• রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫
ads
জনস্বার্থ ইস্যুতে মাঠে নামবে বিএনপি

লোগাে বিএনপি

রাজনীতি

জনস্বার্থ ইস্যুতে মাঠে নামবে বিএনপি

  • আফজাল বারী
  • প্রকাশিত ২৪ এপ্রিল ২০১৯

চলতি জাতীয় সংসদে যাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়েছে বিএনপি। দলীয় স্বার্থের বাইরে এসে এবার জাতীয় ও জনস্বার্থ ইস্যু নিয়ে মাঠ গরম করতে চায়। হতে চায় রাজপথমুখী। এজন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

দলীয় সূত্রের খবর, সামনে পবিত্র রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি, গ্যাস-বিদ্যুৎ, পানি সঙ্কট, নারী-শিশু নির্যাতন, অপহরণসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সোচ্চার হবে দলটি। একই সঙ্গে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিও জানাবে সভা-সমাবেশ থেকে। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শিগগিরই কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এদিকে বিএনপির ভাষায় ‘অবৈধ’ সরকারের বৈধতা দিতে আর জাতীয় সংসদমুখী হতে চায় না দলটি। এজন্য তাদের দলীয় ছয় নির্বাচিতকে শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্তও জানিয়ে দিয়েছে। নির্বাচিতদের কেউ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেয় স্থায়ী কমিটি।

গত সোমবার দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে স্থায়ী কমিটির সভা থেকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও স্কাইপের মাধ্যমে সভায় অংশ নেন।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বগুড়া-৬), যুগ্ম মহাসচিব হারুন অর রশিদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন (বগুড়া-৪), মো. জাহিদুর রহমান (ঠাকুরগাঁও-৩),  আমিনুল ইসলাম (চাঁপাইনবারগঞ্জ-২) ও উকিল আব্দুস সাত্তার (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২) থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে কয়েক দিন আগে থেকেই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিভিন্ন সভায় জানাচ্ছেন, বিএনপি সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথে আন্দোলনে নামবে। একই তথ্য জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দলের তৃণমূল পর্যায় থেকেও কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে চাপ বেড়েছে। সম্প্রতি আলোচনা সভায় তৃণমূল নেতারা কেন্দ্রীয় কমিটিকে আশ্বস্ত করেছেন কেন্দ্রীয় নির্দেশ শতভাগ পালন করবে। তবে একই সঙ্গে হুশিয়ারিও দিয়েছেন। ছাত্রদলের এক নেতা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে না নামলে ওই নেতাকে জুতার মালা পরানো হবে। কারণ দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া কারাগারে নিজের জীবন বাজি রেখে সরকারের সঙ্গে লড়াই করছেন। এই সময়ে কোনো নেতা হাত গুটিয়ে বসে থাকলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। একই ধরনের হুশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, ম্যাডাম (খালেদা) জেলে থাকবেন, আর নেতারা বাসার এসিতে থাকবে, তা হবে না। ওই নেতাকে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ক্ষমা করবে না।  

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য আলাপকালে বাংলাদেশের খবরকে বলেন, সম্প্রতি দেশে নারী নির্যাতন ও খুন বেড়েছে। দিন দিন পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। পানি নিয়ে হাহাকার চলছে। গ্যাসের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধির পরও ফের বাড়ানো সিদ্ধান্তে যাচ্ছে সরকার। চাল-ডাল, তেল-লবণ থেকে শুরু করে সব নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন। এসবের প্রতিবাদে সারা দেশে কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। শিগগিরই নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

প্রায় ১৩ বছর ধরে রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে বিএনপি। এর মধ্যে তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে। বিএনপি ও তার মিত্রদের নিয়ে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, বর্জনও করেছে। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন তো দূরের কথা বিরোধী দলের আসনেও বসতে পারেনি। অবশ্য নির্বাচন প্রত্যাখ্যান ও প্রশ্নবিদ্ধ আখ্যায়িত করেছে তারা। ইতোমধ্যে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে গ্রামপর্যায়ের লাখো নেতার কেউ কেউ একাধিক থেকে দুই শতাধিক মামলার জালে আটকা পড়েন। কারাবাসে কাটে মাসের পর মাস। দলীয় প্রধান খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি ছাড়তে হয়। বাড়ি হাতছাড়া হয় নীতিনির্ধারক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদেরও। মামলার খড়গ ঝুলছে শীর্ষ ও সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে। লেনদেনের হিসাব জব্ধ থেকে দুদকের নোটিশে হাঁপিয়ে উঠেছে কেউ কেউ। 

এত দিন মূলত দলটি রাজপথে ব্যস্ত থাকে নিজ দলীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে পুলিশ নিয়ন্ত্রিত সভা-সমাবেশে। আইনি লড়াইয়ে আদালতে এবং প্রতিবাদ জানাতে দলীয় ইস্যুতে ব্যস্ত থাকার কারণে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়ে সোচ্চার হওয়ার মতো সুযোগই মেলেনি তাদের। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে। অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন হাসপাতালে। কিন্তু মুক্তির জন্য কার্যকর কোনো আন্দোলনই গড়ে তুলতে পারেনি তার দল বিএনপি। কারণ বিএনপি এবং তার মিত্ররা সাধারণ মানুষের সহানুভূতিও টানতে পারেনি।

দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে নিজেদের ব্যর্থতা-সফলতার হিসাব-নিকাশ করেই রাজপথকে বেছে নিচ্ছে বিএনপি। তাদের সঙ্গে নিতে চায় মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোকেও। এ নিয়ে মিত্রদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠকও হচ্ছে। আরো হবে বলেও জানা গেছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads