• সোমবার, ১৮ মার্চ ২০১৯, ৪ চৈত্র ১৪২৪
ads
ডাকসু নির্বাচনকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ছাত্রদল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)

সংরক্ষিত ছবি

রাজনীতি

ডাকসু নির্বাচনকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ছাত্রদল

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল বৃহস্পতিবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে যান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বেলা সাড়ে ১১টায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির নেতাকর্মীরা মধুর ক্যান্টিনে প্রবেশ করেন। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন স্তরের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী।

এ দিন মধুর ক্যান্টিনে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নসহ কয়েকটি বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আগের দিনের মতো মধুর ক্যান্টিনের উত্তর পাশের টেবিলে বসেন তারা। দক্ষিণ পাশে ছাত্রলীগ ও পশ্চিম পাশে বসেন বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে কোনো পক্ষই কোনো ধরনের স্লোগান এবং অন্য কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়নি। এ সময় তারা নীরবেই চা পান করেন।

দুপুরে ডাকসু নিয়ে সংগঠনের অবস্থান তুলে ধরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান। তিনি বলেন, আমরা দ্বিতীয় দিনের মতো আজকে ক্যাম্পাসে এসেছি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছিলাম ক্যাম্পাসে একটি কার্যকরী সহাবস্থান নিশ্চিত হোক। প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করছে। অপরাপর ছাত্র সংগঠনগুলোর সৌজন্যতাকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি। ডাকসু নির্বাচনকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি। আমরা কিছু দাবি জানিয়েছিলাম উপাচার্যের কাছে। উপাচার্য আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে অপরাপর অনেক ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আমাদের দাবিগুলোর মিল আছে।

 স্থায়ী সহাবস্থানের বিষয়ে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, আজকের যে সহাবস্থানের বিষয়টা দুদিন ধরে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, এটি শুধু ক্যাম্পাসে সহাবস্থান। হলগুলোয় এখনো সেই সহাবস্থানের পরিবেশ নেই। আমরা ইতিবাচকভাবে এগোতে চাই। এ সহাবস্থান স্থিতিশীল হোক আমরা সেটা চাই সবার সহযোগিতা নিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থায়ী সহাবস্থান হবে এবং ছাত্র রাজনীতির নতুন যুগের সূচনা হবে এটি আমরা প্রত্যাশা করি। সঙ্গে সঙ্গে শুধু ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহাবস্থান, এটিকে আমরা বিশ্বাস করি না।

সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেন, ছাত্রদলের কমিটিতে কোনো শিবির নেই এবং প্রতিটি কর্মীকে যাচাই-বাছাই করে আমরা কমিটিতে নিয়েছি। তারপরও কারো বিরুদ্ধে যদি কোনো স্পেসিফিক অভিযোগ থাকে আমরা তা খতিয়ে দেখব। আমরা সুস্পষ্টভাবে দাবি করতে চাই, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রত্যকটা নেতাকর্মীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কমিটিতে নেওয়া হয়।

দীর্ঘ নয় বছর পর গত বুধবার মধুর ক্যান্টিনে প্রবেশ করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলো এ সময় তাদের স্বাগত জানায়। ডাকসু নির্বাচনের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও তাদের অবস্থান জানাতে এদিন মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদল। সর্বশেষ ২০১০ সালের ২১ জুন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মধুর ক্যান্টিনে এসেছিলেন।

এ ছাড়া গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রায় নয় বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল করে ছাত্রদল। ওই দিন সকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। ভিসি বরাবর স্মারকলিপি দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে তারা মিছিল বের করেন।

আগামী ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার শেষ সময় ২ মার্চ। যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ৩ মার্চ। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৫ মার্চ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads