• সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

তফসিল পেছানোর দাবিতে আজ ইসিতে যাবে ঐক্যফ্রন্ট

ঐক্যফ্রন্টের নেতারা

সংগৃহীত ছবি

রাজনীতি

তফসিল পেছানোর দাবিতে আজ ইসিতে যাবে ঐক্যফ্রন্ট

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৪ নভেম্বর ২০১৮

জাতীয় নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল এক মাস পেছানোর দাবি তুলে ধরতে আজ বুধবার নির্বাচন কমিশনে যাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে ফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এ কথা জানান। জানা গেছে, ফ্রন্টের বৈঠকে নির্বাচনের ইশতেহার তৈরির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে এ পর্যন্ত ছয়জনকে যুক্ত করা হয়েছে। এরা হলেন- বিএনপির পক্ষে ড. মাহফুজ উল্লাহ, গণফোরামের পক্ষে আ ও ম শফিক উল্লাহ, নাগরিক ঐক্যের ডা. জাহেদ উর রহমান, জেএসডির পক্ষে শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের পক্ষে অধ্যক্ষ ইকবাল সিদ্দিকী এবং ফ্রন্টের নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এ ছাড়া বৈঠকে আগামী শুক্রবার প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন এক মাস পিছিয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমরা আগামীকাল (আজ) দুপুরে নির্বাচন কমিশনে যাব। ড. কামাল হোসেনসহ জাতীয় নেতারা সেখানে থাকবেন। আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশন আমাদের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা করতে ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু তা করা হয়নি। এতে আমরা অত্যন্ত হতাশ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট করে বলেছেন, তফসিলের তারিখ আর পেছানো হবে না- এমন প্রশ্নের জবাবে ফ্রন্টের এই মুখপাত্র বলেন, আমরা সেজন্যই যাচ্ছি। উনি (সিইসি) স্পষ্ট করে বললে তো হবে না। আমরা আমাদের দাবি-দাওয়াগুলো অবশ্যই বলব। সিইসি তো সব একাই বলে যাচ্ছেন।

কেন নির্বাচনের তফসিল আবারো পেছানোর দাবি তার ব্যাখ্যা করে ফখরুল বলেন, নির্বাচন এক মাস পেছাতে আমরা দাবি করেছি এজন্য, যে সময় তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে সে সময়টিতে বড় দিনের ছুটি থাকে। ওই সময়টি আমাদের খ্রিস্টান সম্প্রদায় একটা উৎসবের আমাজে থাকেন, তাদের ধর্মীয় বড় দিন। এ ছাড়া নববর্ষ আসছে সেটা একটা বড় অনুষ্ঠান। একই সঙ্গে আমরা যে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আশা করছি, একটা সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন দেখার জন্য তাদের সেই সুযোগও থাকছে না।

ফখরুল জানান, আগামী ১৬ নভেম্বর জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে ড. কামাল হোসেন মতবিনিময় করবেন। এরপর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় হবে।

এ সময় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, দেশ সম্পূর্ণ অনিয়মে চলছে। আমরা সেটা নিয়মে আনতে চাই। নির্বাচন কমিশন ঠিকমতো চলছে না। তারা যে নির্বাচন সাত দিন পিছিয়েছে, সেটা অন্যায়। এটা তো সরকারের আহ্বান। বদরুদ্দোজা চৌধুরীর আহ্বান। আমরা তো এক মাস চেয়েছি। দেশের মানুষ এক মাস পেছানোর কথা বলেছেন।

প্রত্যেকটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল ঘোষণা করা হতো উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, কিন্তু এই নির্বাচন কমিশন সেটা করেনি। সেজন্য আমার সন্দেহ হয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভালোভাবে নির্বাচন করতে পারবেন কি না। এই সন্দেহ এখনো মানুষের মধ্যে আছে।

ড. কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে জেএসডির আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমদ, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads