• বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের স্বাক্ষর রেখেছে আ.লীগ

লোগো আ.লীগ

রাজনীতি

বিদ্রোহী হওয়ার ‘সুযোগ’ নেই

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের স্বাক্ষর রেখেছে আ.লীগ

  • হাসান শান্তনু
  • প্রকাশিত ১৬ নভেম্বর ২০১৮

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অঙ্গীকারনামায় আগাম সই নিয়েছে আওয়ামী লীগ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তে আগাম এই অঙ্গীকারনামা। কোনো আসনে কেউ মনোনয়ন না পেলে শেষ মুহূর্তে যাতে দলকে ঝামেলায় পড়তে না হয়, সে জন্যই এ সিদ্ধান্ত। আগাম সই রাখায় কোনো প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এবার ‘বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ’ নেই বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন দলটির শীর্ষ নেতারা।

দলীয় সূত্র জানায়, দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হতে পারেন অনেকে, এমন শঙ্কা আছে শীর্ষ নেতাদের। ভোটের আগে মনোনয়নজনিত কোন্দল এড়াতে দলের নীতিনির্ধারকরা নানা পরিকল্পনা করছেন। বিগত কয়েক নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের শাস্তি না দেওয়ায় এবারো দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হলে কিছু হবে না, কোনো প্রার্থীর এমন মনে করার সুযোগ রাখতে চায় না দল।

অতীতে জাতীয় সংসদসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে দলের বিরুদ্ধে না যেতে ও বিদ্রোহী প্রার্থী না হতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়। শাস্তির কথাও বলা বলা হয়। তবে দলের সিদ্ধান্ত না মেনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়া নেতারা এখন দলেই আছেন। সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কঠোর বার্তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মুখে সীমাবদ্ধ থাকায়  একাদশ সংসদ নির্বাচনে এ ধরনের প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় দলের নেতারা। তখন দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার চেয়ে ক্ষমতাসীনদের ঘর সামলানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এ রকম বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে এবার আগে থেকেই সতর্ক আওয়ামী লীগ।

একাদশ এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকেটে প্রতি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী গড়ে ১৩ প্রার্থী। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার দলটির মনোনয়নপত্র বিক্রি দ্বিগুণ হয়েছে। মনোনয়ন পেতে আগ্রহীদের তালিকা দেখে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দলের সংসদীয় বোর্ডের এক সভায় কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করেন।

দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের দুই নেতা বাংলাদেশের খবরকে জানান, এবার দলের মনোনয়নপত্র করা হয় চার পৃষ্ঠার। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে যুক্ত করা হয় প্রার্থীর একটি অঙ্গীকারনামা। এতে লেখা আছে, দলের সংসদীয় বোর্ডের সিদ্ধান্ত প্রার্থী বিনা প্রতিবাদে মেনে নেবেন। মনোনয়ন না পেলেও দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনে অংশ নেওয়া যাবে না বা দলীয় প্রার্থীর প্রতিকূলে কাজ করা যাবে না। অঙ্গীকারের ব্যত্যয় ঘটলে ওই প্রার্থী তাৎক্ষণিকভাবে দল থেকে বহিষ্কৃত বলে বিবেচিত হবেন।

দলীয় সূত্রমতে, আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ওই অঙ্গীকারনামায় সই করেছেন। অঙ্গীকারনামায় প্রার্থীরা শুধু তাদের নির্বাচনী সংসদীয় আসনের নম্বর বসিয়ে সই করেন। এর ফলে কেউ মনোনয়ন না পেলে বা মনোনয়ন পেলেও জোট ও মহাজোটের প্রার্থীদের আসনটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য দল থেকে নির্দেশ দিলে তাকে তাই করতে হবে।

সূত্র জানায়, বিদ্রোহী প্রার্থী না হতে দল থেকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও হুশিয়ার করে বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী হলে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার। গত বুধবার গণভবনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে তিনি সাফ জানিয়ে দেন এ বার্তা। এ সময় নৌকা মার্কাপ্রত্যাশী নেতারাও প্রতিশ্রুতি দেন, দলীয় প্রধানের নির্দেশনার বাইরে যাবেন না তারা।

সূত্র মতে, অধিকাংশ আসনে দলের চূড়ান্ত প্রার্থী বেশ আগেই বাছাই হয়ে আছে। দলের সভাপতি প্রার্থীদের জনপ্রিয়তার ওপর ১২টি জরিপ করান। এসব জরিপের ভিত্তিতে যেসব ব্যক্তি বেশি জনপ্রিয়, তাদের মনোনয়নের কথাই তিনি বিবেচনা করছেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলীয় প্রধানের করা একাধিক জরিপ প্রতিবেদন মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।’

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads