• বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

বিদ্রোহী হলে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ছবি : সংগৃহীত

রাজনীতি

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের শেখ হাসিনা

বিদ্রোহী হলে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৫ নভেম্বর ২০১৮

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে বা তাদেরকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে। আগামী নির্বাচনকে দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে এবং এ নির্বাচনকে কোনো অবস্থাতেই অবহেলার চোখে না দেখতে মনোনয়নপ্রত্যাশীসহ দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। গতকাল বুধাবার সকাল থেকেই মনোনয়নপ্রত্যাশীরা জড়ো হন গণভবনের সামনে। সাক্ষাৎকার শুরুর পর প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে তাদের সঙ্গে কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। ক্ষমতায় আছেন, তাই এমনিতেই ক্ষমতায় চলে আসবেন- এমনটা ভাববেন না। জনগণের কাছে যেতে হবে, তাদের মন জয় করতে হবে। ঘরে ঘরে গিয়ে নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে হবে। কোনো রকম অবহেলা করলে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনের মতো হারতে হতে পারে। আর ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ আওয়ামী লীগকে হারাতে পারবে না। বিএনপি নির্বাচন থেকে সরেও দাঁড়াতে পারে- এমন আশঙ্কা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নির্বাচনের তারিখ পেছানোর দাবি করায় নির্বাচন কমিশন সেটাই করেছে। কিন্তু তারা আবারো নির্বাচন পেছানোর দাবি তুলেছে। এটার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে। তারা কখন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়, তারও ঠিক নেই। এর আগেও এটি করেছে। তাই সাবধান থাকবেন, বিএনপি যেন দেশের জন্য ক্ষতিকর কিছু করতে না পারে, আবারো জ্বালাও-পোড়াও করতে না পারে। নাশকতা ও সন্ত্রাসের চেষ্টা হলে প্রতিরোধ ও জনগণের পাশে থাকতে হবে।

সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের চারটি বার্তা দেন শেখ হাসিনা। বার্তাগুলো হচ্ছে, দলের নির্দেশ উপেক্ষা করে বিদ্রোহী প্রার্থী না হওয়া, দলের প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা, যারা বিভিন্ন পদে আছেন বা নির্বাচিত চেয়ারম্যান তাদের এবার মনোনয়ন না দেওয়া এবং মুখ দেখে নয়, জরিপ ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। এ সময় নৌকা প্রতীকপ্রত্যাশী নেতারা বলেন, দলীয় প্রধানের নির্দেশনার বাইরে যাবেন না তারা। গণভবনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সূত্র বাংলাদেশের খবরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে।

অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের জানান, আগামী সপ্তাহেই দলের মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার ধানমন্ডির কার্যালয়ে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও স্থান সঙ্কুলান ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের আশঙ্কায় গতকাল সকালে স্থান পরিবর্তন করে গণভবনে নেওয়া হয়।

বেলা ১১টায় সাক্ষাৎকার শুরুর পর প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে তাদের সঙ্গে কথা বলেন শেখ হাসিনা। দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা সাক্ষাৎপর্বে তার সঙ্গে কারো ব্যক্তিগত আলাপ হয়নি বলে জানান মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। দলের সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার পর্ব শেষ হয়। অনুষ্ঠানে দলের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও বক্তব্য দেন।

গণভবনে সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা দলের চার হাজারের বেশি মনোনয়নপত্র বিক্রিতে বিস্ময় প্রকাশ করেন। বলেন, এতে দলীয় ফান্ড সমৃদ্ধ হয়েছে ঠিকই, তবে সারা দেশে দল যে নেতৃত্বশূন্যতায় ভুগছে তা এর মাধ্যমে পরিষ্কার ফুটে উঠেছে।

তিনি বলেন, যেসব আসনে মনোনয়নপত্র বেশি কেনা হয়েছে, সেখানে নেতৃত্বশূন্যতা রয়েছে। সেখানে যত বড় নেতাই হোন না কেন, তারা পার্টিকে সংগঠিত করতে পারেননি। এটা তাদের নেতৃত্বশূন্যতার প্রমাণ।

দলের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে শেখ হাসিনা আক্ষেপ করে বলেন, আওয়ামী লীগের ব্যাপক সমর্থন আছে, ভোটও আছে। কিন্তু দৃশ্যমান কর্মী নেই। আমি ১৯৮১ সালে নেতৃত্বে এসে দলকে সংগঠিত করেছি। তিলে তিলে এই দলকে গড়ে তুলেছি। আমি, রেহানা, জয়, পুতুলসহ আমার পরিবারের সদস্যরা অনেক অসহায় সময় পার করেছি।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে ওবায়দুল কাদের পরে সংবাদ সম্মেলনে জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে যারা বিভিন্ন পদে আছেন বা নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না। মনোনয়ন যাকেই দেওয়া হোক না কেন, সবাইকে নৌকার পক্ষেই কাজ করতে হবে।

অন্যদিকে, আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন সংসদীয় বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনা। সংসদীয় বোর্ডের সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads