদ।

ঢাকায় নবনিযুুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহল্টজও গত ১ নভেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং ঐক্যফ্রন্টসহ অন্যান্য দল ও জোটের মধ্যে সংলাপকে স্বাগত জানিয়ে একে ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেন।

নির্বাচন নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র সচিব ওয়ালিউর রহমান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আগে বিভিন্ন সময়ে সমস্যা সমাধানে বিদেশিদের ডাকা হয়। ফাইনালি তারা ফেল করেন। এ ছাড়া বিগত সময়ে এখানকার কূটনীতিকদের মধ্যেও টুইসডে, ফ্রাইডে ও ব্রেকফাস্ট নামের কয়েকটি গোষ্ঠী তৈরি হয়। এটি টোটালি অবজেকশনাবল। আমাদের কী হয়েছে, আমরা কি ভুলে গেছি যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীন হয়েছি। আমরা একটি আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন জাতি। বিগত সেনা সরকারের সময়ও আমি তাদের বলেছি, এটা ইনসাল্ট টু আস।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সহসভাপতি হুমায়ুুন কবির এ বিষয়ে বলেন, এটি ইতিবাচক উন্নয়ন। আমাদের সমস্যাটা যদি আমরা নিজেরা সমাধান করতে পারি, সেটাই সর্বোত্তম। আমি বলব, এটি উত্তম ব্যবস্থা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মির্জা তাসলিমা সুলতানাও মনে করেন, বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কেটেছে।

পশ্চিমা একজন কূটনীতিক জানান, এখন তারা রুটিন কাজের অংশ হিসেবে এ দেশে নির্বাচন-পূর্ববর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, এ দেশের সমস্যা এ দেশকেই সমাধান করতে হবে। বাইরের কেউ এসে সমাধান করতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক মতপার্থক্য নিরসনে ‘হোম-মেড সলিউশন’ (নিজস্ব সমাধান) প্রয়োজন। সমাধানটি এমন হওয়া উচিত যা সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads