• সোমবার, ১৮ মার্চ ২০১৯, ৪ চৈত্র ১৪২৪
ads
ট্রাইব্যুনালের মামলায় বিজয় দেখছে ঐক্যফ্রন্ট

ট্রাইব্যুনালের মামলায় বিজয় দেখছে ঐক্যফ্রন্ট

সংগৃহীত ছবি

রাজনীতি

ট্রাইব্যুনালের মামলায় বিজয় দেখছে ঐক্যফ্রন্ট

  • আফজাল বারী
  • প্রকাশিত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আইনি লড়াইয়ে ঐক্যফ্রন্ট। উচ্চ আদালত গঠিত ট্রাইব্যুনালে ইতোমধ্যে করেছে ৭৪ মামলা। অভিযোগ- ৩০ ডিসেম্বর সঠিক নির্বাচন হয়নি। ফল প্রত্যাখ্যান করেছে ভোটের পরদিনই। মামলায় রায় কী হবে তা পরের বিষয়। তবে রায় ‘হ্যাঁ বা না’ সূচক যা-ই আসুক, তাতে বিজয় দেখছেন ফ্রন্টের শীর্ষ ও সিনিয়র নেতারা।

তাদের আইনজীবীদের বদ্ধমূল ধারণা- মামলার তথ্য-উপাত্ত ও বাস্তবতার আলোকে স্বাধীনভাবে বিচারকাজ সম্পন্ন হতে পারলে রায় আইনিভাবেই অনুকূলে আসবে। আর ‘না’ সূচক রায় এলে ভোটবঞ্চিত সাধারণ মানুষ বর্তমান বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাবে। ভোটবঞ্চিত মানুষ তখন ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগকে সমর্থন দেবে। তাহলেও রাজনৈতিক বিজয় পাবে তারা।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ৬টি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। এসব ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার পর প্রথমে বিবাদীদের প্রতি সমন জারি হবে। এক থেকে দেড় মাস সময় দেওয়া হতে পারে। এরপর বিবাদী পক্ষ সমনের জবাব দাখিল করবে। মোট ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করার বিধান রয়েছে। গত ১ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন হাইকোর্টের ৬টি একক বেঞ্চকে নির্বাচনী আবেদন নিষ্পত্তির এখতিয়ার দেন।

নির্বাচনী আবেদন নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার, বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান, বিচারপতি একেএম জহিরুল হক, বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান, বিচারপতি মাহমুদুল হক ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের একক বেঞ্চকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এবং প্রার্থীর বিজয় চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা। আসনভিত্তিক প্রার্থীরাই বাদী হয়ে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ৭৪ জন প্রার্থী মামলা দায়ের করেছেন। এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি দেশের ৬৪ জেলা থেকে ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব জেলার প্রতিনিধিকে হাইকোর্টে মামলা করার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়।

মামলা পরিচালনার জন্য ঐক্যফ্রন্টের তরফ থেকে আইনজীবীদের একটি প্যানেলও গঠন করা হয়েছে। তাতে রয়েছেন- ব্যারিস্টার আমিনুল হক, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী, মীর নাসির উদ্দিন, ফজলুর রহমান, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস এবং ব্যারিস্টার রাজিব প্রধান।

এদিকে আওয়ামী লীগ মনে করে, নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে যেকোনো রাজনৈতিক দলের বা স্বতন্ত্র কোনো প্রার্থীও মামলা দায়ের করতে পারেন। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব কোনো দলের নয়। এসব মামলা দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কিছু করার নেই। তাছাড়া দেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন। বিএনপি নির্বাচনে অনিয়মের যে অভিযোগ করছে, সেগুলো তদন্ত করে দেখতে পারে। বিচার বিভাগীয় যে তদন্ত দাবি করেছে ঐক্যফ্রন্ট, বিচার বিভাগ চাইলে তদন্ত করতে পারে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারেরও কোনো মাথাব্যথা নেই। ঐক্যফ্রন্টের দায়ের করা সব মামলাকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে উচ্চ আদালতে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের মামলার বিষয়ে সরকারি দল বিব্রত নয়।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বাংলাদেশের খবরকে বলেন, যেসব মামলা হয়েছে তাতে আদালত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে সঠিক বলার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। বরং আমরা যে তথ্য-উপাত্ত দাখিল করেছি তাতে রায় আসতে পারে ৩০ ডিসেম্বর কোনো ভোটই হয়নি। মানুষ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি।

আরেক আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আমরা সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে গঠিত ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছি। এই মামলায় আদালতকে একটি রায় দিতেই হবে। যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে মর্মে রায় দেয় তাহলে দেশের ভোটাররা অবশ্যই বুঝতে পারবে আদালত ন্যায়বিচার করেছেন কি-না। আর ভোট হয়নি বলে রায় দিলে সরকার অবৈধ বলে আখ্যায়িত হবে। মামলায় নির্বাচন কমিশন বিবাদী, শুনানি হবে, সাক্ষী আসবে, মুড়িবই চাইব। এই আইনজীবীর মতে, রায় যা-ই হোক তার সুফল পাবে ঐক্যফ্রন্ট।

গণফোরামের কার্যকরি সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর ব্যাখ্যা অন্যরকম। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে মামলা করে অন্তত বছর পাঁচের আগে রায় পেয়েছে নজির কম। তবে কালের আবর্তে যদি বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন হয় তাহলে এই মামলা ঘিরে এমন রায়ও আসতে পারে পুরো মন্ত্রিপরিষদকে অবৈধ ঘোষণা করার মতো উপাদান রয়েছে। তবে আপাতদৃষ্টিতে সে অবস্থা দেখছেন না তিনি। 

মামলাকারীদের একজন সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বাংলাদেশের খবরকে বলেন, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এবার বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা দিতে চাই। মানুষ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি, মৃত মানুষের নামে ভোট দেওয়া হয়েছে, মোট ভোটারের চেয়ে কাস্ট হয়েছে বেশি, সর্বোপরি ভোটার তো জানেন ভোট হয়েছে কি-না। আদালত ‘হ্যাঁ’ বললে সাধারণ মানুষ বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাবেন, আর ‘না’ বললেও ধারণা পাবেন। মামলা করে বিএনপি একটা সুফল পাবেই বলে ধারণা জহির উদ্দিন স্বপনের।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads